নিজস্ব প্রতিবেদক
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে শুরু হওয়া তিন দিনব্যাপী ‘সিলেক্টইউএসএ ইনভেস্টমেন্ট সামিট’-এ অংশগ্রহণ করছে বাংলাদেশের ২৫ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল। ৩ মে থেকে শুরু হওয়া এই সম্মেলনে প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন। সোমবার (৪ মে) ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
মার্কিন দূতাবাস জানায়, এবারের সম্মেলনে বাংলাদেশের জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষিব্যবসা, প্রকৌশল এবং ব্যবসায়িক সেবা খাতের শীর্ষস্থানীয় উদ্যোক্তা ও প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন। ২০২৬ সালের এই বৈশ্বিক বিনিয়োগ সম্মেলনটির আয়োজন করছেন যুক্তরাষ্ট্রের সেক্রেটারি অব কমার্স হাওয়ার্ড লাটনিক। মূলত প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগ (এফডিআই) উৎসাহিত করার লক্ষ্যে এটি বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় আয়োজন হিসেবে স্বীকৃত। এখানে আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোর সাথে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের অর্থনৈতিক উন্নয়ন সংস্থাগুলোর সরাসরি সংযোগ স্থাপনের সুযোগ তৈরি হয়, যা নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
এবারের ‘সিলেক্টইউএসএ ইনভেস্টমেন্ট সামিট’ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ঐতিহাসিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে তার ২৫০তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন করছে। এই বিশেষ প্রেক্ষাপটে আয়োজিত সম্মেলনে তুলে ধরা হচ্ছে যে, কীভাবে বিদেশি বিনিয়োগ দেশটির উদ্ভাবন এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিকতা রক্ষায় অবদান রাখছে। মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে বাংলাদেশি বিনিয়োগকারীরা যুক্তরাষ্ট্রে তাদের ব্যবসার প্রসারের সম্ভাবনা যাচাই করতে পারবেন এবং মার্কিন বাজার সম্পর্কে সরাসরি অভিজ্ঞতা অর্জন করবেন।
কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের এই অংশগ্রহণ দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও সুসংহত করবে। বিশেষ করে জ্বালানি ও প্রযুক্তির মতো উদীয়মান খাতে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান সক্ষমতা আন্তর্জাতিক বাজারে তুলে ধরার এটি একটি বড় সুযোগ। এই সম্মেলনের মাধ্যমে বাংলাদেশি উদ্যোক্তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঞ্চলে বিনিয়োগের পরিবেশ, আইনি প্রক্রিয়া এবং প্রণোদনা সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা পাবেন, যা ভবিষ্যতে দুই দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
উল্লেখ্য, প্রতি বছর আয়োজিত এই সামিটের মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের হাজার হাজার বিনিয়োগকারী ওয়াশিংটনে একত্রিত হন। গত কয়েক বছরে এই সম্মেলনের মাধ্যমে বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ প্রস্তাব চূড়ান্ত হয়েছে। বাংলাদেশের এই প্রতিনিধিদল সম্মেলনে অংশগ্রহণ শেষে আগামী ৬ মে পর্যন্ত বিভিন্ন কর্মশালা ও নেটওয়ার্কিং সেশনে অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই সফরের ফলে মার্কিন বাজারে বাংলাদেশের বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ আরও দৃশ্যমান হবে এবং দীর্ঘমেয়াদে তা দেশের অর্থনীতিতে বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।