1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
সোমবার, ০৪ মে ২০২৬, ০৫:৩৯ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
জনগণের সেবক হিসেবে মাঠ প্রশাসনকে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের নির্দেশ রাষ্ট্রপতির জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটিতে দেশের জ্বালানি পরিস্থিতি পর্যালোচনা ও সুপারিশ পেশ যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যচুক্তি সই: প্রভাব ও বাধ্যবাধকতা বিশ্লেষণ পর্যটন খাতের আধুনিকায়ন ও দেশি-বিদেশি পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে জেলা প্রশাসকদের বিশেষ নির্দেশনা কুষ্টিয়ায় হামের প্রাদুর্ভাব আরও প্রকট: চার মাসে ৯ শিশুর প্রাণহানি নিউ মেক্সিকোর মামলায় বড় আইনি জটিলতায় মেটা: কার্যক্রম বন্ধের আশঙ্কা যুক্তরাষ্ট্রে নিহত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ন্যায়বিচারে সর্বোচ্চ কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ওয়াশিংটনে ‘সিলেক্টইউএসএ ইনভেস্টমেন্ট সামিট’ শুরু, ২৫ সদস্যের বাংলাদেশি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ভারী বর্ষণে বিপৎসীমার ওপরে সাত নদীর পানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে বিদায়ী ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মার সাক্ষাৎ

যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যচুক্তি সই: প্রভাব ও বাধ্যবাধকতা বিশ্লেষণ

রিপোর্টার
  • আপডেট : সোমবার, ৪ মে, ২০২৬
  • ১ বার দেখা হয়েছে

বিশেষ প্রতিবেদক

ঢাকা — বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সহজীকরণ ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘অ্যাগ্রিমেন্ট অন রিসিপ্রোক্যাল ট্রেড’ (এআরটি) শীর্ষক একটি বহুমাত্রিক বাণিজ্যচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। গত ৯ ফেব্রুয়ারি স্বাক্ষরিত ৩২ পৃষ্ঠার এই চুক্তিতে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক, মেধাস্বত্ব সুরক্ষা, ডিজিটাল বাণিজ্য এবং শ্রম অধিকারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিস্তারিত রূপরেখা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে চুক্তির শর্তাবলী বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মার্কিন পণ্যের বাজার সুবিধা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের ওপর তুলনামূলক অধিক বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে।

চুক্তি অনুযায়ী, বাংলাদেশে মার্কিন কৃষিপণ্য, বিশেষ করে দুগ্ধজাত ও মাংসজাত পণ্যের প্রবেশাধিকার সহজ করতে হবে। আমদানির ক্ষেত্রে শুল্কবহির্ভূত বাধা যেমন—অতিরিক্ত লাইসেন্সিং, মান যাচাই বা জটিল আমলাতান্ত্রিক প্রক্রিয়া পরিহার করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বাংলাদেশ। বিশেষ করে মার্কিন খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ) অনুমোদিত চিকিৎসা সরঞ্জাম ও ওষুধকে সরাসরি বাজারজাতকরণের সুযোগ দিতে সম্মত হয়েছে ঢাকা। এছাড়া কৃষিজাত বায়োটেকনোলজি পণ্যের ক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক ঝুঁকি মূল্যায়ন সাপেক্ষে আমদানি প্রক্রিয়া সহজ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

মেধাস্বত্ব অধিকার রক্ষায় বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণের অঙ্গীকার করেছে। এর আওতায় বার্ন কনভেনশন ও প্যারিস কনভেনশনসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চুক্তি বাস্তবায়নের পাশাপাশি কপিরাইট ও ট্রেডমার্ক লঙ্ঘন রোধে দেওয়ানি ও ফৌজদারি ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে। ডিজিটাল বাণিজ্যের ক্ষেত্রে মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর বৈষম্যমূলক কর আরোপ না করা এবং আন্তঃসীমান্ত ডেটা প্রবাহ নিশ্চিত করার বিষয়টি চুক্তিতে গুরুত্ব পেয়েছে। এছাড়া সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিতে দুই দেশ যৌথভাবে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

চুক্তির একটি উল্লেখযোগ্য অংশ জুড়ে রয়েছে বাংলাদেশের শ্রম আইনের সংস্কার। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) মানদণ্ড অনুযায়ী শ্রমিকদের সংগঠন করার স্বাধীনতা, ট্রেড ইউনিয়ন নিবন্ধনের শর্ত শিথিলকরণ এবং ধর্মঘটের অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশেষ করে রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল বা ইপিজেডগুলোতে আগামী দুই বছরের মধ্যে প্রচলিত শ্রম আইন কার্যকর করার মাধ্যমে শ্রমিকদের পূর্ণ অধিকার প্রদানের বিষয়ে ঢাকা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছে।

অর্থনৈতিক ও জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে কৌশলগত সহযোগিতা বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে চুক্তিতে। জাতীয় নিরাপত্তার জন্য সংবেদনশীল প্রযুক্তি ও পণ্যের বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সমন্বয় করবে। এছাড়া শুল্ক ফাঁকি রোধ এবং তৃতীয় কোনো দেশের মাধ্যমে অন্যায্য বাণিজ্যিক সুবিধা গ্রহণ ঠেকাতেও দুই দেশ তথ্য বিনিময় করবে। বিনিয়োগের ক্ষেত্রে জ্বালানি, টেলিযোগাযোগ ও অবকাঠামো খাতে মার্কিন বিনিয়োগ সহজতর করার পাশাপাশি বিদেশি মালিকানার সীমা শিথিল করার বিষয়টিও চুক্তির অন্তর্ভুক্ত।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের নির্দিষ্ট কিছু তৈরি পোশাক ও বস্ত্র পণ্যের ক্ষেত্রে কোটাভিত্তিক শুল্কমুক্ত বা স্বল্প শুল্কের সুবিধা প্রদানের আশ্বাস দিয়েছে। তবে এই সুবিধা মূলত বাংলাদেশ থেকে মার্কিন তুলা ও কৃত্রিম তন্তু আমদানির হারের ওপর নির্ভর করবে। বিশ্লেষকদের মতে, চুক্তির ১৬৯টি স্থানে বাধ্যতামূলক ‘শ্যাল’ (Shall) শব্দের প্রয়োগ এবং বাংলাদেশের জন্য নির্ধারিত ১৩১টি শর্ত দীর্ঘমেয়াদে দেশীয় শিল্প ও নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ায় গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে পারমাণবিক জ্বালানি ক্রয় এবং অ-বাজার অর্থনীতির দেশের সাথে বাণিজ্যিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়ার বিষয়টি নতুন ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি করতে পারে।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026