আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ভারতের দক্ষিণি সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেতা থালাপতি বিজয় অভিনীত রূপালি পর্দার ক্যারিয়ার ছাপিয়ে এবার রাজনীতির ময়দানেও বড় ধরনের চমক সৃষ্টি করেছেন। তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গণনা চলাকালীন প্রাথমিক ফলাফলে বিজয়ের নবগঠিত রাজনৈতিক দল তামিলাগা ভেত্রি কাজাগাম (টিভিকে) নিরঙ্কুশ অগ্রগতির পথে রয়েছে। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বিধানসভার মোট আসনের মধ্যে বিজয় ও তাঁর প্রার্থীরা ১০৮টি আসনে এগিয়ে রয়েছেন, যা সরকার গঠনের দৌড়ে তাঁদের শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে এসেছে।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে পাওয়া প্রাথমিক ট্রেন্ড অনুযায়ী, বহু বছর ধরে তামিলনাড়ু রাজনীতিতে আধিপত্য বিস্তার করা ডিএমকে এবং এআইএডিএমকে-র মতো প্রতিষ্ঠিত দলগুলোর জন্য টিভিকে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একজন জনপ্রিয় অভিনেতা হিসেবে বিজয়ের ব্যক্তি ইমেজ এবং তাঁর দলের সুসংগঠিত প্রচার কৌশল ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। বিশেষ করে তরুণ সমাজ এবং পরিবর্তনের প্রত্যাশায় থাকা সাধারণ ভোটাররা বিজয়ের ওপর আস্থা রেখেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রথমবার নির্বাচনে অংশ নিয়েই শতাধিক আসনে এগিয়ে থাকা ভারতীয় রাজনীতির ইতিহাসে অত্যন্ত বিরল এবং তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ভোট গণনার এই ইতিবাচক ধারা বজায় থাকলে তামিলনাড়ুর পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বিজয়ের শপথ গ্রহণের সম্ভাবনা জোরালো হচ্ছে। শুরু থেকেই বিজয় সরকার গঠনের ব্যাপারে উচ্চাশা ব্যক্ত করেছিলেন। তাঁর দল নির্বাচনের ইশতেহারে দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন এবং জনকল্যাণমূলক সমাজ গঠনের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, সাধারণ মানুষের রায়ে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। যদি চূড়ান্ত ফলাফলে এই ১০৮ বা তার অধিক আসন নিশ্চিত হয়, তবে বিজয় তামিল রাজনীতির প্রথাগত দ্বিমেরু কেন্দ্রিক ধারায় আমূল পরিবর্তন ঘটাতে সক্ষম হবেন।
এদিকে ভোটের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের আগে এবং জয়ের পর দলীয় সম্ভাব্য কোন্দল বা রাজনৈতিক অন্তর্ঘাত এড়াতে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন থালাপতি বিজয়। দলীয় প্রার্থীদের জয়ের পর যেন অন্য কোনো রাজনৈতিক শিবির তাঁদের প্রলোভিত করতে না পারে, সেজন্য আগাম সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে। দলীয় নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, সম্ভাব্য জয়ী প্রার্থীদের নির্দিষ্ট এবং নিরাপদ স্থানে সমবেত হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিজয় স্পষ্ট করেছেন যে, যেকোনো মূল্যে দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে এবং বিজয় উদযাপনের সময় যেন সাধারণ মানুষের কোনো ভোগান্তি না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
উল্লেখ্য যে, আজ ভারতের জনপ্রিয় অভিনেত্রী তৃষা কৃষ্ণানের জন্মদিন। তাঁর ব্যক্তিগত বিশেষ এই দিনে তিনি অন্ধ্রপ্রদেশের তিরুমালা তিরুপতি দেবস্থানম মন্দিরে পূজা দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং বিভিন্ন মাধ্যমে তাঁর মন্দির পরিদর্শনের দৃশ্য উঠে এসেছে। যদিও এটি তাঁর ব্যক্তিগত সফরের অংশ, তবে থালাপতি বিজয়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত এই অভিনেত্রীর মন্দির সফর নিয়ে রাজনৈতিক ও ভক্ত মহলে নানা গুঞ্জন রয়েছে। অনেকে বিষয়টিকে বিজয়ের রাজনৈতিক সাফল্যের জন্য প্রার্থনা হিসেবে দেখলেও, রাজনৈতিকভাবে এর কোনো আনুষ্ঠানিক সংশ্লিষ্টতা নেই।
বিশ্লেষকদের মতে, তামিলনাড়ুর রাজনীতি বরাবরই চলচ্চিত্র তারকাদের সাদরে গ্রহণ করেছে। এমজিআর কিংবা জয়ললিতার মতো কিংবদন্তিরা রূপালি পর্দা থেকে এসে দীর্ঘ সময় শাসন করেছেন। থালাপতি বিজয়ও সেই পথ অনুসরণ করে প্রথম পদক্ষেপেই যে রাজনৈতিক দূরদর্শিতার পরিচয় দিয়েছেন, তা ভারতের জাতীয় রাজনীতিতেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষিত হওয়ার পর তামিলনাড়ুর শাসন ক্ষমতায় বড় ধরনের পালাবদলের সম্ভাবনা এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। দক্ষিণ ভারতের এই গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যের ক্ষমতা শেষ পর্যন্ত কার হাতে যাচ্ছে, তা নিয়ে এখন পুরো ভারতজুড়ে গভীর কৌতূহল বিরাজ করছে।