নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) আওতাধীন এলাকার পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের পেশাগত স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে কর্তৃপক্ষ। আসন্ন বর্ষা মৌসুমে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় নিরবচ্ছিন্ন সেবা বজায় রাখার লক্ষ্যে প্রায় আড়াই হাজার পরিচ্ছন্নতাকর্মীর মাঝে রেইনকোটসহ বিভিন্ন ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রী (পিপিই) বিতরণ করা হয়েছে।
সোমবার (৪ মে) সকালে রাজধানীর গুলশানে অবস্থিত ডিএনসিসি নগর ভবনের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব সামগ্রী আনুষ্ঠানিকভাবে কর্মীদের হাতে তুলে দেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে অসময়ে অতিবৃষ্টি ও আসন্ন বর্ষার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে এই কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে বলে সংস্থাটি জানিয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডিএনসিসি প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান নগর পরিচ্ছন্নতায় মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের অপরিহার্য ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, একটি সুস্থ ও বাসযোগ্য নগরী গড়তে পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা প্রতিকূল পরিবেশেও নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে ভারী বৃষ্টিপাত ও জলাবদ্ধতা নিরসনে তাদের সক্রিয় উপস্থিতি অত্যন্ত জরুরি। কর্মীরা যেন বৃষ্টির কারণে অসুস্থ হয়ে না পড়েন এবং নিরাপত্তা বজায় রেখে দায়িত্ব পালন করতে পারেন, সেটি নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব।
প্রশাসক আরও জানান, ডিএনসিসি কর্তৃপক্ষ পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জীবনমান উন্নয়ন ও তাদের পেশাগত মর্যাদাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। যারা কঠোর শ্রমের মাধ্যমে শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখছেন, তাদের জন্য ভবিষ্যতে আরও উন্নত সুযোগ-সুবিধা এবং বিশেষ সম্মাননা প্রদানের পরিকল্পনা রয়েছে। এই সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং কর্মীদের মনোবল বৃদ্ধি এবং নগর সেবার মান বজায় রাখার একটি নিরন্তর প্রচেষ্টার অংশ।
সংশ্লিষ্ট বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা উত্তর সিটির দশটি অঞ্চলের বিভিন্ন ওয়ার্ডে নিয়োজিত পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের পর্যায়ক্রমে এই সুরক্ষা সামগ্রীর আওতায় আনা হচ্ছে। বিতরণকৃত সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে উন্নত মানের রেইনকোট, গামবুট, হ্যান্ড গ্লাভস এবং মাস্ক। বিশেষ করে ড্রেন পরিষ্কার এবং বর্জ্য অপসারণের সময় কর্মীরা যাতে কোনো প্রকার স্বাস্থ্যঝুঁকিতে না পড়েন, সে বিষয়েও প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে।
নগর বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের এই উদ্যোগটি সময়োপযোগী। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে ড্রেনেজ ব্যবস্থা সচল রাখা এবং দ্রুত বর্জ্য অপসারণ করা ঢাকার মতো জনবহুল শহরের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। বৃষ্টি উপেক্ষা করে কর্মীরা যখন মাঠে কাজ করেন, তখন যথাযথ সুরক্ষা সরঞ্জামের অভাবে অনেকে চর্মরোগসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হন। আধুনিক সুরক্ষা সামগ্রী ব্যবহারের ফলে কর্মীদের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি কাজের গতিও বাড়বে।
অনুষ্ঠানে ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, সচিব, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন ওয়ার্ডের পরিচ্ছন্নতা পরিদর্শকগণ উপস্থিত ছিলেন। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ থেকে জানানো হয়, বর্ষা মৌসুমে নালা-নর্দমা পরিষ্কার রাখা এবং যত্রতত্র বর্জ্য না ফেলার বিষয়েও সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা হবে। মাঠ পর্যায়ের এই তদারকি এবং সুরক্ষা নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে আসন্ন বর্ষায় নগরবাসীর ভোগান্তি অনেকাংশে হ্রাস পাবে বলে আশা করছে ডিএনসিসি কর্তৃপক্ষ।