আইন আদালত ডেস্ক
রাজধানীর তেজগাঁও থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা একটি নাশকতার মামলায় সংরক্ষিত নারী আসনের সাবেক সংসদ সদস্য তামান্না নুসরাত বুবলীকে গ্রেপ্তার দেখানোর (শোন অ্যারেস্ট) আদেশ দিয়েছেন আদালত। ঝটিকা মিছিল ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় করা এই মামলায় তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত সোমবার এই সিদ্ধান্ত প্রদান করেন। তামান্না নুসরাত বুবলী নরসিংদী পৌরসভার প্রয়াত মেয়র লোকমান হোসেনের স্ত্রী।
সোমবার (৪ মে, ২০২৬) ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জোনাইদ এই আদেশ প্রদান করেন। ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে এবং আসামির উপস্থিতিতে শুনানি শেষে আদালত তাকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দিয়ে পুনরায় কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তেজগাঁও থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. শরিফুল ইসলাম গত ২৯ এপ্রিল তামান্না নুসরাত বুবলীকে এই নাশকতার মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর জন্য আদালতে আবেদন করেন। আবেদনের পর আদালত শুনানির জন্য আজকের দিন ধার্য করেছিলেন। সেই অনুযায়ী, এদিন সকালে বুবলীকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি শুনানিতে মামলার গুরুত্ব ও আসামির সম্পৃক্ততার বিষয়ে তথ্য তুলে ধরেন।
তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, মামলার প্রাথমিক তদন্তে এবং স্থানীয় লোকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে জানা গেছে, ওই নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে বুবলী সরাসরি যুক্ত ছিলেন। অভিযোগ করা হয়েছে যে, তিনি সংশ্লিষ্ট মিছিলে অর্থের জোগানদাতা এবং পরিকল্পনার অন্যতম নির্দেশদাতা হিসেবে ভূমিকা পালন করেছেন। গত বছরের ৭ সেপ্টেম্বর রাজধানীর তেজগাঁও এলাকায় নাশকতার উদ্দেশ্যে আয়োজিত ওই মিছিলে তাকে সক্রিয়ভাবে অবস্থান করতে দেখা গেছে এবং ঘটনার পরপরই তিনি এলাকা ত্যাগ করেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে। মামলার ঘটনার সঙ্গে তার জড়িত থাকার বিষয়ে পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়ার দাবি করেছে পুলিশ।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত বছরের ৭ সেপ্টেম্বর দুপুরে রাজধানীর তেজগাঁও থানাধীন মনিপুরীপাড়া এলাকার ‘পার্ক টাউন’ রেস্টুরেন্টের সামনে একটি ঝটিকা মিছিল বের করা হয়। মামলার এজাহার অনুযায়ী, রাজনৈতিক সংগঠনের নেতা-কর্মীরা ব্যানারসহ ওই মিছিল বের করে রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করা এবং জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির উদ্দেশ্যে পরপর দুটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। খবর পেয়ে দুপুর ১টা ৩৫ মিনিটের দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে অংশগ্রহণকারীরা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। সে সময় ঘটনাস্থল থেকে কয়েকজনকে আটক করা হয়। ওই দিনই তেজগাঁও থানার এসআই একেএম নিয়াজউদ্দিন মোল্লা বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।
উল্লেখ্য, তামান্না নুসরাত বুবলী গত বছরের ২৮ সেপ্টেম্বর রাতে রাজধানীর মিরপুর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এক বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার হন। পরদিন তাকে তেজগাঁও থানার অন্য একটি সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। সেই থেকে তিনি ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি রয়েছেন। নতুন এই মামলায় তাকে যুক্ত করার ফলে আইনি প্রক্রিয়ায় তার কারাবাসের মেয়াদ ও মামলার জটিলতা আরও বৃদ্ধি পেল। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুবলীর বিরুদ্ধে আরও কোনো নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে অধিকতর তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণ ও জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার মতো গুরুতর অভিযোগে এই মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন। সংশ্লিষ্ট মামলার পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা হবে বলে আদালত সূত্রে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।