বিনোদন ডেস্ক
জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা মৌসুমী অভিনীত ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’ নামক একটি প্রোডাকশনকে কেন্দ্র করে ঢালিউড পাড়ায় নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। নাটক হিসেবে ধারণকৃত একটি কাজকে চলচ্চিত্র হিসেবে সেন্সর করিয়ে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির প্রক্রিয়া শুরু করায় তীব্র আপত্তি ও ক্ষোভ জানিয়েছেন মৌসুমী এবং তার স্বামী চিত্রনায়ক ওমর সানী। এই ঘটনায় শিল্পীর পেশাদারিত্ব এবং আইনি অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে চলচ্চিত্রটির মুক্তি বন্ধের দাবি জানিয়েছেন তারা।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক ভিডিও বার্তার মাধ্যমে ওমর সানী ও মৌসুমী তাদের আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানান। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বেশ কয়েক বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে একটি নাটকের শুটিংয়ে অংশ নিয়েছিলেন মৌসুমী। হাসান জাহাঙ্গীর পরিচালিত এই কাজটি পরবর্তী সময়ে টেলিফিল্ম হিসেবে রূপান্তরের কথা থাকলেও, বর্তমানে তা পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র হিসেবে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ড থেকে ছাড়পত্র লাভ করেছে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পরেই শিল্পী মহলে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে।
ভিডিও বার্তায় ওমর সানী বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে ধারণকৃত এই কাজটি মূলত একটি খণ্ড নাটক ছিল। নির্মাতার অনুরোধে এটিকে টেলিফিল্ম করার মৌখিক আলাপ হয়েছিল। কিন্তু এখন শুনছি এটিকে পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র হিসেবে হলে মুক্তি দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। একজন পেশাদার শিল্পীর কোনো প্রকার লিখিত চুক্তি বা সম্মতি ছাড়া নাটককে চলচ্চিত্রে রূপ দেওয়া আইনত ও নৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। এই ধরনের খামখেয়ালি আচরণ ইন্ডাস্ট্রির পরিবেশ নষ্ট করছে।
একই ভিডিওতে সংযুক্ত এক অডিও বার্তায় নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন চিত্রনায়িকা মৌসুমী। তিনি অভিযোগ করেন, এটি মাত্র এক ঘণ্টার একটি নাটকের গল্প ছিল। নির্মাতার বিশেষ অনুরোধে তিনি বাড়তি সময় দিয়ে কাজটির শুটিং সম্পন্ন করেছিলেন এবং এটি টেলিফিল্ম হিসেবে প্রচারের জন্য মৌখিক সম্মতি দিয়েছিলেন। তবে সিনেমা হিসেবে মুক্তি দেওয়ার জন্য একজন শিল্পীর যে ধরনের কারিগরি প্রস্তুতি প্রয়োজন, তার কিছুই সম্পন্ন হয়নি। বিশেষ করে সিনেমার জন্য প্রয়োজনীয় ডাবিং বা আনুষঙ্গিক কারিগরি কাজে তিনি অংশ নেননি। এমনকি সিনেমার শিল্পী হিসেবে যে পারিশ্রমিক পাওয়ার কথা, সেটিও তাকে পরিশোধ করা হয়নি।
মৌসুমী আরও জানান, পর্যাপ্ত ফুটেজ বা মানসম্মত চিত্রনাট্য ছাড়াই একটি স্বল্পদৈর্ঘ্যের কাজকে টেনেহিঁচড়ে পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমা বানানোর এই প্রচেষ্টা দর্শকদের সাথে প্রতারণার শামিল। এটি কেবল তার ক্যারিয়ারের জন্য ক্ষতিকর নয়, বরং পুরো চলচ্চিত্র শিল্পের জন্য একটি অশুভ সংকেত। একজন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেত্রীর কাজ নিয়ে এমন অপেশাদার আচরণ ইন্ডাস্ট্রির শৃঙ্খলাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বাংলাদেশে নাটক বা টেলিফিল্মকে বড় পর্দায় মুক্তি দেওয়ার ঘটনা এর আগেও ঘটেছে, তবে সংশ্লিষ্ট শিল্পীর লিখিত সম্মতি ও কারিগরি মান উন্নয়ন ছাড়া এমন পদক্ষেপ নেওয়া হলে তা মেধাস্বত্ব ও পেশাদারিত্বের চরম লঙ্ঘন। এই বিতর্কের ফলে ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’ সিনেমার ভাগ্য এখন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
উল্লেখ্য, হাসান জাহাঙ্গীর পরিচালিত এই প্রোডাকশনটির গল্পের মূল উপজীব্য হলো স্বামী রেখে এক নারীর বিদেশে পাড়ি জমানো এবং সেখানে দ্বিতীয় বিবাহ কেন্দ্রিক জটিলতা। তবে অভিনেতা ও অভিনেত্রী পক্ষ থেকে সরাসরি আপত্তি আসায় সাধারণ দর্শক ও চলচ্চিত্র বোদ্ধারা এখন সেন্সর বোর্ডের ছাড়পত্র প্রদানের প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন। এই বিষয়ে নির্মাতার পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বিশদ ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি বিবেচনায় মৌসুমী ও ওমর সানী আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিতও দিয়েছেন।