ক্রীড়া প্রতিবেদক
পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) নবম আসরের ফাইনালে হায়দরাবাদ কিংসম্যানকে ৫ উইকেটে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে পেশোয়ার জালমি। রোববার অনুষ্ঠিত এই হাইভোল্টেজ ম্যাচে বল হাতে দুর্দান্ত নৈপুণ্য প্রদর্শন করেছেন বাংলাদেশের উদীয়মান পেসার নাহিদ রানা। অ্যারন হার্ডির অলরাউন্ড পারফরম্যান্সের পাশাপাশি নাহিদ রানার নিয়ন্ত্রিত বোলিং দীর্ঘ ৯ বছর পর পেশোয়ারের শিরোপা খরা ঘোচাতে মুখ্য ভূমিকা পালন করেছে।
নির্ধারিত চার ওভার বল করে মাত্র ২২ রান দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ২ উইকেট শিকার করেন নাহিদ রানা। পুরো টুর্নামেন্ট জুড়েই তার বোলিং ইকোনমি রেট ছিল ঈর্ষণীয়। ফাইনালে তার প্রতিটি ডেলিভারি ব্যাটারদের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছিল, যা ম্যাচের গতিপথ নির্ধারণে সহায়ক হয়। ম্যাচ শেষে তার এমন পারফরম্যান্সে মুগ্ধ হয়ে ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিক জাভেদ আফ্রিদি তাকে জড়িয়ে ধরে অভিনন্দন জানান। টুর্নামেন্টে অসাধারণ বোলিংয়ের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ‘সুপার পাওয়ার অব দ্য ম্যাচ’ নির্বাচিত হন।
নাহিদের এই ফাইনালে খেলা নিয়ে শুরুতে অনিশ্চয়তা ছিল। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ খেলার জন্য চার ম্যাচ খেলেই তার দেশে ফেরার কথা ছিল। বিসিবি তাকে টি-টোয়েন্টি সিরিজে বিশ্রাম দিলেও পিএসএলে খেলার অনাপত্তি পত্র (এনওসি) দেয়নি। তবে পেশোয়ার জালমি ফাইনালে উত্তীর্ণ হওয়ার পর ফ্র্যাঞ্চাইজি কর্তৃপক্ষের বিশেষ অনুরোধে বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল তাকে ফাইনাল খেলার অনুমতি প্রদান করেন। এই সিদ্ধান্তের জন্য পেশোয়ারের কর্ণধার জাভেদ আফ্রিদি বিসিবি সভাপতির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
টুর্নামেন্টের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, নাহিদ রানা ৫ ম্যাচে ৫.৪৪ ইকোনমি রেটে মোট ৯টি উইকেট সংগ্রহ করেছেন। করাচির পিচে তার বলের গতি ১৫১ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছেছিল, যা আন্তর্জাতিক মানের ব্যাটারদের জন্যও মোকাবিলা করা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। তার এই ধারাবাহিকতা পেশোয়ার জালমির বোলিং বিভাগকে শক্তিশালী ভিত্তি প্রদান করেছে।
ম্যাচ শেষে ফাইনালের সেরা খেলোয়াড় অ্যারন হার্ডি নাহিদ রানার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, দীর্ঘ ভ্রমণ শেষে মাঠে ফিরেই এমন গতি ও নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা একজন পেসারের জন্য অত্যন্ত কৃতিত্বের। হার্ডি আরও জানান যে, দলের অধিনায়ক বাবর আজমের সঙ্গে নাহিদের নেটে যে বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়, তা তার আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সাহায্য করেছে। বিশ্বমানের বিভিন্ন লিগে নাহিদ রানার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ রয়েছে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে নাহিদ রানা জানান, গত আসরে দলে থাকলেও মাঠে নামার সুযোগ পাননি। তবে এবারের আসরে সুযোগ পেয়ে নিজের পরিকল্পনা অনুযায়ী বল করতে পেরে তিনি সন্তুষ্ট। দলের জয়ে অবদান রাখতে পারা এবং পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করাকেই তিনি বড় সাফল্য হিসেবে দেখছেন। সামনের সপ্তাহে টেস্ট ম্যাচকে সামনে রেখে এই আত্মবিশ্বাস তাকে জাতীয় দলের হয়ে ভালো করতে সহায়তা করবে বলে ক্রীড়া বিশ্লেষকরা মনে করছেন। পেশোয়ারের এই শিরোপা জয় এবং নাহিদ রানার ব্যক্তিগত সাফল্য বাংলাদেশের ক্রিকেট ভক্তদের মাঝে নতুন করে উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছে।