1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৫৪ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
ডিজিটাল লেনদেনে ক্রমবর্ধমান জালিয়াতি রোধে ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কঠোর পদক্ষেপের প্রস্তাব শেয়ারবাজারের অর্থ লুটপাটের বিচার ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার সংস্কার দাবি রুমিন ফারহানার রাজনৈতিক হয়রানিমূলক সাড়ে ২৩ হাজার মামলা প্রত্যাহার: সংসদে আইনমন্ত্রী বাংলাদেশ ও ডেনমার্কের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে একমত দুই দেশ প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়কে আঘাত করায় ১৩ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞায় আন্দ্রাদা মসজিদে হামলায় সাজাপ্রাপ্ত ব্রেন্টন ট্যারান্টের আপিল খারিজ করল নিউজিল্যান্ডের আদালত মানচিত্র বিতর্কে ক্ষমা চাইল নেপাল এয়ারলাইন্স সিদ্ধিরগঞ্জে দায়েরকৃত দুই মামলায় সাবেক মেয়র আইভীর জামিন বিআরটিএ ও ডিএমটিসিএলসহ গুরুত্বপূর্ণ চার সংস্থায় নতুন প্রধান নিয়োগ বাংলাদেশ ও ইইউর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার সঙ্গে এরিক কুর্জওয়েলের সাক্ষাৎ

মসজিদে হামলায় সাজাপ্রাপ্ত ব্রেন্টন ট্যারান্টের আপিল খারিজ করল নিউজিল্যান্ডের আদালত

রিপোর্টার
  • আপডেট : বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬
  • ০ বার দেখা হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের দুটি মসজিদে ভয়াবহ জঙ্গি হামলার ঘটনায় আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ব্রেন্টন ট্যারান্টের সাজা বাতিলের আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন দেশটির আপিল আদালত। ২০১৯ সালের ১৫ মার্চ আল নূর ও লিনউড মসজিদে সংঘটিত সেই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে ৫১ জন নিহত এবং আরও ৪০ জন আহত হয়েছিলেন। এই অপরাধের দায়ে সাজাপ্রাপ্ত আসামি নিজের দোষ স্বীকার করে নিলেও পরবর্তীতে কারাদণ্ড থেকে অব্যাহতির দাবি জানিয়ে আপিল করেছিলেন, যা আদালত সম্পূর্ণ ‘ভিত্তিহীন’ বলে নাকচ করে দিয়েছেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ৩৫ বছর বয়সী অস্ট্রেলীয় নাগরিক ব্রেন্টন ট্যারান্ট তার সাজার বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আবেদন জানান। আবেদনে তিনি দাবি করেন, কারাগারে থাকাকালীন প্রতিকূল পরিবেশ এবং মানসিক চাপের কারণে তিনি পূর্বে দোষ স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছিলেন। তার যুক্তি ছিল, সেই সময়ে তিনি একটি ‘অযৌক্তিক মানসিক অবস্থায়’ ছিলেন এবং পরিস্থিতির শিকার হয়ে নিজের অপরাধ মেনে নিয়েছিলেন। তবে প্রায় এক সপ্তাহব্যাপী দীর্ঘ শুনানি শেষে নিউজিল্যান্ডের আপিল আদালতের তিন সদস্যের বিচারক প্যানেল সর্বসম্মতভাবে এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেন।

আদালতের রায়ে উল্লেখ করা হয়, ট্যারান্টের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এবং অপরাধ সংক্রান্ত তথ্যগুলো বিতর্কের ঊর্ধ্বে। বিচারকরা তাদের পর্যবেক্ষণে বলেন, দোষ স্বীকার করার ক্ষেত্রে তাকে কোনো প্রকার জবরদস্তি বা অবৈধ চাপ প্রয়োগ করা হয়নি। বরং তার অপরাধের স্বপক্ষে পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ বিদ্যমান রয়েছে। ট্যারান্টের দাবিগুলো অসংগতিপূর্ণ এবং অন্য কোনো নির্ভরযোগ্য সাক্ষী বা তথ্য দ্বারা সমর্থিত নয়। আদালত স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, সাজা মওকুফ বা পুনরায় বিচারের জন্য আবেদনকারী কোনো আইনসম্মত বা যৌক্তিক ভিত্তি প্রদর্শন করতে ব্যর্থ হয়েছেন।

২০১৯ সালের সেই বর্বরোচিত হামলাটি বিশ্বজুড়ে তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছিল। হামলাকারী ব্রেন্টন ট্যারান্ট স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র নিয়ে আল নূর মসজিদ ও লিনউড ইসলামিক সেন্টারে নামাজরত মুসল্লিদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালিয়েছিলেন। নৃশংসতার চরম পর্যায়ে তিনি হামলার একাংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করেন, যা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ঘৃণা ছড়ানোর ক্ষেত্রে নতুন এক উদ্বেগের সৃষ্টি করেছিল। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে নিউজিল্যান্ড সরকার দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাদের প্রচলিত অস্ত্র আইনে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনে। দেশটিতে সেমি-অটোমেটিক বা আধা-স্বয়ংক্রিয় আগ্নেয়াস্ত্র নিষিদ্ধ করা হয় এবং নাগরিকদের কাছে থাকা অস্ত্রগুলো রাষ্ট্রীয়ভাবে কিনে নিয়ে ধ্বংস করার কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়।

ক্রাইস্টচার্চ ট্র্যাজেডির পর নিউজিল্যান্ডের বিচারিক ইতিহাসে ট্যারান্টকে প্রথমবারের মতো প্যারোলহীন আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। এর অর্থ হলো, তার মৃত্যুর আগে কারাগার থেকে মুক্তির কোনো আইনি সুযোগ নেই। আপিল বিভাগের এই নতুন রায়ের ফলে তার সেই কঠোর সাজাই বহাল রইল।

এদিকে উচ্চ আদালতের এই সিদ্ধান্তে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা। হামলায় প্রাণ হারানো হুসেইন আল-উমারির বোন আয়া আল-উমারি গণমাধ্যমকে জানান, আদালতের এই রায়ে তারা সন্তুষ্ট। তিনি মনে করেন, পুনরায় ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার মাধ্যমে নিহতদের পরিবারের দীর্ঘদিনের ক্ষত কিছুটা হলেও প্রশমিত হবে। এই রায়ের মাধ্যমে আবারও প্রমাণিত হয়েছে যে, নিউজিল্যান্ডের বিচার ব্যবস্থা উগ্রবাদ ও নৃশংসতার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে অটল।

আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ব্রেন্টন ট্যারান্টের আপিল খারিজের মাধ্যমে এই বিচারিক প্রক্রিয়াটির একটি চূড়ান্ত পরিণতি ঘটল। এটি বিশ্বজুড়ে বর্ণবাদ ও ইসলামোফোবিয়া বিরোধী লড়াইয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হবে। একই সাথে, কোনো অপরাধী যেন আইনি মারপ্যাঁচে নৃশংস অপরাধের দায় থেকে মুক্তি না পায়, তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এই রায় মাইলফলক হয়ে থাকবে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে নিউজিল্যান্ডের সামাজিক নিরাপত্তা এবং আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষায় এই বিচারিক সিদ্ধান্ত বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026