আন্তর্জাতিক ডেস্ক
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি রুট ম্যাপ বা নেটওয়ার্ক ম্যাপে জম্মু ও কাশ্মীরকে পাকিস্তানের অংশ হিসেবে প্রদর্শন করায় তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে নেপালের রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান সংস্থা নেপাল এয়ারলাইন্স। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গভীর দুঃখ প্রকাশ করে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চেয়েছে কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) নেপাল এয়ারলাইন্সের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এই দুঃখ প্রকাশ করা হয়।
সম্প্রতি নেপাল এয়ারলাইন্সের দাপ্তরিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পাতায় তাদের বৈশ্বিক গন্তব্য ও নেটওয়ার্কের একটি মানচিত্র প্রকাশ করা হয়। সেখানে ভারতের কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল জম্মু ও কাশ্মীরকে ভুলবশত পাকিস্তানের মানচিত্রের সীমানায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। বিষয়টি নজরে আসার পরপরই ভারতের কূটনৈতিক অঙ্গন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই ঘটনাটি দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত স্পর্শকাতর হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
বিতর্ক ছড়িয়ে পড়ার প্রেক্ষাপটে নেপাল এয়ারলাইন্স ত্বরিত ব্যবস্থা গ্রহণ করে তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে বিতর্কিত পোস্টটি সরিয়ে নেয়। সংস্থাটি এক বিবৃতিতে জানায়, প্রকাশিত মানচিত্রে আন্তর্জাতিক সীমান্ত সংক্রান্ত যে গুরুতর ভুলটি পরিলক্ষিত হয়েছে, তা নেপাল সরকার বা নেপাল এয়ারলাইন্সের কোনো দাপ্তরিক বা নীতিগত অবস্থানের প্রতিফলন নয়। সংস্থাটি এই যান্ত্রিক বা অনিচ্ছাকৃত ত্রুটির জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য ইতিমধ্য়েই একটি অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনা কমিটি গঠন করা হয়েছে। ঠিক কীভাবে বা কোন স্তরের ত্রুটির কারণে মানচিত্রে এমন বিচ্যুতি ঘটেছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ভবিষ্যতে এই ধরনের স্পর্শকাতর বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে সংস্থাটি।
নেপাল এয়ারলাইন্স তাদের বিবৃতিতে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বিদ্যমান সুসম্পর্কের বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখ করেছে। সংস্থাটি জানায়, নেপাল সবসময় প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ ও বন্ধুত্বের সম্পর্ক বজায় রাখাকে গুরুত্ব দেয়। এই পোস্টের মাধ্যমে অনিচ্ছাকৃতভাবে কারো অনুভূতিতে আঘাত লাগলে বা কোনো ধরনের অসন্তোষ সৃষ্টি হলে তার জন্য তারা ক্ষমাপ্রার্থী।
ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ এশিয়ায় ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে কাশ্মীর ইস্যুটি দীর্ঘদিনের এক অমীমাংসিত এবং অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যেকোনো মানচিত্র প্রদর্শনের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্কতা অবলম্বন করা হয়, কারণ মানচিত্রে সামান্য বিচ্যুতিও কূটনৈতিক সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। নেপাল ও ভারতের মধ্যে ঐতিহাসিক এবং শক্তিশালী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বিদ্যমান থাকায় নেপালি কোনো রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের এমন ভুল বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।
বর্তমানে নেপাল এয়ারলাইন্স তাদের ডিজিটাল কন্টেন্ট ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনার ইঙ্গিত দিয়েছে যাতে করে ভবিষ্যতে আর কোনো ভ্রান্ত তথ্য বা মানচিত্র প্রকাশিত না হয়। নেপাল সরকারের পর্যটন ও বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রণালয় থেকেও বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। এই ঘটনার পর নেপাল এয়ারলাইন্স তাদের সকল আন্তর্জাতিক প্রচারণামূলক সামগ্রী পুনরায় যাচাই-বাছাই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সংস্থাটি পুনরায় আশ্বস্ত করেছে যে, তারা আন্তর্জাতিক আইন ও প্রতিবেশী দেশগুলোর সার্বভৌমত্বের প্রতি সর্বদা শ্রদ্ধাশীল।