1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০২:২৯ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
ডিজিটাল লেনদেনে ক্রমবর্ধমান জালিয়াতি রোধে ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কঠোর পদক্ষেপের প্রস্তাব শেয়ারবাজারের অর্থ লুটপাটের বিচার ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার সংস্কার দাবি রুমিন ফারহানার রাজনৈতিক হয়রানিমূলক সাড়ে ২৩ হাজার মামলা প্রত্যাহার: সংসদে আইনমন্ত্রী বাংলাদেশ ও ডেনমার্কের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে একমত দুই দেশ প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়কে আঘাত করায় ১৩ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞায় আন্দ্রাদা মসজিদে হামলায় সাজাপ্রাপ্ত ব্রেন্টন ট্যারান্টের আপিল খারিজ করল নিউজিল্যান্ডের আদালত মানচিত্র বিতর্কে ক্ষমা চাইল নেপাল এয়ারলাইন্স সিদ্ধিরগঞ্জে দায়েরকৃত দুই মামলায় সাবেক মেয়র আইভীর জামিন বিআরটিএ ও ডিএমটিসিএলসহ গুরুত্বপূর্ণ চার সংস্থায় নতুন প্রধান নিয়োগ বাংলাদেশ ও ইইউর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার সঙ্গে এরিক কুর্জওয়েলের সাক্ষাৎ

ডিজিটাল লেনদেনে ক্রমবর্ধমান জালিয়াতি রোধে ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কঠোর পদক্ষেপের প্রস্তাব

রিপোর্টার
  • আপডেট : বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬
  • ০ বার দেখা হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ভারতের ক্রমবর্ধমান ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থায় আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে আর্থিক জালিয়াতি। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়া’ (আরবিআই) সম্প্রতি নতুন কিছু কঠোর পদক্ষেপের প্রস্তাব দিয়েছে। বিশেষ করে ‘সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং’ বা মনস্তাত্ত্বিক কৌশলে গ্রাহককে ফাঁদে ফেলে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার প্রবণতা বন্ধে লেনদেনের সময়সীমা বৃদ্ধি ও অতিরিক্ত যাচাইকরণ ব্যবস্থার ওপর জোর দিচ্ছে সংস্থাটি।

সম্প্রতি ভারতের পুনে শহরের এক ভুক্তভোগীর অভিজ্ঞতা থেকে ডিজিটাল প্রতারণার ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে। ট্রাফিক জরিমানার নামে একটি ভুয়া খুদে বার্তার লিঙ্কে ক্লিক করে ওটিপি (ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড) শেয়ার করার পর তার ক্রেডিট কার্ড থেকে তিন হাজার ২২৫ মার্কিন ডলার হাতিয়ে নেয় চক্রটি। এ ধরনের প্রতারণায় গ্রাহককে ভয় দেখিয়ে বা জরুরি কোনো বার্তা দিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করা হয়। সরকারি পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২০২১ সালের তুলনায় ২০২৫ সালের মধ্যে ডিজিটাল প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ হারানোর পরিমাণ বেড়েছে প্রায় চার হাজার ৩০০ শতাংশ। ২০২৫ সাল নাগাদ ভারতে প্রায় ২৫ লাখ মানুষ সম্মিলিতভাবে ২৫০ কোটি ডলার হারিয়েছেন বলে গবেষকদের তথ্যে উঠে এসেছে।

এই সংকট নিরসনে আরবিআই একটি উচ্চপর্যায়ের আলোচনাপত্র প্রকাশ করেছে। প্রস্তাবিত পদক্ষেপগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো, এক অ্যাকাউন্ট থেকে অন্য অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানোর ক্ষেত্রে অন্তত এক ঘণ্টার বিলম্ব বা ‘কুলিং অফ পিরিয়ড’ রাখা। এর ফলে গ্রাহক ভুলবশত কোনো লেনদেন করলে তা বাতিল করার সুযোগ পাবেন। এছাড়া প্রবীণ নাগরিকদের মতো ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর বড় অংকের লেনদেনের ক্ষেত্রে একজন ‘বিশ্বস্ত ব্যক্তি’র অতিরিক্ত অনুমোদনের প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি গ্রাহকদের ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ডের লেনদেনের সীমা নির্ধারণ ও সাময়িকভাবে কার্ড সচল বা অচল করার ক্ষেত্রে অধিকতর নিয়ন্ত্রণ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

জালিয়াতি চক্র সাধারণত অবৈধ লেনদেনের জন্য অন্যের অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে, যা ‘মিউল অ্যাকাউন্ট’ নামে পরিচিত। আরবিআই-এর প্রস্তাব অনুযায়ী, কোনো অ্যাকাউন্টে হঠাৎ বড় অংকের অর্থ জমা পড়লে তার ওপর কঠোর নজরদারি এবং লেনদেনের সীমা আরোপ করা হবে। তবে এই পদ্ধতি বাস্তবায়নে ব্যাংকিং খাতের পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধির পাশাপাশি কারিগরি জটিলতার বিষয়েও সতর্ক করেছেন বিশ্লেষকরা।

প্রস্তাবিত এই সংস্কার নিয়ে প্রযুক্তি ও ব্যাংকিং খাতের বিশেষজ্ঞদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এক ঘণ্টার বিলম্ব ব্যবস্থা ওটিপি-ভিত্তিক সাধারণ প্রতারণা কিছুটা কমাতে পারলেও ডিজিটাল লেনদেনের মূল বৈশিষ্ট্য অর্থাৎ ‘দ্রুত গতি’ বিঘ্নিত হবে। রেগুলেটরি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ‘আইডিফাই’-এর ভাষ্যমতে, একটি পেমেন্ট প্রক্রিয়ায় বহু পক্ষ জড়িত থাকে, তাই পুরো সিস্টেম পরিবর্তন না করে এটি কার্যকর করা প্রায় অসম্ভব। অনেকে একে ‘এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ করে বারবার স্পিড ব্রেকার বসানোর’ সাথে তুলনা করেছেন।

এছাড়া ‘বিশ্বস্ত ব্যক্তি’র মাধ্যমে লেনদেন যাচাইয়ের ক্ষেত্রে দায়বদ্ধতার প্রশ্নটি অমীমাংসিত রয়ে গেছে। যদি মনোনীত ব্যক্তি ভুলবশত কোনো প্রতারণামূলক লেনদেন অনুমোদন করেন, তবে তার দায় কে নেবে তা স্পষ্ট নয়। আরবিআই ইনোভেশন হাবের সাবেক কর্মকর্তাদের মতে, প্রতারণা নিয়ন্ত্রণে বর্তমানের চেয়েও আধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ‘এআই’ প্রযুক্তির ব্যবহার জরুরি। জালিয়াতি শনাক্তে ‘মিউলহান্টার ডট এআই’-এর মতো প্ল্যাটফর্ম দ্রুত ব্যাংকিং ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একার পক্ষে এই বৈশ্বিক ও প্রযুক্তিগত অপরাধ দমন করা সম্ভব নয়। ডিজিটাল জালিয়াতি কার্যকরভাবে মোকাবিলা করতে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশ প্রশাসন, টেলিযোগাযোগ বিভাগ এবং বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর মধ্যে সুসমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। অন্যথায় প্রতারণা চক্র প্রতিনিয়ত তাদের কৌশলে পরিবর্তন এনে সাধারণ মানুষের অর্থ হাতিয়ে নিতেই থাকবে।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026