1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৫১ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়কে আঘাত করায় ১৩ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞায় আন্দ্রাদা মসজিদে হামলায় সাজাপ্রাপ্ত ব্রেন্টন ট্যারান্টের আপিল খারিজ করল নিউজিল্যান্ডের আদালত মানচিত্র বিতর্কে ক্ষমা চাইল নেপাল এয়ারলাইন্স সিদ্ধিরগঞ্জে দায়েরকৃত দুই মামলায় সাবেক মেয়র আইভীর জামিন বিআরটিএ ও ডিএমটিসিএলসহ গুরুত্বপূর্ণ চার সংস্থায় নতুন প্রধান নিয়োগ বাংলাদেশ ও ইইউর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার সঙ্গে এরিক কুর্জওয়েলের সাক্ষাৎ ট্রাম্প-পুতিন ফোনালাপ: ইরান যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানালেও ‘বিধ্বংসী পরিণতির’ হুঁশিয়ারি রাজধানীতে ৬৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত, আরও ভারি বর্ষণের পূর্বাভাস টানা দুই দিন লোডশেডিংমুক্ত ছিল দেশ: বিদ্যুৎ বিভাগ ইরানের অর্ধ বিলিয়ন ডলারের ক্রিপ্টো সম্পদ জব্দ করল যুক্তরাষ্ট্র, তেহরানের ওপর অর্থনৈতিক ও নৌ অবরোধের হুঁশিয়ারি

ইরানের অর্ধ বিলিয়ন ডলারের ক্রিপ্টো সম্পদ জব্দ করল যুক্তরাষ্ট্র, তেহরানের ওপর অর্থনৈতিক ও নৌ অবরোধের হুঁশিয়ারি

রিপোর্টার
  • আপডেট : বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬
  • ০ বার দেখা হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইরানের প্রায় ৫০০ মিলিয়ন (অর্ধ বিলিয়ন) মার্কিন ডলার সমমূল্যের ক্রিপ্টোকারেন্সি সম্পদ জব্দ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ‘অপারেশন ইকোনমিক ফিউরি’র আওতায় তেহরানের ওপর ওয়াশিংটনের চলমান কঠোর অর্থনৈতিক চাপের অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট। সম্প্রতি এক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, মার্কিন প্রশাসনের এই তৎপরতা ইরানের অর্থনীতিকে বড় ধরনের সংকটের মুখে ফেলেছে।

ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট জানান, প্রাথমিক পর্যায়ে ৩৫০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের ক্রিপ্টো সম্পদ জব্দ করা হয়েছিল। পরবর্তীতে আরও ১০০ মিলিয়ন ডলারের সন্ধান মেলায় মোট জব্দের পরিমাণ প্রায় অর্ধ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। তিনি স্পষ্ট করেন যে, কেবল ডিজিটাল সম্পদই নয়, বরং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা ইরানের ব্যাংক অ্যাকাউন্টগুলোও পর্যায়ক্রমে স্থগিত বা জব্দ করার প্রক্রিয়া অব্যাহত রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র।

মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত বছরের মার্চ মাসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর এই বিশেষ অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের নির্দেশ দেন। অপারেশন ইকোনমিক ফিউরি নামের এই অভিযানের মূল লক্ষ্য হলো ইরানের আর্থিক উৎসের পথগুলো রুদ্ধ করে দেওয়া। গত তিন সপ্তাহ আগে এই অভিযানের গতি ও পরিধি আরও বাড়ানোর জন্য বিশেষ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার ও সংস্থাগুলোকে ইরানের সঙ্গে সব ধরনের আর্থিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন করার জন্য কূটনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে চাপ দিচ্ছে।

ইরানের তেল রপ্তানি বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র অত্যন্ত কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। স্কট বেসেন্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘আমরা ইরানের তেল ক্রেতা দেশগুলোকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছি যে, তারা যদি তেহরানের সঙ্গে বাণিজ্য অব্যাহত রাখে, তবে আমরা তাদের শিল্প খাত এবং ব্যাংকিং ব্যবস্থার ওপর দ্বিতীয় পর্যায়ের (সেকেন্ডারি) নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে প্রস্তুত।’ বিশ্লেষকদের মতে, দ্বিতীয় পর্যায়ের এই নিষেধাজ্ঞার হুমকি মূলত চীন ও ভারতের মতো বড় তেল আমদানিকারক দেশগুলোর ওপর মনস্তাত্ত্বিক ও অর্থনৈতিক চাপ তৈরির একটি কৌশল।

অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক ও কৌশলগত ব্যবস্থার ইঙ্গিতও দিয়েছেন মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি। তিনি দাবি করেন, অর্থনৈতিক অভিযানের পাশাপাশি ইরানের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌবাহিনী অবরোধ আরোপের পরিকল্পনা করছে। এই দ্বিমুখী ব্যবস্থা ইরানের জাতীয় অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদী এবং স্থায়ী ক্ষতি সাধন করবে বলে তিনি মনে করেন। ওয়াশিংটনের এই অনমনীয় অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের এই সাঁড়াশি অভিযানকে গুরুত্ব দিতে নারাজ ইরান। তেহরান প্রশাসনের পক্ষ থেকে ওয়াশিংটনের এই কর্মকাণ্ডকে ‘অকার্যকর’ বলে অভিহিত করা হয়েছে। ইরানের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, এই ধরনের অবরোধ বা সম্পদ জব্দের ঘটনা কেবল বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ব্যাহত করবে এবং জ্বালানির দাম বাড়িয়ে দেবে, যার প্রভাব খোদ পশ্চিমা দেশগুলোর ওপরই পড়বে।

এদিকে, মার্কিন পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবফ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারির পরিকল্পনা ও পদক্ষেপসমূহকে ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করেন। তেহরান মনে করে, ডিজিটাল সম্পদ জব্দ করে বা নৌ অবরোধের ভয় দেখিয়ে ইরানের সার্বভৌম অবস্থানকে দুর্বল করা সম্ভব নয়।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ক্রিপ্টোকারেন্সি সম্পদ জব্দ করার এই ঘটনা ডিজিটাল অর্থনীতির যুগে এক নতুন ধরনের যুদ্ধের সূচনা করল। ইরান দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়াতে ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহারের চেষ্টা করে আসছিল। যুক্তরাষ্ট্রের এই সর্বশেষ পদক্ষেপ সেই বিকল্প পথটিকেও রুদ্ধ করার একটি জোরালো প্রচেষ্টা। এই সংকটের ফলে পারমাণবিক চুক্তি বা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে আলোচনার পথ আরও সংকুচিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তেহরান ও ওয়াশিংটনের এই পাল্টাপাল্টি অবস্থান আগামী দিনে বৈশ্বিক তেলের বাজার এবং ডিজিটাল মুদ্রার বিনিময় হারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026