বাংলাদেশ ডেস্ক
বিগত দেড় দশকে দেশের শেয়ারবাজার থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ লুটপাটের অভিযোগ তুলে এই চক্রের সাথে জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। আজ বৃহস্পতিবার সকালে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের বৈঠকে অংশ নিয়ে তিনি এ দাবি উত্থাপন করেন। একইসাথে পুঁজিবাজারের স্বচ্ছতা ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে নিয়ন্ত্রক সংস্থায় দক্ষ ও যোগ্য জনবল নিয়োগের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
সংসদে দেওয়া বক্তব্যে রুমিন ফারহানা বলেন, গত ১৫ বছরে একটি বিশেষ প্রভাবশালী চক্রের যোগসাজশে দেশের শেয়ারবাজার থেকে ১ লাখ কোটি টাকারও বেশি অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, এই বিশাল অঙ্কের টাকা মূলত সাধারণ মানুষের সঞ্চয় ছিল। ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা তাদের সারা জীবনের উপার্জিত সঞ্চয় পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করেছিলেন, কিন্তু পরিকল্পিত কারসাজির মাধ্যমে সেই টাকা লুট করা হয়েছে। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, দীর্ঘদিন পার হয়ে গেলেও এই লুটপাটের সাথে জড়িত মূল হোতাদের কখনোই আইনের আওতায় আনা হয়নি।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, পুঁজিবাজারে সুশাসনের অভাবে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা এখন চরম আস্থাহীনতায় ভুগছেন। বাজারের এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে একদিকে যেমন বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, অন্যদিকে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। রুমিন ফারহানা অর্থমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, পুঁজিবাজারে যারা কারসাজি করে অর্থ পাচার ও লুটপাটের সাথে সরাসরি জড়িত, তাদের শ্বেতপত্র প্রকাশ করে কঠোর জবাবদিহিতার মুখোমুখি করতে হবে। বিচারহীনতার এই সংস্কৃতি চলতে থাকলে পুঁজিবাজার কখনোই ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না।
পুঁজিবাজারের প্রধান নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) বর্তমান কার্যক্রম ও সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এই সংসদ সদস্য। তিনি বলেন, একটি দক্ষ ও স্বচ্ছ পুঁজিবাজার গঠনের জন্য বিএসইসিকে দলীয় প্রভাবমুক্ত এবং শক্তিশালী করা জরুরি। এই সংস্থায় এমন ব্যক্তিদের নিয়োগ দিতে হবে যারা আন্তর্জাতিক মানের বাজার বিশ্লেষণে সক্ষম এবং যাদের সততা নিয়ে কোনো বিতর্ক নেই। বাজার সংস্কারে অবিলম্বে কঠোর পদক্ষেপ না নিলে বিনিয়োগকারীদের আস্থায় ফেরানো সম্ভব হবে না বলে তিনি সতর্ক করেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রুমিন ফারহানার এই দাবি দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরেই পুঁজিবাজারে কৃত্রিমভাবে শেয়ারের দাম বাড়ানো-কমানো এবং ইনসাইডার ট্রেডিংয়ের অভিযোগ উঠে আসছে। সাধারণ বিনিয়োগকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং বাজারকে সিন্ডিকেট মুক্ত করতে শক্তিশালী আইনি কাঠামোর প্রয়োজনীয়তা অনেকদিন ধরেই অনুভূত হচ্ছে। জাতীয় সংসদে উত্থাপিত এই দাবিগুলো বাস্তবায়িত হলে পুঁজিবাজারে জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সংসদীয় অধিবেশনে রুমিন ফারহানা পুঁজিবাজার ছাড়াও দেশের সামগ্রিক আর্থিক খাতের সংস্কার এবং অর্থ পাচার রোধে সরকারকে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণের পরামর্শ দেন। দিনের অধিবেশনে উপস্থিত অন্যান্য সদস্যদের সামনে তিনি জোর দিয়ে বলেন, সাধারণ মানুষের আমানত ও বিনিয়োগের সুরক্ষা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। তাই শেয়ারবাজারের টাকা লুটকারীদের দ্রুত চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করার বিকল্প নেই।