1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ০৩:১৯ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
সিটি করপোরেশন বহির্ভূত বিরোধী দলীয় আসনের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর ২০ কোটি টাকা বরাদ্দ নেদারল্যান্ডস ও মরক্কোর হাইভোল্টেজ ম্যাচ দিয়ে শুরু হচ্ছে রাউন্ড অব ৩২ জাতীয় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তিস্তা ব্যারেজ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর রেললাইনের ওপর থেকে দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাক সরানোর পর রাজবাড়ী-ঢাকা রুটে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক সংসদে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ: তিন ধাপে দেশের অর্থনীতি পুনর্গঠনের রূপরেখা ঘোষণা সাবেক শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি অসুস্থ হয়ে ঢামেক হাসপাতালে, পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে পুনরায় কারাগারে একুশে পদকপ্রাপ্ত বরেণ্য চিত্রশিল্পী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মুস্তাফা মনোয়ারের জানাজা আগামীকাল যাত্রাবাড়ীতে ডিএমপির বিশেষ অভিযান, বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ২৩ জন গ্রেফতার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ভিওন চেয়ারম্যান অগি ফাবেলার সৌজন্য সাক্ষাৎ ঢাকা সেনানিবাসে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার সাথে জাপানি রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

চৌদ্দগ্রামে মাদক নিয়ে বিরোধে আহত শ্রমিকের মৃত্যু: বসতবাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও পুলিশের ওপর হামলা

রিপোর্টার
  • আপডেট : বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৩৪ বার দেখা হয়েছে

বাংলাদেশ ডেস্ক

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে মাদক সংক্রান্ত বিরোধের জেরে সংঘটিত সংঘর্ষে আহত নির্মাণ শ্রমিক বশির উদ্দিন (৪৫) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। তার মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ জনতা প্রতিপক্ষের বসতবাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে উত্তেজিত জনতার হামলায় অন্তত ছয়জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। নিহত বশির উদ্দিন চৌদ্দগ্রাম পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বৈদ্দেরখিল গ্রামের মৃত জয়নাল আবেদীনের ছেলে।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশি তদন্তে জানা যায়, গত ২১ এপ্রিল রাতে বৈদ্দেরখিল গ্রামে মাদক ব্যবসা ও পাওনা কেন্দ্রিক বিরোধের জেরে স্থানীয় আবু রশিদ ও নাদিরের পক্ষের লোকজনের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। সংঘর্ষ চলাকালীন নাদিরের পক্ষের লোকজন আবু রশিদকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। এর প্রতিক্রিয়ায় আবু রশিদের দুই ছেলে আসিফ ও পারভেজ তাদের সহযোগীদের নিয়ে পাল্টা আক্রমণ চালালে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় এলাকাটি। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে মোটরসাইকেল চালক ও নির্মাণ শ্রমিক বশির উদ্দিন গুরুতর আহত হন। হামলাকারীরা তার মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করলে তিনি সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়েন।

আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে প্রথমে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে বশির উদ্দিন ও আবু রশিদের অবস্থার অবনতি ঘটলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় পাঠানো হয়। গত সোমবার (২৭ এপ্রিল) দিবাগত রাতে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিবিড় পর্যবেক্ষণে থাকাকালীন বশির উদ্দিনের মৃত্যু হয়। তিনি তিন সন্তানের জনক ছিলেন।

বশিরের মৃত্যুর খবর এলাকায় পৌঁছালে মঙ্গলবার ভোররাত থেকে বৈদ্দেরখিল গ্রামে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্ত আবু রশিদের বাড়িতে চড়াও হয় এবং তার দুইটি বসতঘরে অগ্নিসংযোগ করে। আগুনের লেলিহান শিখা দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। তবে অগ্নিকাণ্ডে ঘর দুটির আসবাবপত্র ও মালামাল সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়েছে।

এদিকে অগ্নিসংযোগ ও উত্তপ্ত পরিস্থিতি সামাল দিতে চৌদ্দগ্রাম থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে অবস্থান নিলে তারা জনরোষের মুখে পড়ে। বিক্ষুব্ধ জনতা পুলিশকে লক্ষ্য করে বৃষ্টির মতো ইট-পাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। এতে ঘটনাস্থলে দায়িত্বরত অন্তত ছয়জন পুলিশ সদস্য আহত হন। আহত পুলিশ সদস্যদের উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

নিহতের পরিবার ও স্থানীয়দের অভিযোগ, সীমান্ত এলাকা হওয়ার সুবাদে বৈদ্দেরখিল গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালী কয়েকটি চক্র মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। এসব নিয়ে এলাকায় প্রায়ই ছোটখাটো বিরোধ লেগে থাকলেও গত ২১ এপ্রিলের ঘটনাটি ছিল ভয়াবহ। স্থানীয়দের দাবি, বশির উদ্দিন কোনো পক্ষের সাথে সরাসরি জড়িত না থাকলেও মাদক বিরোধের বলি হতে হয়েছে তাকে। মাদক ব্যবসার এই বিস্তার রোধে প্রশাসনের উদাসীনতাকেও দায়ী করেছেন গ্রামবাসী।

চৌদ্দগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ আরিফ হোছাইন জানান, সংঘর্ষের ঘটনার পরপরই উভয় পক্ষ থানায় পৃথক মামলা দায়ের করেছিল। এখন বশির উদ্দিনের মৃত্যুর পর মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। তিনি আরও জানান, অগ্নিসংযোগ ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করার কাজ চলছে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং সার্বিক পরিস্থিতি এখন প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে এবং অপরাধীদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026