আন্তর্জাতিক ডেস্ক
রিয়াদ: আসন্ন পবিত্র হজ মৌসুমে হজযাত্রীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও খাদ্যের গুণগত মান নিশ্চিত করতে কঠোর আইনি পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছে সৌদি ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অথরিটি (এসএফডিএ)। সংস্থাটি জানিয়েছে, হজের সময় লাইসেন্সবিহীন খাদ্যদ্রব্য উৎপাদন, মজুত বা বিপণন করলে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং ১ কোটি সৌদি রিয়াল পর্যন্ত জরিমানার বিধান কার্যকর করা হয়েছে। বুধবার এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে দেশটির সরকারের পক্ষ থেকে এই কঠোর হুঁশিয়ারি প্রদান করা হয়।
সৌদি খাদ্য ও ওষুধ নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের মতে, হজ পালন করতে আসা বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের লাখো মানুষের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সৌদি সরকারের শীর্ষ অগ্রাধিকার। সংস্থাটি স্পষ্ট করে জানিয়েছে, দেশের সকল খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান, কারখানা ও গুদামগুলোকে অবশ্যই বিদ্যমান খাদ্য আইনের প্রতিটি ধারা ও সংশ্লিষ্ট নিয়মাবলী কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যদি প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ছাড়া খাদ্যপণ্য মজুত বা প্রক্রিয়াজাতকরণের সাথে জড়িত থাকে, তবে তাদের বিরুদ্ধে কোনো প্রকার শিথিলতা প্রদর্শন ছাড়াই কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নতুন এই নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কোনো প্রতিষ্ঠানকে যদি পূর্ববর্তী কোনো অনিয়মের কারণে আগে বন্ধ করে দেওয়া হয়ে থাকে, তবে এসএফডিএ-র আনুষ্ঠানিক অনুমতি ও নতুন করে সকল শর্ত পূরণ না করা পর্যন্ত সেই প্রতিষ্ঠান পুনরায় চালু করা যাবে না। এছাড়া অনুমোদিত সীমানার বাইরে বা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্যপণ্য মজুত করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নির্ধারিত মানদণ্ড লঙ্ঘন করে কোনো প্রকার নিম্নমানের পণ্য কেনাবেচা বা সরবরাহ করা হলে তা ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
এসএফডিএ আরও জানিয়েছে, আইন ভঙ্গকারীদের শাস্তি কেবল জরিমানা বা কারাদণ্ডেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স এক বছরের জন্য স্থগিত বা স্থায়ীভাবে বাতিল করা হতে পারে। এছাড়া দোষী সাব্যস্ত হওয়া ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে সর্বোচ্চ ১৮০ দিন পর্যন্ত যে কোনো ধরনের খাদ্য সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হজের সময় জনস্বাস্থ্য রক্ষা এবং বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তা বজায় রাখার অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপগুলো নেওয়া হয়েছে। সৌদি আরবের বর্তমান নেতৃত্বের নির্দেশনা অনুযায়ী হজযাত্রীদের জন্য সর্বোচ্চ মানের সেবা নিশ্চিত করতে এসএফডিএ এখন বিভিন্ন সরকারি ও নিরাপত্তা সংস্থার সাথে সমন্বয় করে নিয়মিত পরিদর্শন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বিশেষ করে মক্কা ও মদিনার পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে খাদ্য মজুত ও সরবরাহের চেইন কঠোর নজরদারিতে রাখা হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ মনে করছে, এই কঠোর বিধিনিষেধের ফলে হজ মৌসুমে খাদ্যে বিষক্রিয়া বা নিম্নমানের ঔষধ সেবনজনিত ঝুঁকি অনেকাংশে কমে আসবে। হজযাত্রীদের নিরাপদ অবস্থান ও সুস্থতা নিশ্চিত করতে সরকারের এই জিরো টলারেন্স নীতি মাঠ পর্যায়ে কার্যকর করতে ইতোমধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালত ও পরিদর্শক দল নিয়োগ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সকল ব্যবসায়ী ও সরবরাহকারী সংস্থাকে অনতিবিলম্বে সকল নিয়ম মেনে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য পুনরায় আহ্বান জানানো হয়েছে।