নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশের মাদরাসা শিক্ষাকে আধুনিকায়ন ও কর্মমুখী করার লক্ষ্যে পর্যায়ক্রমে আরও এক হাজার মাদরাসায় কারিগরি ট্রেড কোর্স চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বিকেলে সংসদ অধিবেশন শুরু হলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এই কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরা হয়।
সংসদীয় অধিবেশনে কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল হাসনাতের এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী কারিগরি শিক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে মাদরাসা শিক্ষার্থীদের একটি বিশাল অংশ যাতে কেবল ধর্মীয় শিক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে আধুনিক কর্মবাজারের উপযোগী হয়ে গড়ে উঠতে পারে, সেজন্য এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী জানান, ইতোমধ্যে ৫৪৮টি মাদরাসায় সফলভাবে ভোকেশনাল কোর্স চালু করা হয়েছে এবং এর ধারাবাহিকতায় নতুন করে আরও এক হাজার প্রতিষ্ঠানে কারিগরি শিক্ষা সম্প্রসারণ করা হবে।
সংসদে উত্থাপিত তথ্যানুযায়ী, বাংলাদেশে বর্তমানে ২ কোটিরও বেশি শিক্ষার্থী মাদরাসা শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত, যার মধ্যে প্রায় ৪০ লাখ শিক্ষার্থী প্রাথমিক স্তরে অধ্যয়নরত। বিশাল এই জনশক্তিকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর না করতে পারলে জাতীয় অর্থনীতিতে তাদের অবদান নিশ্চিত করা চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়াবে বলে অধিবেশনে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। বিশেষ করে গবেষণায় উঠে আসা মাদরাসা স্নাতকদের কর্মসংস্থানের প্রতিবন্ধকতা দূর করতেই সরকার কারিকুলামে বড় ধরনের পরিবর্তনের পথে হাঁটছে।
শিক্ষামন্ত্রী তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, মাদরাসা শিক্ষাকে যুগোপযোগী করতে ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি বিজ্ঞান, তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) ও ইংরেজি ভাষার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে। তিনি জানান, কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগ কর্তৃক গঠিত একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি ইতোমধ্যে কারিকুলাম পরিমার্জনের কাজ শুরু করেছে। পেশাভিত্তিক ও বৃত্তিমূলক বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে মাদরাসা শিক্ষার্থীদের সাধারণ শিক্ষার্থীদের মতো প্রতিযোগিতামূলক কর্মক্ষেত্রে সমান সুযোগ নিশ্চিত করা হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের সাধারণ ধারার শিক্ষার পাশাপাশি মাদরাসা শিক্ষায় কারিগরি ট্রেড চালুর এই সিদ্ধান্ত বেকারত্ব হ্রাসে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। কম্পিউটার অপারেশন, ইলেকট্রিক্যাল ওয়ার্কস, সেলাই ও ড্রেস মেকিং এবং গ্রাফিক ডিজাইনের মতো ট্রেডগুলো অন্তর্ভুক্ত করা হলে শিক্ষার্থীরা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা শেষ করার আগেই স্বনির্ভর হওয়ার সুযোগ পাবে। এতে করে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের বাইরেও বেসরকারি শিল্প ও সেবা খাতে তাদের প্রবেশের পথ সুগম হবে।
অধিবেশনে জানানো হয়, পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি মাদরাসায় কারিগরি শিক্ষা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা সরকারের দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্যমাত্রার অংশ। এর ফলে মাদরাসা শিক্ষার্থীরা শুধুমাত্র ইমামতি বা ধর্মীয় শিক্ষকতার ওপর নির্ভরশীল না থেকে দেশের ক্রমবর্ধমান শিল্পায়নের অংশীদার হতে পারবে। পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হওয়া সংসদ অধিবেশনে আজ অন্যান্য বিষয়ের পাশাপাশি শিক্ষা খাতের এই সংস্কার কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সরকারের এই পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে মাদরাসা শিক্ষার্থীদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।