অপরাধ ডেস্ক
গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গীতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তল ও ম্যাগাজিনসহ দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) ভোররাতে টঙ্গীর পাগার পাঠানপাড়া এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—জসিম (৪০) ও শরিফুল আলম আরিফ (৩২)। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতরা এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) উপ-পুলিশ কমিশনার মো. মহিউদ্দিন আহমেদ বৃহস্পতিবার দুপুরে টঙ্গী পূর্ব থানা কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে যে, পাগার পাঠানপাড়া এলাকায় অস্ত্রধারী কিছু ব্যক্তি অবস্থান করছে। এর প্রেক্ষিতে টঙ্গী পূর্ব থানা পুলিশের একটি দল সেখানে অভিযান পরিচালনা করে জসিম ও আরিফকে আটক করে। পরবর্তীতে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে একটি বিদেশি পিস্তল ও একটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়।
পুলিশি তদন্তে জানা গেছে, গ্রেপ্তারকৃত জসিম ও আরিফ গত ২৩ ফেব্রুয়ারি টঙ্গীর পাগাড় ঝিনু মার্কেট এলাকায় ঘটে যাওয়া একটি সহিংস ঘটনার প্রধান অভিযুক্ত। ওই দিন স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছিল। ওই সময় হামলা ও লুটপাটের পাশাপাশি দুইজনকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। উক্ত ঘটনায় টঙ্গী পূর্ব থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল, যেখানে এই দুই ব্যক্তি এজাহারভুক্ত আসামি ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান, এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি এবং অবৈধ অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিল। তাদের গ্রেপ্তারের ফলে ওই এলাকার আইন-শৃঙ্খলার উন্নয়ন ঘটবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। উদ্ধারকৃত অস্ত্রের উৎস এবং এর সাথে অন্য কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশি তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে নতুন একটি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। এছাড়া আগের মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হবে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে। অপরাধ দমনে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের এ ধরনের অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। সংশ্লিষ্ট এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পলাতক অন্যান্য অভিযুক্তদের ধরতে অভিযান জোরদার করা হয়েছে।