খেলাধূলা ডেস্ক
চেলসির ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গার এস্তেভাও উইলিয়ান হ্যামস্ট্রিংয়ের গুরুতর চোটের কারণে চলতি মৌসুম থেকে ছিটকে গেছেন। গত শনিবার স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিপক্ষে খেলার সময় এই চোট পান তিনি। ১৮ বছর বয়সী এই প্রতিভাবান ফুটবলারের চোট কেবল তার ক্লাব চেলসির জন্যই নয়, বরং আসন্ন বিশ্বকাপের আগে ব্রাজিল জাতীয় দলের জন্যও এক বিশাল উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। চোটের গভীরতা এতটাই বেশি যে, আগামী জুনে শুরু হতে যাওয়া ফুটবল মহাযজ্ঞে তার অংশগ্রহণ এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে।
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিপক্ষে ১-০ গোলে হারের ম্যাচে মাঠ ছাড়ার পর এস্তেভাওয়ের শারীরিক পরীক্ষার রিপোর্ট অনুযায়ী, তার হ্যামস্ট্রিংয়ে ‘গ্রেড ফোর’ পর্যায়ের ইনজুরি ধরা পড়েছে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় গ্রেড ফোর ইনজুরি অত্যন্ত গুরুতর, যা সাধারণত পেশি সম্পূর্ণ ছিঁড়ে যাওয়াকে নির্দেশ করে। এমন চোট থেকে পুরোপুরি সেরে উঠে মাঠে ফিরতে দীর্ঘ পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার প্রয়োজন হয়। ফলে আগামী ১৩ জুন মরক্কোর বিপক্ষে ব্রাজিলের উদ্বোধনী ম্যাচে এই উইঙ্গারের খেলার সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে মনে করা হচ্ছে, মৌসুমের বাকি সময়টা তাকে মাঠের বাইরেই কাটাতে হবে।
ব্রাজিল জাতীয় দলের কোচ কার্লো আনচেলত্তির পরিকল্পনায় এস্তেভাও ছিলেন অন্যতম প্রধান অস্ত্র। সেলেসাওদের হয়ে খেলা ১১ ম্যাচে তিনি নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন, যার মধ্যে শেষ চার ম্যাচেই করেছেন চারটি গোল। আনচেলত্তির আক্রমণভাগের কৌশলে এই তরুণ তুর্কি অপরিহার্য হয়ে উঠেছিলেন। বিশ্বকাপের ঠিক আগমুহূর্তে তার এই প্রস্থান দলের ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে বলে ফুটবল বিশ্লেষকরা মনে করছেন। যদিও কোনো কোনো মাধ্যমে দাবি করা হচ্ছে যে, বিশ্বকাপের নক-আউট পর্বের আগে তিনি সুস্থ হয়ে উঠতে পারেন, তবে দীর্ঘ বিরতির পর সরাসরি বিশ্বমঞ্চের মতো উচ্চ তীব্রতার টুর্নামেন্টে তাকে খেলানোর ঝুঁকি কোচ নেবেন কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে। বিশেষ করে গ্রুপ পর্বের আগে ম্যাচ ফিটনেস প্রমাণের পর্যাপ্ত সুযোগ তিনি পাবেন না।
ক্লাব ফুটবলেও এস্তেভাওয়ের অনুপস্থিতি চেলসিকে এক কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি করেছে। এমনিতেই ব্লুজরা মাঠের পারফরম্যান্সে ধারাবাহিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তার ওপর ইনজুরি তালিকায় যোগ হয়েছে নতুন নাম। জোয়াও পেদ্রো, কোল পামার এবং জেমি গিটেন্সের মতো গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়রা আগে থেকেই ইনজুরিতে আক্রান্ত। এখন এস্তেভাও ছিটকে যাওয়ায় চেলসির আক্রমণভাগ কার্যত শক্তিহীন হয়ে পড়েছে। ২০২৪ সালের মে মাসে পালমেইরাস থেকে চেলসিতে যোগ দেওয়ার পর ৩৬ ম্যাচে ৮টি গোল এবং ৪টি অ্যাসিস্ট করে তিনি দলের অন্যতম আস্থার প্রতীকে পরিণত হয়েছিলেন। পয়েন্ট টেবিলের তলানির দিকে থাকা চেলসির জন্য তার এই অভাব পূরণ করা বর্তমান প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত দুরুহ।
ব্রাজিলিয়ান এই বিস্ময় বালকের ইনজুরি নিয়ে ফুটবল বিশ্বে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ক্যারিয়ারের শুরুতে এমন বড় চোট তার দীর্ঘমেয়াদী পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলবে কি না, তা নিয়ে চিন্তিত সংশ্লিষ্টরা। বর্তমানে তিনি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন এবং শিগগিরই তার পুনর্বাসন প্রক্রিয়া শুরু হবে। তবে উত্তর আমেরিকার তিন দেশে অনুষ্ঠিতব্য ফিফা বিশ্বকাপে হলুদ জার্সিতে এই তরুণকে দেখা যাবে কি না, সেই প্রশ্নের উত্তর এখন সময়ের ওপর নির্ভর করছে। চেলসি এবং ব্রাজিল ফুটবল ফেডারেশন উভয়েই তার শারীরিক অবস্থার ওপর নিবিড় নজর রাখছে।