খেলাধূলা ডেস্ক
অস্ট্রেলীয় তারকা পেসার মিচেল স্টার্ক ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) চলতি আসরে দিল্লি ক্যাপিটালসের হয়ে অংশ নিতে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার (সিএ) পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক অনাপত্তিপত্র বা ছাড়পত্র পেয়েছেন। ৩৬ বছর বয়সী এই অভিজ্ঞ বাঁহাতি পেসার দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ভারতের ফ্র্যাঞ্চাইজি ভিত্তিক এই টুর্নামেন্টে ফিরছেন। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ১ মে রাজস্থান রয়্যালসের বিপক্ষে ম্যাচে দিল্লির জার্সিতে মাঠে নামবেন তিনি।
দীর্ঘদিন ধরে ইনজুরি সমস্যার কারণে স্টার্কের আইপিএলে অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা ছিল। গত অ্যাশেজ সিরিজে দুর্দান্ত পারফর্ম করে সিরিজ সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হলেও সেখানে তিনি কনুই ও কাঁধের গুরুতর চোটের শিকার হন। এই চোটের কারণে ঘরোয়া লিগ বিগ ব্যাশে সিডনি সিক্সার্সের হয়ে কিছু ম্যাচ খেলার পর দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে কাটাতে হয়েছে তাকে। দীর্ঘ পুনর্বাসন প্রক্রিয়া শেষে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার মেডিকেল বোর্ড তাকে পূর্ণ ফিট ঘোষণা করায় আইপিএলে অংশ নেওয়ার পথে আর কোনো বাধা রইল না।
চলতি আইপিএল মৌসুমে দিল্লি ক্যাপিটালসের বোলিং ইউনিটে স্টার্কের অন্তর্ভুক্তি দলটিকে বড় ধরনের শক্তি যোগাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। স্টার্কের অনুপস্থিতিতে বর্তমানে দিল্লির পেস আক্রমণের মূল দায়িত্ব সামলাচ্ছেন দক্ষিণ আফ্রিকান পেসার লুঙ্গি এনগিডি। এখন পর্যন্ত ৬ ম্যাচে ৭ উইকেট শিকার করে তিনি নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন। তবে দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্সে কিছুটা ধারাবাহিকতার অভাব লক্ষ্য করা গেছে। টুর্নামেন্টের শুরুতে টানা দুটি ম্যাচ জিতে দারুণ সূচনা করলেও পরবর্তী চার ম্যাচের তিনটিতেই পরাজয় বরণ করতে হয়েছে দিল্লিকে। এমন পরিস্থিতিতে স্টার্কের মতো একজন বিশ্বমানের অভিজ্ঞ বোলার একাদশে যুক্ত হওয়া অধিনায়ক ও টিম ম্যানেজমেন্টের জন্য বড় স্বস্তির কারণ।
চলতি মৌসুমে অস্ট্রেলিয়ার শীর্ষ সারির পেসারদের মধ্যে স্টার্কই সবার শেষে আইপিএলে যোগ দিচ্ছেন। তার স্বদেশী সতীর্থ প্যাট কামিন্স ফ্র্যাঞ্চাইজির সঙ্গে থাকলেও এখন পর্যন্ত কোনো ম্যাচ খেলেননি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, চলতি সপ্তাহান্তেই কামিন্স তার প্রথম ম্যাচ খেলতে মাঠে নামবেন। অন্যদিকে, ইনজুরি কাটিয়ে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর হয়ে ইতোমধ্যেই মাঠে ফিরেছেন জশ হ্যাজেলউড। অস্ট্রেলিয়ার এই তিন প্রধান পেসারের আইপিএলে ফেরা আগামী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে তাদের ম্যাচ ফিটনেস প্রমাণের বড় সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, মিচেল স্টার্কের প্রধান শক্তি হলো তার গতির সঙ্গে কার্যকরী ইনসুইং ইয়র্কার। বিশেষ করে পাওয়ার প্লে এবং ডেথ ওভারে তিনি যেকোনো ব্যাটিং লাইনআপের জন্য ত্রাস হয়ে উঠতে পারেন। দিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামের পিচে স্টার্ক কতটা প্রভাব ফেলতে পারেন, সেটিই এখন দেখার বিষয়। রাজস্থান রয়্যালসের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপের বিপক্ষে ১ মে-র ম্যাচটি স্টার্কের জন্য যেমন চ্যালেঞ্জের, তেমনি দিল্লির ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াইয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
দিল্লি ক্যাপিটালস বর্তমানে পয়েন্ট টেবিলের মধ্যম সারিতে অবস্থান করছে। টুর্নামেন্টের মাঝপথে স্টার্কের অন্তর্ভুক্তি দলের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেবে। বিশেষ করে তার অভিজ্ঞতা তরুণ পেসারদের পথ দেখাতে সাহায্য করবে। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া সাধারণত তাদের কেন্দ্রীয় চুক্তিতে থাকা বোলারদের ওয়ার্কলোড ব্যবস্থাপনার বিষয়ে অত্যন্ত সচেতন থাকে। আসন্ন আন্তর্জাতিক সূচি ও বিশ্বকাপের কথা মাথায় রেখে স্টার্ককে নির্দিষ্ট শর্ত সাপেক্ষে এই ছাড়পত্র প্রদান করা হয়েছে বলে জানা গেছে। স্টার্কের যোগদানের ফলে দিল্লির বিদেশি কোটার সমীকরণেও কিছুটা পরিবর্তন আসতে পারে, যা দলের ভারসাম্য রক্ষায় সহায়ক হবে।