রাজনীতি ডেস্ক
নির্বাচন কমিশন সচিবালয় ভবনে দ্বাদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণার পর জাতীয় রাজনীতি ও জনকল্যাণমূলক কাজে নিজেদের সক্রিয় ভূমিকার কথা জানিয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থীরা। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) নির্বাচন ভবনে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তারা এসব কথা বলেন। প্রার্থীরা জনগণের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠা, অর্থনৈতিক বৈষম্য দূরীকরণ এবং কারিগরি শিক্ষার প্রসারের মাধ্যমে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান সংসদীয় কার্যক্রমে সংরক্ষিত আসনের সদস্যদের গুরুত্বারোপ করে বলেন, দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্যদের যথাযথ ভূমিকা পালন করা অত্যন্ত জরুরি। তিনি উল্লেখ করেন, এই আসনে যারা মনোনীত হয়ে এসেছেন, তারা প্রত্যেকেই দীর্ঘ রাজনৈতিক আন্দোলন ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে পরীক্ষিত। তৃণমূল থেকে উঠে আসা এই অভিজ্ঞ নেতৃত্ব জনগণের অধিকার রক্ষা এবং রাষ্ট্রীয় উন্নয়নে কার্যকর অবদান রাখতে সক্ষম হবেন।
সংসদ সদস্যদের কর্মপরিধি ও বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে সেলিমা রহমান বলেন, সংরক্ষিত আসনের সদস্যরা মূলত দলীয় সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে দায়িত্ব পালন করেন। সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকায় সাধারণ আসনের সংসদ সদস্য বিদ্যমান থাকলেও কাজের ক্ষেত্রে কোনো সমন্বয়হীনতা তৈরি হবে কি না, তা দলের নির্দেশনার ওপর নির্ভর করবে। দল যেখানে যেভাবে দায়িত্ব প্রদান করবে, প্রার্থীরা সেভাবেই জনসেবায় আত্মনিয়োগ করবেন।
রাষ্ট্রীয় প্রেক্ষাপট ও জনদুর্ভোগের কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, গত দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশের একটি বিশাল জনগোষ্ঠী অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়েছে। বিশেষ করে বঞ্চিত ও নির্যাতিত সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় তারা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। সমাজে বিদ্যমান বৈষম্য দূর করে প্রতিটি নাগরিকের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা এবং অনাহারক্লিষ্ট মানুষের পাশে দাঁড়ানোই তাদের মূল লক্ষ্য। সংসদীয় গণতন্ত্রকে সমুন্নত রেখে একটি ভারসাম্যপূর্ণ রাষ্ট্রকাঠামো গঠনে তারা সর্বাত্মক চেষ্টা চালাবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
একই সময়ে বিএনপি জোটের অপর প্রার্থী শিরিন সুলতানা নারীদের অধিকার রক্ষা এবং সামাজিক অবক্ষয় রোধে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সমাজে নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে তাত্ত্বিক আলোচনা হলেও ব্যবহারিক ক্ষেত্রে পদক্ষেপের অভাব পরিলক্ষিত হয়। নারীদের উন্নয়ন ও অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি তরুণ সমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে মাদক নির্মূলে তারা জোরালো ভূমিকা পালন করবেন। সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংসদীয় ফোরামে নিয়মিত সোচ্চার থাকার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে, স্বতন্ত্র মোর্চার প্রার্থী সুলতানা জেসমিন সামগ্রিক জনশক্তিকে সম্পদে রূপান্তরের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি মনে করেন, শুধুমাত্র নির্দিষ্ট কোনো গোষ্ঠী নয়, বরং পুরো জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে কাজ করা প্রয়োজন। বিশেষ করে দেশের অর্থনৈতিক কাঠামোকে শক্তিশালী করতে কারিগরি শিক্ষা ও কৃষি খাতের আধুনিকায়ন অপরিহার্য। দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার মাধ্যমেই দেশকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।
মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের এই প্রক্রিয়া শেষে প্রার্থীরা এখন আনুষ্ঠানিক নির্বাচনি কার্যক্রমের অপেক্ষায় রয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংরক্ষিত নারী আসনে অভিজ্ঞ রাজনৈতিক নেতৃত্বের অংশগ্রহণ সংসদীয় কার্যক্রমে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। বিশেষ করে বিরোধী শিবিরের নারী প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ সংসদে জনগুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে গঠনমূলক বিতর্কের সুযোগ তৈরি করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনের এই নির্বাচন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেশের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে নারী নেতৃত্বের প্রতিফলন ঘটবে বলে সংশ্লিষ্টরা প্রত্যাশা করছেন।