খেলাধূলা ডেস্ক
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সাফল্যের ধারা বজায় রেখে এবার বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের (ডব্লিউটিসি) আগামীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করছে ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড (বিসিসিআই)। বিশেষ করে দলের প্রধান পেসার জসপ্রিত বুমরাহ’র ওপর অতিরিক্ত কাজের চাপ কমাতে এবং চোটমুক্ত রাখতে তাকে নির্দিষ্ট কিছু সিরিজে বিশ্রাম দেওয়ার কৌশল অবলম্বন করছে নির্বাচক ও টিম ম্যানেজমেন্ট। আসন্ন গুরুত্বপূর্ণ টেস্ট সিরিজগুলোতে বুমরাহ’র উপস্থিতি নিশ্চিত করাই এখন বিসিসিআইয়ের মূল লক্ষ্য।
বিসিসিআই সূত্রে জানা গেছে, আগামী বছরের ওয়ানডে বিশ্বকাপ এবং বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালের বিষয়টি মাথায় রেখে বুমরাহ’র ফিটনেস বজায় রাখার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আইপিএলের ফাইনাল পরবর্তী সময়ে আফগানিস্তানের বিপক্ষে একটি টেস্ট ম্যাচ খেলার কথা রয়েছে ভারতের। তবে ম্যাচটি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ না হওয়ায় সেখানে বুমরাহকে বিশ্রাম দেওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। নির্বাচকদের লক্ষ্য হলো, অপ্রয়োজনীয় সিরিজ এড়িয়ে তাকে লাল বলের ক্রিকেটের জন্য সতেজ রাখা।
ভারতের আসন্ন আন্তর্জাতিক সূচি অনুযায়ী, আগস্টে শ্রীলঙ্কার মাটিতে টেস্ট সিরিজ এবং পরবর্তীতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ রয়েছে। এই সিরিজগুলোতে চারটি টেস্ট ম্যাচে বুমরাহ’র অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে চায় বোর্ড। তবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে মর্যাদাপূর্ণ পাঁচ ম্যাচের বর্ডার-গাভাস্কার ট্রফি। আগামী ২১শে জানুয়ারি থেকে শুরু হতে যাওয়া এই হাই-ভোল্টেজ সিরিজের প্রতিটি ম্যাচে বুমরাহ’র সার্ভিস পেতে মুখিয়ে আছে ভারত। আর এই প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই জিম্বাবুয়ে বা ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে কিছু সাদা বলের সিরিজে তাকে দলের বাইরে রাখার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
এদিকে, দলের ব্যস্ত সূচি এবং খেলোয়াড়দের ক্লান্তি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অধিনায়ক শুভমান গিল ও প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীর। খেলোয়াড়দের এক ফরম্যাট থেকে অন্য ফরম্যাটে মানিয়ে নেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত প্রস্তুতির সময় দেওয়ার দাবি তুলেছেন তারা। বিশেষ করে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে লাল বলের ক্রিকেটে ব্যাটসম্যান ও বোলারদের জন্য বাড়তি প্রস্তুতির প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছে ম্যানেজমেন্ট। এই প্রেক্ষাপটে আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট ম্যাচটি ডব্লিউটিসি চক্রের বাইরে হলেও, খেলোয়াড়দের ম্যাচ প্র্যাকটিসের সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিসিসিআইয়ের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, দীর্ঘ বিরতির পর বুমরাহ ক্রিকেটে ফিরে যেভাবে নিজের ছন্দ বজায় রেখেছেন, তা প্রশংসনীয়। তবে তার ওপর নির্ভরতা এবং আধুনিক ক্রিকেটের ঠাসা সূচি বিবেচনা করে রোটেশন পদ্ধতি অনুসরণ করা অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। ২০২৭ সালের আইপিএল এবং টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের সম্ভাব্য ফাইনালের কথা মাথায় রেখে বুমরাহ’র ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্ট এখন ভারতীয় ক্রিকেটের অন্যতম অগ্রাধিকার।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, শ্রীলঙ্কা ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট অর্জনের মাধ্যমে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ওঠার পথ সুগম করতে চায় ভারত। এর পাশাপাশি ৩রা মার্চ শেষ হতে যাওয়া অস্ট্রেলিয়া সিরিজের পুরোটা সময় বুমরাহকে ফিট অবস্থায় পাওয়া গেলে শিরোপার লড়াইয়ে ভারত সুবিধাজনক অবস্থানে থাকবে বলে মনে করছেন ক্রিকেট বিশ্লেষকরা। সার্বিকভাবে, বড় টুর্নামেন্ট ও মর্যাদাপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক সিরিজগুলোতে দলের সেরা অস্ত্রকে কার্যকরভাবে ব্যবহার করাই বিসিসিআইয়ের বর্তমান কৌশল।