1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:২৪ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান সংঘাত ও বিশ্ব জ্বালানি নিরাপত্তার সংকট হ্যামস্ট্রিংয়ের গুরুতর চোটে মাঠের বাইরে এস্তেভাও, শঙ্কায় বিশ্বকাপ যাত্রা জামালপুরে গৃহবধূকে অপহরণ ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণের দায়ে তিনজনের মৃত্যুদণ্ড হজযাত্রীদের খাদ্য ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা: সৌদি আরবে কঠোর আইন ও ১০ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রূপগঞ্জে কারখানা কর্মী অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবি: ৫ অপহরণকারী গ্রেফতার, অস্ত্র উদ্ধার জনগণের অধিকার আদায়ে ও বৈষম্য নিরসনে ঐক্যবদ্ধ কাজের প্রত্যয় সেলিমা রহমানের হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনা: বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় লাফ আইপিএলে দিল্লি ক্যাপিটালসে যোগ দিচ্ছেন মিচেল স্টার্ক অনুমতিহীন ব্যক্তিদের মক্কায় পরিবহন করলে ১ লাখ রিয়াল জরিমানার ঘোষণা গাজীপুরের টঙ্গীতে বিদেশি পিস্তল ও ম্যাগাজিনসহ দুই সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ

হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল থেকে সংগৃহীত টোলের প্রথম কিস্তি ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা

রিপোর্টার
  • আপডেট : বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬
  • ১ বার দেখা হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

পারস্য উপসাগরের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী আন্তর্জাতিক জাহাজগুলো থেকে প্রথমবারের মতো সংগৃহীত টোলের অর্থ নিজেদের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা করেছে ইরান। বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান এই রুটটি ব্যবহারকারী ভেসেল বা জাহাজগুলোর ওপর নির্ধারিত ফি বা টোল আরোপের দীর্ঘদিনের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে দেশটি। ইরানের রাষ্ট্রীয় নীতি-নির্ধারক পর্যায় থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করার পর আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে ভূ-রাজনৈতিক আলোচনার সূত্রপাত হয়েছে।

ইরানের পার্লামেন্টের দ্বিতীয় ডেপুটি স্পিকার হাজি বাবাই আনুষ্ঠানিক এক বিবৃতিতে জানান, হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াত করা বাণিজ্যিক জাহাজগুলো থেকে সংগৃহীত টোলের প্রথম দফার অর্থ ইতিমধ্যে ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তহবিলে স্থানান্তরিত হয়েছে। তিনি এই প্রক্রিয়াকে ইরানের জাতীয় রাজস্ব বৃদ্ধির একটি নতুন ও টেকসই মাত্রা হিসেবে অভিহিত করেন। মূলত নিজেদের জলসীমার নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং নৌপথের রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়ের যৌক্তিকতা তুলে ধরে তেহরান এই ফি আদায়ের প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক বিবেচনায় হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম সংবেদনশীল জলপথ। ওমান ও ইরানের মধ্যবর্তী এই সংকীর্ণ নৌপথটি দিয়ে প্রতিদিন বিশ্বের মোট উৎপাদিত অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ পরিবাহিত হয়। সৌদি আরব, ইরাক, কুয়েত এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো বৃহৎ তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর পণ্য পরিবহনের প্রধান মাধ্যম এটি। বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তার চাবিকাঠি হিসেবে পরিচিত এই রুটে ইরানের নিয়ন্ত্রণ ও টোল আদায়ের এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদী কঠোর অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক অবরোধের মুখে থাকা ইরানের জন্য এই আয় একটি বিকল্প আর্থিক উৎস হিসেবে কাজ করবে। তবে আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন (UNCLOS) অনুযায়ী এই ধরনের টোল আদায় কতোটা আইনসম্মত, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে আইনি ও রাজনৈতিক জটিলতা তৈরির সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে পশ্চিমা বিশ্বের দেশগুলো এই পদক্ষেপকে নৌ-চলাচলের স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করতে পারে। অন্যদিকে, ইরান দাবি করছে যে তাদের জলসীমার মধ্য দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে যে বিপুল ব্যয় হয়, তা মেটাতেই এই টোল ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়েছে।

পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের এই শক্ত অবস্থান ভূ-রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। একদিকে নিজেদের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার প্রচেষ্টা, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করার কৌশল হিসেবে এটিকে দেখা হচ্ছে। এই পদক্ষেপের ফলে আগামীতে হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতকারী বিদেশি জাহাজগুলোর পরিবহন খরচ বৃদ্ধির পাশাপাশি বীমা খরচও বেড়ে যেতে পারে। সার্বিকভাবে, হরমুজ প্রণালীতে ইরানের এই টোল আদায়ের সিদ্ধান্ত বৈশ্বিক তেলের বাজার ও পারস্য উপসাগরের স্থিতিশীলতার ওপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026