1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:২২ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান সংঘাত ও বিশ্ব জ্বালানি নিরাপত্তার সংকট হ্যামস্ট্রিংয়ের গুরুতর চোটে মাঠের বাইরে এস্তেভাও, শঙ্কায় বিশ্বকাপ যাত্রা জামালপুরে গৃহবধূকে অপহরণ ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণের দায়ে তিনজনের মৃত্যুদণ্ড হজযাত্রীদের খাদ্য ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা: সৌদি আরবে কঠোর আইন ও ১০ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রূপগঞ্জে কারখানা কর্মী অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবি: ৫ অপহরণকারী গ্রেফতার, অস্ত্র উদ্ধার জনগণের অধিকার আদায়ে ও বৈষম্য নিরসনে ঐক্যবদ্ধ কাজের প্রত্যয় সেলিমা রহমানের হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনা: বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় লাফ আইপিএলে দিল্লি ক্যাপিটালসে যোগ দিচ্ছেন মিচেল স্টার্ক অনুমতিহীন ব্যক্তিদের মক্কায় পরিবহন করলে ১ লাখ রিয়াল জরিমানার ঘোষণা গাজীপুরের টঙ্গীতে বিদেশি পিস্তল ও ম্যাগাজিনসহ দুই সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ

লালমনিরহাটে ফুয়েল কার্ডের ছবির অমিল থাকায় যুবককে ইউএনওর চপেটাঘাত, ভিডিও নিয়ে বিতর্ক

রিপোর্টার
  • আপডেট : বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬
  • ১ বার দেখা হয়েছে

রংপুর — জেলা প্রতিনিধি

লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলায় ফুয়েল কার্ডের ছবির সঙ্গে চেহারার মিল না থাকার অভিযোগে এক যুবককে চপেটাঘাত করার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীমা আক্তার জাহানের বিরুদ্ধে। গত বুধবার (২২ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলার চন্দ্রপুর ইউনিয়নের চাপারহাট বাজারের লাবনা ফিলিং স্টেশনে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার একটি ভিডিও চিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় জনমনে ক্ষোভ ও নিন্দার সৃষ্টি হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জ্বালানি তেলের চাহিদা মেটাতে চাপারহাট বাজারের লাবনা ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেল আরোহীদের দীর্ঘ লাইন ছিল। লাইনে দাঁড়িয়ে তেল সংগ্রহ করা অসুস্থতার কারণে অসম্ভব হয়ে পড়ায় চাপারহাট কলেজের সহকারী অধ্যাপক গোলাপ চন্দ্র তার ভাগনি জামাই ও স্থানীয় গ্যারেজ মালিক প্রদীপ কুমারের সহায়তা চান। গ্যারেজ মালিক প্রদীপ তার কর্মচারী নদী নামের এক যুবককে ওই শিক্ষকের মোটরসাইকেল এবং ৩০০ টাকার ফুয়েল কার্ড দিয়ে লাইনে পাঠান।

লাইনে অপেক্ষমাণ থাকাকালে তদারকিতে থাকা কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীমা আক্তার জাহান যুবক নদীর হাতের ফুয়েল কার্ডটি পরীক্ষা করেন। কার্ডে থাকা ছবির সঙ্গে যুবকের চেহারার মিল না পেয়ে কোনো জিজ্ঞাসাবাদ ছাড়াই ইউএনও তাকে চপেটাঘাত করেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরবর্তীতে ইউএনওর নির্দেশে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা ওই যুবককে আটক করে পুলিশ ভ্যানে তোলেন।

ঘটনার পরপরই উপস্থিত স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রতিবাদের মুখে ইউএনও বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বসেন। এ সময় অসুস্থ কলেজ শিক্ষক গোলাপ চন্দ্রের মালিকানাধীন মোটরসাইকেল ও তার নামে ইস্যুকৃত ফুয়েল কার্ডের সত্যতা প্রমাণিত হলে প্রায় ঘণ্টাখানেক পর যুবক নদীকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

ভুক্তভোগী যুবক নদী অভিযোগ করে বলেন, “আমি গ্যারেজ মেকানিক হিসেবে কাজ করি। মালিকের নির্দেশে এবং তার আত্মীয় এক অসুস্থ শিক্ষকের অনুরোধে আমি তেল নিতে লাইনে দাঁড়িয়েছিলাম। ইউএনও মহোদয় আমার কাছে কার্ড চাইলে আমি তা দিই। কিন্তু কার্ড দেখার পরপরই তিনি কোনো কিছু জিজ্ঞেস না করেই আমাকে মারধর করেন এবং পুলিশে দেন। আমি কোনো অপরাধ করিনি, তবুও আমাকে জনসম্মুখে লাঞ্ছিত করা হয়েছে। আমি এই অন্যায়ের বিচার চাই।”

তবে চপেটাঘাতের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীমা আক্তার জাহান। তিনি জানান, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী জ্বালানি কার্ডের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে তদারকি করা হচ্ছিল। ওই যুবকের কাছে বৈধ কার্ড ছিল না বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হওয়ায় তার গাড়ির চাবি জব্দ করা হয়েছিল। ইউএনওর দাবি, তিনি যুবকের গায়ে হাত তোলেননি, বরং নিয়মানুযায়ী ব্যবস্থা নিয়েছেন। পরবর্তীতে তার অভিভাবকরা এসে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করলে চাবি ফেরত দেওয়া হয়েছে।

এ ঘটনায় প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সাধারণ মানুষের সঙ্গে আচরণ এবং ক্ষমতার সঠিক ব্যবহার নিয়ে জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। সরকারি কর্মকর্তাদের মাঠ পর্যায়ে দায়িত্ব পালনকালে সংযত আচরণ ও আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের ওপর জোর দিচ্ছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি বর্তমানে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসনের উচ্চপর্যায় থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা নির্দেশনা আসবে কি না, সেদিকে নজর রাখছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026