বাংলাদেশ ডেস্ক
আজ বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সারাদেশে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার দ্বিতীয় দিনের কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সকাল ১০টা থেকে শুরু হওয়া এই পরীক্ষায় সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে বাংলা দ্বিতীয়পত্র, মাদরাসা বোর্ডের অধীনে আরবি প্রথমপত্র এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ইংরেজি-২ বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষা চলবে দুপুর ১টা পর্যন্ত। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট বোর্ডগুলো সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা সম্পন্ন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আজকের পরীক্ষায় তিনটি বোর্ডের অধীনে বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করছে। সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে দেশের ২ হাজার ৪৯০টি কেন্দ্রে মোট ১৪ লাখ ১৮ হাজার ৩৯৮ জন পরীক্ষার্থী বাংলা দ্বিতীয়পত্র পরীক্ষায় বসবে। অন্যদিকে, মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৭৪২টি কেন্দ্রে ৩ লাখ ৪ হাজার ২৮৬ জন পরীক্ষার্থী আরবি প্রথমপত্র পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। এছাড়া কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনস্থ এসএসসি (ভোকেশনাল) ও দাখিল পর্যায়ের ইংরেজি-২ পরীক্ষায় অংশ নেবে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬৬০ জন পরীক্ষার্থী, যাদের জন্য সারা দেশে ৬৫৩টি কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে বোর্ডগুলো কঠোর সময়সূচি নির্ধারণ করে দিয়েছে। যানজট ও অন্যান্য ভোগান্তি এড়াতে সকাল সাড়ে ৮টা থেকে পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে প্রবেশের সুযোগ রাখা হলেও সাড়ে ৯টার মধ্যে সবাইকে আবশ্যিকভাবে নিজ নিজ আসনে উপস্থিত থাকতে হবে। শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী, পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট পর অর্থাৎ ১০টার পর কোনো শিক্ষার্থীকে কেন্দ্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না।
এবারের মাধ্যমিক ও সমমান পরীক্ষা গত ২১ এপ্রিল থেকে শুরু হয়েছে। প্রথম দিনের পরীক্ষায় সাধারণ বোর্ডে বাংলা প্রথমপত্র, মাদরাসায় কুরআন মাজিদ ও তাজভীদ এবং কারিগরি বোর্ডে বাংলা-২ বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম দিনের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, কঠোর নিরাপত্তার মধ্যেও সারাদেশে ২৫ হাজারের বেশি পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল। এছাড়া অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে ছয়জন শিক্ষার্থী এবং দায়িত্ব অবহেলার কারণে একজন কেন্দ্র পরিদর্শককে বহিষ্কার করা হয়। প্রথম দিনের মতো আজও কেন্দ্রগুলোতে একই ধরনের নিরাপত্তা ও কড়াকড়ি বজায় থাকবে বলে কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষামন্ত্রী আজ রাজধানীর বিভিন্ন কেন্দ্র কিংবা ঢাকার বাইরের কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আকস্মিকভাবে পরিদর্শনে যেতে পারেন। এর আগে গত ২১ এপ্রিল তিনি মানিকগঞ্জ ও সাভার এলাকার বিভিন্ন এসএসসি, দাখিল ও ভোকেশনাল পরীক্ষাকেন্দ্র পরিদর্শন করে সামগ্রিক ব্যবস্থাপনার খোঁজখবর নিয়েছিলেন। মূলত পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং নকলমুক্ত পরিবেশ বজায় রাখতেই এই আকস্মিক পরিদর্শনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রশ্নপত্র ফাঁস ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ঠেকাতে এবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বিশেষ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ডিজিটাল ডিভাইসের মাধ্যমে জালিয়াতি বা কোনো ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড রোধে প্রতিটি কেন্দ্রে মেটাল ডিটেক্টর ব্যবহারের পাশাপাশি কেন্দ্র সচিব ছাড়া অন্য কারো মোবাইল ফোন ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা হয়েছে। বিশেষ করে ফেসবুক বা অন্যান্য মাধ্যমে ভুয়া প্রশ্নপত্রের মাধ্যমে কেউ যাতে বিভ্রান্তি ছড়াতে না পারে, সে লক্ষ্যে সাইবার নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
শিক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, পরীক্ষার এই বিশাল কর্মযজ্ঞে শৃঙ্খলা বজায় রাখা বড় চ্যালেঞ্জ। আজকের পরীক্ষায় ইংরেজি ও বাংলার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় থাকায় পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে বাড়তি উদ্বেগ কাজ করছে। তবে শিক্ষা বোর্ডগুলো জানিয়েছে, প্রশ্নফাঁস বা অন্য কোনো অনভিপ্রেত ঘটনা ছাড়াই পরীক্ষা সম্পন্ন করতে তারা বদ্ধপরিকর। প্রতিটি কেন্দ্রে ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ বাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে যাতে পরীক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পরীক্ষা সম্পন্ন করতে পারে।