খেলাধুলা ডেস্ক
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা লড়াইয়ে নাটকীয় মোড় নিয়েছে। বার্নলির বিপক্ষে ১-০ ব্যবধানের কষ্টসাধ্য জয়ে আর্সেনালকে হটিয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষস্থান দখল করেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ম্যানচেস্টার সিটি। ৩৩ ম্যাচ শেষে ম্যানচেস্টার সিটি ও আর্সেনাল—উভয় দলের পয়েন্ট এখন সমান ৭০। এমনকি জয়, পরাজয় ও ড্রয়ের পরিসংখ্যানও অভিন্ন। তবে গোল করার ক্ষেত্রে এগিয়ে থাকায় পেপ গার্দিওলার দল টেবিলের এক নম্বর স্থানটি নিজেদের করে নিয়েছে। চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত সিটি ৬৬টি গোল করেছে, বিপরীতে আর্সেনালের গোল সংখ্যা ৬৩।
বার্নলির ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে শুরুতেই লিড নেয় সিটিজেনরা। ম্যাচের মাত্র পঞ্চম মিনিটে দলের তারকা স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ড গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। প্রাথমিক এই ধাক্কা সামলে বার্নলি রক্ষণাত্মক কৌশলে খেললেও সিটি ব্যবধান বাড়ানোর একাধিক সুযোগ তৈরি করে। তবে ম্যাচের শেষ দিকে ফুটবলারদের মধ্যে কিছুটা ক্লান্তিবোধ দেখা দেওয়ায় ফিনিশিংয়ে ঘাটতি পরিলক্ষিত হয়। ম্যাচ শেষে প্রতিক্রিয়ায় সিটি কোচ পেপ গার্দিওলা জানান, সুযোগগুলো কাজে লাগিয়ে ব্যবধান ২-০ হলে দল আরও স্বস্তিতে থাকতে পারত। তবে গুরুত্বপূর্ণ তিন পয়েন্ট পাওয়াই ছিল মূল লক্ষ্য।
পয়েন্ট টেবিলের এই পালাবদল প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা দৌড়কে সমীকরণের মারপ্যাঁচে ফেলে দিয়েছে। অথচ গত ১১ এপ্রিল পর্যন্ত আর্সেনাল নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সিটির চেয়ে ৯ পয়েন্টে এগিয়ে ছিল। তখন গানার সমর্থকদের ১৯ বছর পর শিরোপা পুনরুদ্ধারের স্বপ্ন অনেকটাই নিশ্চিত মনে হচ্ছিল। কিন্তু গত ১১ দিনে দৃশ্যপট দ্রুত বদলে যায়। নিজেদের মাঠে বোর্নমাউথের কাছে আকস্মিক হার এবং পরবর্তীতে ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে সরাসরি মোকাবিলায় বড় ব্যবধানে পরাজয় মিকেল আর্তেতার শিষ্যদের ব্যাকফুটে ঠেলে দেয়।
লিগের পয়েন্ট তালিকার বর্তমান অবস্থা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, দুই দলের সামনেই এখন পাঁচটি করে ম্যাচ বাকি। শিরোপা নির্ধারণী এই চূড়ান্ত পর্যায়ে এসে কোনো দলেরই ভুল করার সুযোগ নেই। তাত্ত্বিকভাবে, যদি ম্যানচেস্টার সিটি এবং আর্সেনাল তাদের অবশিষ্ট পাঁচটি ম্যাচের সবকটিতেই জয়লাভ করে, তবে মৌসুম শেষে দুই দলেরই সংগ্রহ দাঁড়াবে ৮৫ পয়েন্ট। ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, এমন পরিস্থিতিতে চ্যাম্পিয়ন নির্ধারণের ক্ষেত্রে পয়েন্টের চেয়ে গোল ব্যবধান (Goal Difference) অথবা মোট গোলসংখ্যা (Goals Scored) মুখ্য ভূমিকা পালন করবে।
ম্যানচেস্টার সিটির সাম্প্রতিক ফর্ম এবং হালান্ডের গোল করার ধারাবাহিকতা তাদের কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে রাখলেও, আর্সেনালের জন্য এটি কামব্যাকের বড় পরীক্ষা। রক্ষণভাগের দুর্বলতা কাটিয়ে গানাররা বাকি ম্যাচগুলোতে পূর্ণ পয়েন্ট সংগ্রহ করতে পারে কি না, তার ওপরই নির্ভর করছে লন্ডনের ক্লাবটির ভাগ্য। অন্যদিকে, টানা শিরোপা জয়ের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ম্যানচেস্টার সিটি মানসিক ও কৌশলগতভাবে এগিয়ে থেকে মৌসুম শেষ করতে চায়। আগামী কয়েক সপ্তাহের ম্যাচগুলোর ফলাফলই নির্ধারণ করবে প্রিমিয়ার লিগের সোনালী ট্রফিটি শেষ পর্যন্ত ইতিহাদ না কি এমিরেটস স্টেডিয়ামে যাবে।