রাজনীতি ডেস্ক
রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আগামী শনিবার (২৫ এপ্রিল) ‘জুলাই শহীদ পরিবার ও জুলাইযোদ্ধা’ জাতীয় সমাবেশের ডাক দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। গত বছরের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের পরিবার এবং আহতদের সম্মাননা জ্ঞাপনসহ ঐক্যের বার্তা দিতেই এই বৃহৎ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। বুধবার (২২ এপ্রিল) দলটির পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, শনিবার সকালে এই জাতীয় সমাবেশ শুরু হবে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। আন্দোলনে সম্পৃক্ত বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দও এই সমাবেশে সংহতি প্রকাশ করতে উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে।
দলীয় সূত্র ও বিজ্ঞপ্তির তথ্যানুযায়ী, জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে যারা প্রাণ হারিয়েছেন, তাদের পরিবারের সদস্যদের এই সমাবেশে বিশেষভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। একইসাথে আন্দোলনে আহত হয়ে যারা পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন বা চিকিৎসাধীন ছিলেন, সেইসব ‘জুলাইযোদ্ধা’দের সাহসিকতাকে স্বীকৃতি প্রদান ও তাদের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে দেশবাসীকে অবহিত করা এই সমাবেশের অন্যতম লক্ষ্য। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সমাবেশের মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামী একদিকে যেমন আন্দোলনে নিজেদের ও সাধারণ জনগণের আত্মত্যাগকে স্মরণ করছে, অন্যদিকে সমমনা দলগুলোর সঙ্গে বৃহত্তর রাজনৈতিক ঐক্য প্রদর্শনেরও একটি প্রয়াস চালাচ্ছে।
সমাবেশ আয়োজনের প্রস্তুতি বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, রাজধানীর এই বৃহৎ জমায়েত সফল করতে ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে ১১টি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত থাকার বিষয়ে চূড়ান্ত সম্মতি দিয়েছেন। এর ফলে সমাবেশটি কেবল একটি দলীয় কর্মসূচি নয়, বরং গণঅভ্যুত্থানের পক্ষশক্তির একটি সমন্বিত প্ল্যাটফর্মে পরিণত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিরোধীদলীয় নেতার উপস্থিতিতে এই সমাবেশ থেকে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সংস্কার প্রক্রিয়া এবং ভবিষ্যৎ নির্বাচনের রূপরেখা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা আসতে পারে।
সার্বিক নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে স্বেচ্ছাসেবক দল গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রশাসনের পক্ষ থেকেও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের আহ্বান জানানো হয়েছে। গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে শহীদদের মর্যাদা রক্ষা এবং আহতদের পুনর্বাসনের দাবিতে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হলেও, জামায়াতের এই জাতীয় সমাবেশ বড় ধরনের রাজনৈতিক গুরুত্ব বহন করছে।
উল্লেখ্য, গত জুলাই ও আগস্ট মাসে সংঘটিত গণআন্দোলনের ধারাবাহিকতায় দেশে যে রাজনৈতিক পরিবর্তন সাধিত হয়েছে, তাতে অংশগ্রহণকারী সকল পক্ষকে এক করার একটি প্রতীকী উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে এই সমাবেশকে। এতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শহীদ পরিবারের সদস্যরা অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা, এই সমাবেশের মধ্য দিয়ে জুলাই বিপ্লবের চেতনা পুনরুজ্জীবিত করার পাশাপাশি জাতীয় রাজনীতিতে নিজেদের অবস্থান আরও সুসংহত করার বার্তা দিতে চায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।