জাতীয় ডেস্ক
দেশের মানুষের স্বার্থ রক্ষায় বিরোধী দলের সঙ্গে যেকোনো গঠনমূলক আলোচনার ব্যাপারে সম্মতি প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান। বুধবার (২২ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে সংসদ নেতার নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্ব ও পরবর্তী আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এই আগ্রহের কথা জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশ ও জাতির কল্যাণে যেকোনো রাজনৈতিক দলের দেওয়া বাস্তবসম্মত প্রস্তাব গ্রহণ ও বাস্তবায়নে বর্তমান সরকার আন্তরিক।
সংসদে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্পষ্ট করেন যে, জাতীয় উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষা এবং জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সবসময়ই আলোচনার দ্বার উন্মুক্ত রাখতে বিশ্বাসী। তিনি বলেন, ‘দেশ ও দেশের মানুষের কোনো বিষয় যদি আমাদের সামনে কেউ উপস্থাপন করেন এবং সেই স্বার্থ রক্ষায় কোনো সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা, পরামর্শ বা সুপারিশ দেন, তবে আমরা সবসময় সেই বিষয়ে আলোচনা করতে প্রস্তুত। আমরা যে অবস্থানেই থাকি না কেন, দেশের স্বার্থকে সবসময় প্রাধান্য দেওয়া হবে।’
অধিবেশন চলাকালীন বিরোধীদলীয় নেতার একটি প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী সংসদ নেতা হিসেবে ইতিবাচক সাড়া দেন। বিরোধী দলের পক্ষ থেকে সরকারি ও বিরোধী দল মিলে জনগুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে আলোচনার যে আহ্বান জানানো হয়েছে, তাকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা অবশ্যই বিরোধী দলকে আলোচনার জন্য আমন্ত্রণ জানাব। আমরা তাঁদের প্রস্তাবগুলো খতিয়ে দেখব। যদি সেই প্রস্তাবগুলোর মধ্যে বাস্তবতার নিরিখে জনকল্যাণমূলক কোনো দিক থাকে এবং তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়, তবে সরকার অবশ্যই তা গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করবে।’
সংসদীয় গণতন্ত্রের চর্চা এবং জনপ্রতিনিধিদের দায়বদ্ধতার বিষয়ে আলোকপাত করে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, সংসদ সদস্যরা কে কোন আসনে বসছেন বা কোন দলের প্রতিনিধিত্ব করছেন, তার চেয়ে বড় পরিচয় তাঁরা জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধি। তিনি বলেন, ‘জনগণ আমাদের এই সংসদে পাঠিয়েছে তাঁদের স্বার্থ দেখাশোনা করার জন্য। কাজেই বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থ যেখানে জড়িত, সেখানে কোনো ধরনের সংকীর্ণতার অবকাশ নেই।’
চলমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি এবং জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ কিছু অমীমাংসিত ইস্যু নিয়ে সংসদে দীর্ঘ আলোচনার প্রসঙ্গ টেনে তারেক রহমান বলেন, নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য থাকা স্বাভাবিক। তবে সেই মতপার্থক্য যেন দেশহিতৈষী কাজে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়। তিনি বর্তমান বিশ্ব রাজনীতির অস্থিরতা ও বাস্তবতাকে বিবেচনায় নিয়ে দেশের অভ্যন্তরীণ ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যে পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে বিশ্ব আজ অতিবাহিত হচ্ছে, সেখানে প্রতিটি দেশের জন্য অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা ও সংহতি অত্যন্ত জরুরি। আজকের সংসদীয় আলোচনার মাধ্যমে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়েছে যে, আমাদের মধ্যে যত মতভেদই থাকুক না কেন, দেশের সার্বভৌমত্ব এবং মানুষের অধিকার রক্ষার প্রশ্নে আমরা সবাই একমত।’
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংসদ নেতার এই উদার ও আলোচনার মুখী অবস্থান দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে নতুন গতির সঞ্চার করতে পারে। বিশেষ করে বড় নীতি নির্ধারণী বিষয়ে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে বিদ্যমান দূরত্ব কমিয়ে আনতে এই সংলাপের প্রস্তাব কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। জাতীয় সংকটে বা গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তে রাজনৈতিক ঐক্যমত্য প্রতিষ্ঠা করা গেলে তা দীর্ঘমেয়াদে সুশাসন নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।
সংসদ নেতার এই বক্তব্যের পর এখন বিরোধী দলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রস্তাব বা আলোচনার দিনক্ষণ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যকার এই সম্ভাব্য সমন্বয় জনবান্ধব আইন প্রণয়ন এবং নীতি বাস্তবায়নে সংসদকে আরও কার্যকর করে তুলবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।