রাজনীতি ডেস্ক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংরক্ষিত নারী আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশের পর নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস। তিনি জানিয়েছেন, দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে তাকে সংরক্ষিত আসনে নির্বাচনের প্রস্তাব দেওয়া হলেও ব্যক্তিগত ও পারিবারিক প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে তিনি নিজেই সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছেন।
গত সোমবার (২০ এপ্রিল) সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে আফরোজা আব্বাস উল্লেখ করেন, সংরক্ষিত নারী আসনে তিনি কখনোই মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন না। তবে দলের পক্ষ থেকে তাকে যে গুরুত্ব ও সম্মান প্রদর্শন করা হয়েছে, তার জন্য তিনি দলীয় মহাসচিবের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি জানান, সাম্প্রতিক সময়ে মনোনয়ন পাওয়া নিয়ে তার সম্পর্কে বিভিন্ন মাধ্যমে যে সকল তথ্য প্রচারিত হচ্ছে, তার অধিকাংশেরই কোনো ভিত্তি নেই। এসব বিভ্রান্তিকর তথ্য তার রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে বলে তিনি দাবি করেন।
আফরোজা আব্বাস তার বিবৃতিতে উল্লেখ করেন, বর্তমানে তিনি এক কঠিন পারিবারিক সময় অতিবাহিত করছেন। তার স্বামী এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের অসুস্থতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এই মুহূর্তে আমার একমাত্র ও প্রধান অগ্রাধিকার হলো স্বামীর সেবা ও তার সুস্থতা নিশ্চিত করা। গভীর মানসিক উদ্বেগের মধ্য দিয়ে যাওয়ার কারণে এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়।”
জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা এই নেত্রী তার বিবৃতিতে নবনির্বাচিত ও মনোনয়নপ্রাপ্ত নারীদের প্রতি অভিনন্দন জানান। তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন যে, যারা নির্বাচিত হয়েছেন তারা বাংলাদেশের নারী সমাজের অধিকার রক্ষা, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং নারীর মর্যাদা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সংসদে সোচ্চার ভূমিকা পালন করবেন। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের কিশোরীদের শিক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনার জন্য তিনি আহ্বান জানান। একইসঙ্গে যারা মনোনয়ন পাননি, তাদের হতাশ না হয়ে ধৈর্য ধরার পরামর্শ দেন তিনি।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি বিএনপি তাদের সংরক্ষিত নারী আসনের ৩৬ জন প্রার্থীর চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করে। এই তালিকায় মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাসসহ বেশ কয়েকজন পরিচিত নেত্রী ও শিল্পীর নাম না থাকায় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়। মনোনয়নবঞ্চিতদের তালিকায় সৈয়দা আসিফা আশরাফি পাপিয়া, সংগীতশিল্পী কনকচাঁপা, বেবী নাজনীন এবং রিজিয়া পারভীনের মতো নামগুলো আলোচনায় আসে। তবে আফরোজা আব্বাসের এই বিবৃতির মাধ্যমে এটি স্পষ্ট হলো যে, দলের শীর্ষ পর্যায় তাকে মনোনয়ন দিতে চাইলেও তিনি স্বেচ্ছায় তা গ্রহণ করেননি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের এই নেত্রীর নির্বাচন থেকে দূরে থাকার সিদ্ধান্ত দলের ভেতরে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করলেও তার স্পষ্ট অবস্থান বিভ্রান্তি দূর করতে সহায়ক হবে। সংরক্ষিত আসনে যোগ্য নেতৃত্ব নিশ্চিত করা এবং তৃণমূলের দাবি পূরণ করাই এখন দলটির সামনে বড় চ্যালেঞ্জ। আফরোজা আব্বাস দলমত ও বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে বাংলাদেশের প্রতিটি নারীর জন্য সমান অধিকার এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সকল জনপ্রতিনিধিকে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তার বিবৃতি শেষ করেন।