জাতীয় ডেস্ক
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর পৈতৃক নিবাস বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ীতে চৌকিদহ খাল খনন কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন। সোমবার বেলা পৌনে ৪টার দিকে উপজেলার নশিপুরে কোদাল দিয়ে মাটি কেটে তিনি এই খনন কাজের সূচনা করেন। দেশের কৃষি ব্যবস্থার উন্নয়ন ও সেচ সুবিধা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে গৃহীত জাতীয় মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই কর্মসূচি পালিত হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর বগুড়ায় এটিই তাঁর প্রথম আনুষ্ঠানিক সফর। এই সফরকে কেন্দ্র করে স্থানীয় প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা পরিলক্ষিত হয়। দুপুর গড়াতেই তিনি নশিপুরে নির্ধারিত অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছান এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে উন্নয়নমূলক এই কাজের উদ্বোধন করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বগুড়া-৭ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য মো. মোরশেদ মিলটন, জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমান এবং কেন্দ্রীয় কৃষকদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. হেলালুজ্জামান তালুকদারসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ। খাল খনন কার্যক্রম পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করার এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার নির্দেশনা প্রদান করেন।
খাল খনন কর্মসূচি উদ্বোধনের আগে প্রধানমন্ত্রী বাগবাড়ীর শহীদ জিয়া ডিগ্রি কলেজ মাঠে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে নিম্ন আয়ের মানুষের মাঝে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ করেন। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ নিশ্চিত করতে এবং সামাজিক সুরক্ষা বেষ্টনী শক্তিশালী করতে সরকারের এই উদ্যোগটি স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে। কার্ড বিতরণকালে তিনি সাধারণ মানুষের সাথে সংক্ষিপ্ত কুশল বিনিময় করেন এবং সরকারের জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের সুবিধা সরাসরি সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
এর আগে সকাল ৯টা ৫৮ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী বিশেষ নিরাপত্তায় বগুড়া সার্কিট হাউসে পৌঁছান। সেখানে তাঁকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। সার্কিট হাউসে অবস্থানকালে তিনি জেলা পর্যায়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় করেন এবং জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের খোঁজখবর নেন।
সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, চৌকিদহ খালের এই খনন কার্যক্রম সম্পন্ন হলে এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনের পাশাপাশি শুষ্ক মৌসুমে সেচ কাজে ব্যাপক পরিবর্তন আসবে। এটি স্থানীয় কৃষি উৎপাদনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং কৃষকদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। দেশের নদ-নদী ও খাল-বিল পুনরুজ্জীবিত করার মাধ্যমে পানির স্তর সুরক্ষা এবং পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রাখাই এই খনন প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।
প্রধানমন্ত্রীর এই সফর এবং উন্নয়নমূলক কর্মসূচির উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে জেলা জুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। কর্মসূচি শেষে তিনি সড়ক পথে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে। সরকারের উচ্চপর্যায়ের এই সফর স্থানীয় অবকাঠামো উন্নয়নে নতুন গতির সঞ্চার করবে বলে আশা করা হচ্ছে।