জাতীয় ডেস্ক
সারা দেশে একযোগে শুরু হয়েছে ২০২৬ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমান পরীক্ষা। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকাল ১০টা থেকে শুরু হওয়া এই পরীক্ষায় ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ১৮ লাখ ৫০ হাজারের বেশি পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। ৩০ হাজার ৬৬৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা মোট ৩ হাজার ৮৮৫টি কেন্দ্রে পরীক্ষায় অবতীর্ণ হয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, প্রথম দিনে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে বাংলা প্রথম পত্র, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে দাখিলে কুরআন মাজিদ ও তাজভিদ এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি ও দাখিল (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় বাংলা-২ বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সকাল ১০টায় শুরু হওয়া এই পরীক্ষা বিরতিহীনভাবে দুপুর ১টা পর্যন্ত চলবে।
প্রতি বছর পাবলিক পরীক্ষা শুরুর দিন শিক্ষামন্ত্রী রাজধানীর কোনো একটি কেন্দ্র আনুষ্ঠানিকভাবে পরিদর্শনে যান এবং পরীক্ষা শুরুর আগে বা পরে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন। তবে এবার শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের কেন্দ্র পরিদর্শনের বিষয়টি অত্যন্ত গোপনীয় রাখা হয়েছে। তিনি ঠিক কোন কেন্দ্রে পরিদর্শনে যাবেন, সে বিষয়ে মন্ত্রণালয় থেকে আগেভাগে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য সরবরাহ করা হয়নি। এমনকি তিনি রাজধানীর কোনো কেন্দ্রে থাকবেন নাকি ঢাকার বাইরে ঝটিকা সফরে যাবেন, সে বিষয়েও মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নিশ্চিত করে কিছু জানাননি।
মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ বিভাগ ও মন্ত্রীর একান্ত সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, পরীক্ষার স্বচ্ছতা রক্ষা এবং কেন্দ্রগুলোতে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে মন্ত্রী এবার ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করছেন। কেন্দ্র পরিদর্শনের সূচি গোপন রাখার মাধ্যমে মূলত সারা দেশের পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোর প্রকৃত অবস্থা পর্যবেক্ষণ এবং দায়িত্ব পালনে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক রাখাই এই গোপনীয়তার মূল উদ্দেশ্য।
উল্লেখ্য, ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন ২০০১-২০০৬ মেয়াদে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে সারা দেশে নকলবিরোধী অভিযানে ব্যাপক ভূমিকা রেখেছিলেন। সে সময় তিনি হেলিকপ্টার যোগে দেশের বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চলের পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোতে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে নকল প্রতিরোধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেন। দ্বিতীয় মেয়াদে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ার পর এবারও তিনি বিভিন্ন জেলা পর্যায়ে আকস্মিক পরিদর্শনে যেতে পারেন বলে সম্প্রতি সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।
শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, মন্ত্রীর এই আকস্মিক পরিদর্শন পদ্ধতি কেন্দ্র সচিব ও হল পরিদর্শকদের ওপর এক ধরনের ইতিবাচক মানসিক চাপ তৈরি করে। এতে পরীক্ষার হলগুলোতে অনিয়ম বা অব্যবস্থাপনার সুযোগ কমে আসে এবং প্রশ্নপত্র ফাঁস কিংবা উত্তরপত্র সরবরাহের মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড রোধ করা সম্ভব হয়।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এবারের পরীক্ষা সুষ্ঠু ও প্রশ্ন ফাঁসমুক্ত পরিবেশে সম্পন্ন করতে সব ধরনের প্রশাসনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। প্রশ্নপত্র বিতরণের ৩০ মিনিট আগে পরীক্ষার্থীদের অবশ্যই নিজ নিজ কেন্দ্রে আসন গ্রহণ করার নির্দেশনা কার্যকর ছিল। এছাড়া পরীক্ষা কেন্দ্রের ২০০ গজের মধ্যে সাধারণ জনগণের প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
বিগত কয়েক বছরের তুলনায় এবারের পরীক্ষার্থীর সংখ্যা এবং কেন্দ্রের ব্যবস্থাপনা পর্যালোচনায় দেখা যায়, অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি পাওয়ায় পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোতে বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। তবে কেন্দ্র পরিদর্শনে শিক্ষামন্ত্রীর এই ‘সারপ্রাইজ ভিজিট’ বা আকস্মিক সফরের বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট সকল শিক্ষা বোর্ডে বিশেষ সতর্কতা বিরাজ করছে। পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর বিকেলের দিকে মন্ত্রণালয় থেকে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত ব্রিফিং প্রদান করা হতে পারে।