সারাদেশ ডেস্ক
নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলায় এক মর্মান্তিক ও চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (২০ এপ্রিল) দিবাগত রাতে উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামে দুর্বৃত্তরা একই পরিবারের চার সদস্যকে গলাকেটে হত্যা করেছে। নিহতদের মধ্যে স্বামী-স্ত্রী ও তাদের দুই শিশু সন্তান রয়েছে। চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় গভীর শোক ও তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছে।
নিহতরা হলেন— বাহাদুরপুর গ্রামের বাসিন্দা হাবিবুর রহমান (৩৫), তার স্ত্রী পপি সুলতানা (২৮), তাদের ১০ বছর বয়সী ছেলে পারভেজ এবং মাত্র ৩ বছর বয়সী কন্যা সন্তান সাদিয়া আক্তার। মঙ্গলবার সকালে থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাতে প্রতিদিনের ন্যায় পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নিজ ঘরে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন হাবিবুর রহমান। মঙ্গলবার ভোরে স্থানীয় এক বৃদ্ধা ওই বাড়ির পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় ঘরের দরজা খোলা দেখতে পান। সন্দেহবশত তিনি ঘরের ভেতরে গিয়ে হাবিবুর রহমানসহ তার স্ত্রী ও দুই সন্তানের রক্তাক্ত ও নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে চিৎকার শুরু করেন। তার আর্তচিৎকারে গ্রামের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং পুলিশকে খবর দেন। সংবাদ পেয়ে সকাল ৮টার দিকে নিয়ামতপুর থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে এবং মরদেহগুলো উদ্ধার করে।
প্রাথমিক তদন্ত ও স্থানীয়দের বর্ণনায় উঠে এসেছে যে, অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করা হয়েছে। মরদেহের জখমের ধরন দেখে ধারণা করা হচ্ছে, গভীর রাতে যখন পরিবারের সদস্যরা গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ছিলেন, তখনই দুর্বৃত্তরা ঘরে প্রবেশ করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাদের গলা কেটে মৃত্যু নিশ্চিত করে। তবে হত্যার মূল কারণ সম্পর্কে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। গ্রামবাসীর একাংশের ধারণা, দীর্ঘদিনের জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ অথবা পারিবারিক কোনো শত্রুতার জেরে এই নৃশংস ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। পুলিশও এই দিকটি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখছে।
নিয়ামতপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাসহ অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ও পিবিআই-এর বিশেষ টিমকে অবহিত করা হয়েছে। ইতিমধ্যে মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য নওগাঁ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। অপরাধীদের শনাক্ত করতে পুলিশ প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করছে।
তিনি আরও বলেন, “এটি একটি অত্যন্ত নৃশংস ও বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ড। ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ শুরু করেছে। আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং আমরা আশা করছি খুব দ্রুতই অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হবো।”
এদিকে, একই পরিবারের চারজনকে এভাবে হত্যার ঘটনায় বাহাদুরপুর গ্রামসহ পুরো উপজেলায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। নিহতের স্বজন ও প্রতিবেশীদের মাঝে শোকের মাতম চলছে। তারা এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিষয়টি তদন্তের অনুরোধ করেছেন। প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলে এবং অধিকতর তদন্ত সম্পন্ন হলে হত্যার প্রকৃত মোটিভ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।