শিক্ষা ডেস্ক
সারা দেশে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ২০২৬ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমান পরীক্ষা শুরু হয়েছে। আজ মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে ৩ হাজার ৮৮৫টি কেন্দ্রে একযোগে এই পরীক্ষা শুরু হয়। এতে দেশের ৩০ হাজার ৬৬৬টি সাধারণ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মোট ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, দুপুর ১টায় প্রথম দিনের পরীক্ষা শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির তথ্য অনুযায়ী, প্রথম দিনে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে বাংলা প্রথম পত্রের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। অন্যদিকে, মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে দাখিল পরীক্ষায় প্রথম দিনে কোরআন মাজিদ ও তাজভিদ এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি ও দাখিল ভোকেশনাল পরীক্ষায় বাংলা-২ বিষয়ের পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। এ বছর মোট পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৯টি সাধারণ বোর্ডে ১৪ লাখ ১৮ হাজার ৩৯৮ জন, মাদরাসা বোর্ডে ৩ লাখ ৪ হাজার ২৮৬ জন এবং কারিগরি বোর্ডে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬৬০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, এবার নিয়মিত পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১৪ লাখ ৪৮ হাজার ৫১১ জন। এছাড়া অনিয়মিত পরীক্ষার্থী হিসেবে অংশ নিচ্ছে ৪ লাখেরও বেশি শিক্ষার্থী, যাদের মধ্যে ২ লাখ ৬১ হাজারের বেশি পরীক্ষার্থী এক বা একাধিক বিষয়ে অকৃতকার্য হয়ে পুনরায় পরীক্ষায় বসছে।
পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে এবং প্রশ্নপত্র ফাঁস কিংবা ডিজিটাল জালিয়াতি রোধে সরকার এবার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন পরীক্ষা শুরুর প্রাক্কালে কেন্দ্রগুলোতে বিশেষ নজরদারি এবং যেকোনো ধরনের ডিভাইসের অবৈধ ব্যবহার রোধে কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেছেন। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা প্রতিটি কেন্দ্রের বাইরে অবস্থান নিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করছেন এবং কেন্দ্রের ২০০ গজের মধ্যে সাধারণের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্নপত্র নিয়ে গুজব ছড়ানো রোধে সরকারের সাইবার মনিটরিং সেল সক্রিয় রয়েছে।
রাজধানীর কেন্দ্রগুলো পরিদর্শন করে দেখা গেছে, প্রথম দিনের পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক তৎপরতা কাজ করছে। যানজট এড়াতে অনেক পরীক্ষার্থীকে সকাল সাড়ে ৭টা থেকেই কেন্দ্রের সামনে অপেক্ষা করতে দেখা যায়। আজ ঢাকার আবহাওয়া তুলনামূলক সহনীয় থাকায় দীর্ঘ সময় কেন্দ্রের বাইরে অপেক্ষায় থাকা অভিভাবকদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি পরিলক্ষিত হয়েছে। তবে রাজধানীর কোনো কোনো এলাকায় যানজটের কারণে কেন্দ্রে পৌঁছাতে বেগ পেতে হয়েছে বলে অনেক অভিভাবক অভিযোগ করেছেন। বিশেষ করে মিরপুর, উত্তরা ও যাত্রাবাড়ী এলাকায় পরীক্ষার্থীদের যাতায়াতে কিছুটা বিলম্ব হলেও নির্ধারিত সময়ের আগেই সবাই কেন্দ্রে প্রবেশ করতে সক্ষম হয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, এবারের পরীক্ষায় প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিশেষ ট্র্যাকিং ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়েছে। পরীক্ষার্থীরা যাতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পরীক্ষা দিতে পারে, সেজন্য কেন্দ্র সচিবদের বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কোনো কেন্দ্রে অনিয়ম বা অব্যবস্থাপনার অভিযোগ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসকদের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত সক্রিয় রয়েছে। আগামী মাসজুড়ে লিখিত পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর ব্যবহারিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। মাধ্যমিক পর্যায়ের এই বৃহত্তম পাবলিক পরীক্ষা জাতীয় শিক্ষাব্যবস্থায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় এর ফলাফল এবং সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করাকে সরকার অগ্রাধিকার দিচ্ছে।