আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপকে সামনে রেখে কানাডার টরন্টো শহরে ব্যাপক নিরাপত্তা প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোর সঙ্গে যৌথভাবে আয়োজিত এই আন্তর্জাতিক আসরকে ঘিরে ইতোমধ্যে শহরজুড়ে সমন্বিত নিরাপত্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। বিশ্বকাপের ম্যাচ শুরু হতে প্রায় ৬০ দিনেরও কম সময় বাকি থাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আগাম প্রস্তুতি জোরদার করেছে।
টরন্টো পুলিশ জানিয়েছে, বিশ্বকাপ চলাকালে শহরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা বহুগুণে বাড়ানো হবে। একই সঙ্গে বড় ধরনের জনসমাগম এবং আন্তর্জাতিক মনোযোগের কারণে বিভিন্ন ধরনের প্রতিবাদ ও বিক্ষোভের সম্ভাবনাও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় একটি সমন্বিত ও বহুমাত্রিক নিরাপত্তা পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে।
পুলিশের প্রকাশিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, চারটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা বিশেষ নজরদারির আওতায় রাখা হবে। এর মধ্যে রয়েছে ম্যাচ ভেন্যু স্টেডিয়াম, ডাউনটাউন এলাকায় আয়োজিত ফ্যান ফেস্টিভ্যাল জোন, নর্থ ইয়র্কের ডাউনসভিউ পার্ক এবং ইটোবিকোর সেঞ্চেনিয়াল পার্ক। এসব স্থানে দর্শনার্থীদের ভিড় বেশি হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় সেখানে অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হবে এবং নজরদারি প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হবে।
নিরাপত্তা কার্যক্রমে টরন্টো পুলিশের পাশাপাশি কানাডার ফেডারেল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী রয়্যাল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশ (আরসিএমপি), ডারহাম, ইয়র্ক, পিল এবং অন্টারিও প্রভিনশিয়াল পুলিশ যৌথভাবে কাজ করবে। এ ছাড়া বিশেষায়িত ইউনিট হিসেবে কুকুর ইউনিট, ঘোড়সওয়ার পুলিশ, মেরিন ইউনিট এবং বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয়করণ দল মাঠে সক্রিয় থাকবে। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত সাড়া দেওয়ার জন্য এসব ইউনিটকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বকাপ উপলক্ষে টরন্টোতে আন্তর্জাতিক দর্শনার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। ধারণা করা হচ্ছে, মোট টিকিটধারীদের প্রায় ৭০ শতাংশই বিদেশি দর্শক হতে পারেন। ফলে শহরের বিভিন্ন এলাকায় জনসমাগম বৃদ্ধি পাবে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থায় অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হতে পারে। এই পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত জনবল ও প্রযুক্তিগত সহায়তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
একজন দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তা জানান, বিশ্বব্যাপী এই আয়োজনের ওপর আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের ব্যাপক নজর থাকবে। ফলে নিরাপত্তা ঝুঁকি, সম্ভাব্য বিক্ষোভ এবং অন্যান্য অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। প্রয়োজনে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সড়ক বন্ধ রাখা, যান চলাচলে নিয়ন্ত্রণ আরোপ এবং ট্রাফিক ব্যবস্থায় সাময়িক পরিবর্তন আনা হতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
কানাডা সরকারের তথ্য অনুযায়ী, টরন্টো শহরে বিশ্বকাপের মোট ছয়টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে কানাডা জাতীয় দলের উদ্বোধনী ম্যাচও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা স্থানীয়ভাবে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। এ আয়োজনকে কেন্দ্র করে শহরের অবকাঠামো, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং পর্যটন খাতে ইতোমধ্যে প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিকভাবে শিল্প, খাদ্যসংস্কৃতি এবং বিনোদনের জন্য পরিচিত টরন্টো শহর বিশ্বকাপ উপলক্ষে আরও বৃহৎ পরিসরে বৈশ্বিক দর্শনার্থীদের স্বাগত জানাতে প্রস্তুত হচ্ছে। নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনার সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে আয়োজক কর্তৃপক্ষ একটি সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ আয়োজন নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে।