বরিশাল — জেলা প্রতিনিধি
পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী বলেছেন, বাংলা সংস্কৃতির ঐতিহ্য ধারণ করে জাতি গঠনের পথে এগিয়ে যেতে হবে। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে জিয়ানগর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত বৈশাখী মেলায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। স্থানীয় প্রশাসন ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বাংলা নববর্ষ উদযাপনকে কেন্দ্র করে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও লোকজ ঐতিহ্য প্রদর্শিত হয়।
অনুষ্ঠানে মাসুদ সাঈদী বলেন, বাঙালি জাতির পরিচয়ের অন্যতম ভিত্তি হলো তার ভাষা ও সংস্কৃতি। তাই এ ঐতিহ্যকে ধারণ করে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। তিনি বলেন, বৈশাখের তাৎপর্য ও গুরুত্ব অনুধাবন করে সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে সবাইকে ভূমিকা রাখতে হবে। তার মতে, নতুন প্রজন্মের মধ্যে দেশীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের চর্চা আরও বিস্তৃত করা প্রয়োজন, যাতে তারা নিজেদের শিকড়ের সঙ্গে সংযুক্ত থাকতে পারে।
তিনি আরও বলেন, তরুণ ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেশীয় সংস্কৃতির চর্চা জোরদার করা প্রয়োজন। তার বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, একটি জাতির টিকে থাকার ক্ষেত্রে তার নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ কারণে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে দেশীয় ঐতিহ্যকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
পাশাপাশি তিনি সাংস্কৃতিক প্রভাব প্রসঙ্গে মন্তব্য করে বলেন, সমাজে বিদেশি সংস্কৃতির প্রভাব বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা দেশীয় সংস্কৃতির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। এ বিষয়ে সচেতন থেকে নিজস্ব সংস্কৃতি সংরক্ষণ ও চর্চার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। এ সময় তিনি সমাজের সকল স্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশপ্রেম ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ সমুন্নত রাখার আহ্বান জানান।
উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এ বৈশাখী মেলায় স্থানীয় শিল্পীরা লোকসংগীত, নৃত্য ও ঐতিহ্যবাহী পরিবেশনায় অংশ নেন। মেলা প্রাঙ্গণে গ্রামীণ হস্তশিল্প, ঐতিহ্যবাহী খাবার ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক উপকরণ প্রদর্শিত হয়, যা উপস্থিত দর্শনার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করে। পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এ ধরনের অনুষ্ঠান গ্রামীণ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বলে আয়োজকরা মনে করেন।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। তারা নববর্ষের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বাংলা নববর্ষ বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। এ দিনকে কেন্দ্র করে সারাদেশে বিভিন্ন স্থানে বৈশাখী মেলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও লোকজ উৎসবের আয়োজন করা হয়, যা দেশের গ্রামীণ ও শহুরে সংস্কৃতির সমন্বয়কে প্রতিফলিত করে। জিয়ানগর উপজেলার এ আয়োজনও সেই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে স্থানীয় জনগণের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি করে।