বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান জানিয়েছেন, প্রান্তিক, ক্ষুদ্র ও মাঝারি কৃষকদের জন্য বছরে ২ হাজার টাকা করে প্রণোদনা প্রদান করা হবে। এ খাতে উন্নয়ন বাজেট থেকে মোট ১ হাজার ১৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বুধবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি সরকারের বিভিন্ন চলমান কার্যক্রমের অগ্রগতি তুলে ধরেন।
প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীনে “কৃষক কার্ড” বিতরণ কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। পাইলট প্রকল্প হিসেবে দেশের আটটি বিভাগে ২১ হাজার ১৪ জন কৃষককে এই কার্ড প্রদান করা হবে। প্রাথমিক পর্যায়ের এই কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে আগামী অর্থবছর থেকে এর পরিধি বৃদ্ধি করা হবে এবং ধাপে ধাপে আরও বেশি কৃষককে এর আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষিঋণ প্রাপ্তির সুযোগ আরও সহজ হবে বলে জানানো হয়, যা কৃষকের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ও সেবা প্রাপ্তি প্রক্রিয়াকে ডিজিটাল ও স্বচ্ছ করার একটি উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ভূমি মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম প্রসঙ্গে তিনি জানান, “জলমহল আইন ২০২৬” প্রণয়নের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় অব্যাহত রয়েছে। প্রস্তাবিত আইনের মাধ্যমে জেলে ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার সুরক্ষার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। একই সঙ্গে জলমহলের ইজারা প্রথা সংস্কার বা পর্যায়ক্রমে বিলুপ্ত করার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, এ ধরনের নীতি পরিবর্তন বাস্তবায়িত হলে জলমহল ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পেতে পারে এবং স্থানীয় মৎস্যজীবীদের অংশগ্রহণ আরও জোরদার হতে পারে।
ধর্ম মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত বিষয়ে উপদেষ্টা জানান, চলতি বছর মোট ৭৮ হাজার ৮০০ জন হজযাত্রী হজ পালন করবেন। ইতোমধ্যে হজ ফ্লাইট কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং যাত্রীদের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। হজ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে বিমান পরিবহন, স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও প্রশাসনিক সমন্বয় জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
স্বাস্থ্য খাত প্রসঙ্গে তিনি জানান, টিকাদান কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। টিকার কার্যকারিতা নিশ্চিত হতে সময় প্রয়োজন হওয়ায় জনগণকে ধৈর্য ধারণ করার আহ্বান জানানো হয়। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখে, বিশেষ করে সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে এটি গুরুত্বপূর্ণ।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে তিনি জানান, সম্ভাব্য ভূমিকম্প মোকাবিলায় ১ লাখ ৪৫ হাজার স্বেচ্ছাসেবকের একটি তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। ভবন নির্মাণে বিল্ডিং কোড বাস্তবায়ন ও মান নিয়ন্ত্রণের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে, যা দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসে সহায়ক হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে “জিরো টলারেন্স” নীতি অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। পাশাপাশি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযানও চলমান রয়েছে। পরিবেশ সুরক্ষার ক্ষেত্রে ইটভাটায় কৃষিজমির মাটি ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং পাহাড় কাটা প্রতিরোধে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
নারী ও শিশু সুরক্ষা সংক্রান্ত বিষয়ে তিনি জানান, “নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) আইন ২০২৬” অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া, সাক্ষী সুরক্ষা এবং ডিজিটাল প্রমাণ ব্যবহারের বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি নারীদের বিরুদ্ধে সাইবার বুলিং প্রতিরোধে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে একটি বিশেষ সেল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
সবশেষে তিনি জানান, সরকার বিভিন্ন খাতে গৃহীত উন্নয়ন ও নীতিগত উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে সেবা খাতকে আরও কার্যকর ও জনমুখী করার লক্ষ্যে কাজ করছে।