বাংলাদেশ ডেস্ক
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু জানিয়েছেন, বায়ু, পানি ও শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণে অবৈধ দূষণকারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে শিল্পকারখানার তরল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, অবৈধ ইটভাটা নিয়ন্ত্রণ এবং শব্দ দূষণ হ্রাসে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে কুষ্টিয়া-৪ আসনের বিরোধী দলের (জামায়াতে ইসলামী) সদস্য মো. আফজাল হোসেনের এক তারকাচিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, পরিবেশ দূষণ প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে এবং আইন বাস্তবায়নে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে।
মন্ত্রী জানান, পানি দূষণ নিয়ন্ত্রণে তরল বর্জ্য নির্গমনকারী শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোতে ইটিপি (Effluent Treatment Plant) স্থাপনে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিল্পবর্জ্য যথাযথভাবে পরিশোধন না করে নদী ও জলাশয়ে ফেলার প্রবণতা রোধে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বায়ু দূষণ নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অবৈধ ইটভাটাগুলোর বিরুদ্ধে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমে ইটভাটার কার্যক্রম বৃদ্ধি পাওয়ায় বায়ুদূষণের মাত্রা বেড়ে যায়। এ অবস্থায় পরিবেশ অধিদপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে অভিযান জোরদার করা হয়েছে।
মন্ত্রী আরও জানান, চলতি ইটভাটা মৌসুমে নভেম্বর ২০২৫ থেকে মার্চ ২০২৬ সময়কালে পরিচালিত অভিযানে ১১টি অবৈধ ইটভাটা সম্পূর্ণভাবে ভেঙে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি একটি ইটভাটার বিরুদ্ধে এক লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। তিনি বলেন, অবৈধভাবে পরিচালিত ইটভাটার বিরুদ্ধে এই ধরনের ব্যবস্থা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের তথ্য তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, ১ জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ১৫টি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং ৩০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। একই সময়ে ৩২টি হাইড্রোলিক হর্ন জব্দ করে বিনষ্ট করা হয়েছে। শব্দ দূষণ রোধে জনসচেতনতা বাড়াতে নিয়মিতভাবে লিফলেট বিতরণ কার্যক্রমও পরিচালনা করা হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে বায়ু ও শব্দ দূষণ দীর্ঘদিন ধরে একটি গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষ করে নগর ও শিল্পাঞ্চলে যানবাহনের হর্ন, অবৈধ ইটভাটা এবং অপরিকল্পিত শিল্পকারখানা থেকে নির্গত দূষণ পরিবেশের মানকে প্রভাবিত করছে। এ অবস্থায় ইটিপি স্থাপন ও মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে আইন প্রয়োগকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সরকারি সূত্রে জানা যায়, পরিবেশ অধিদপ্তর বিভিন্ন সময় মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন বাস্তবায়ন করে থাকে। এর আওতায় অবৈধ ইটভাটা উচ্ছেদ, শিল্পকারখানার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হয়।
সংসদে মন্ত্রীর দেওয়া এ বক্তব্যের মাধ্যমে সরকারের পরিবেশ সংরক্ষণ কার্যক্রম ও চলমান অভিযানের একটি সামগ্রিক চিত্র উঠে এসেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আইন প্রয়োগের পাশাপাশি শিল্পখাতে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহারের বিস্তার ঘটলে দূষণ নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘমেয়াদে ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।