1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:২৩ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
সরকারি চাকরিতে ৫ লাখ শূন্য পদে বিশাল নিয়োগের প্রস্তুতি: জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চিঠি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফাঁদ পেতে ধর্ষণ ও ব্ল্যাকমেইল: যাত্রাবাড়ীতে গ্রেপ্তার ১ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সৌদি আরব সফর, বৈদেশিক মুদ্রা সহায়তা ও আঞ্চলিক কূটনীতিতে গুরুত্ব দেশে জ্বালানি তেলের মজুত নিয়ে উদ্বেগের কারণ নেই: জ্বালানি মন্ত্রণালয় কৃষক প্রণোদনা ও কৃষি কার্ড কার্যক্রম শুরু, বিভিন্ন খাতে সরকারের অগ্রগতি তুলে ধরা হলো কৃষকদের সার ও বীজ সরবরাহ নিশ্চিত করতে নতুন নীতিমালা ও কঠোর মনিটরিং ব্যবস্থা গ্রহণের ঘোষণা প্রতি উপজেলায় মাল্টিপারপাস পরীক্ষা কেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা সরকারের পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণে মোবাইল কোর্টের কার্যক্রম জোরদার, ১১টি অবৈধ ইটভাটা ভেঙে দেওয়া হয়েছে ইরান পরিস্থিতিতে মধ্যস্থতাকারীদের ব্যস্ততা, ইউক্রেনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের মনোযোগ কমে যাওয়ার অভিযোগ জেলেনস্কির প্রত্যেক শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য নির্বাচনী ম্যানিফেস্টোতে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি রয়েছে: প্রধানমন্ত্রী

ইরান পরিস্থিতিতে মধ্যস্থতাকারীদের ব্যস্ততা, ইউক্রেনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের মনোযোগ কমে যাওয়ার অভিযোগ জেলেনস্কির

রিপোর্টার
  • আপডেট : বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৪ বার দেখা হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি অভিযোগ করেছেন যে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি আলোচনাকারীরা বর্তমানে ইউক্রেন যুদ্ধ ইস্যুতে তুলনামূলকভাবে কম মনোযোগ দিচ্ছেন। তিনি বলেছেন, ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতাকারীরা এখন ইরান সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক আলোচনায় বেশি ব্যস্ত থাকায় ইউক্রেন সংকট ‘সময় ও গুরুত্বের দিক থেকে পিছিয়ে পড়ছে’।

মঙ্গলবার জার্মানির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম জেডডিএফকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি এ মন্তব্য করেন। তিনি জানান, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে মস্কোর সঙ্গে আলোচনায় যুক্ত মার্কিন মধ্যস্থতাকারী স্টিভ উইটকফ এবং জেরেড কুশনার বর্তমানে ইরান ইস্যুতে ধারাবাহিক কূটনৈতিক আলোচনায় যুক্ত আছেন। এ কারণে ইউক্রেন পরিস্থিতি নিয়ে তাদের সম্পৃক্ততা সীমিত হয়ে পড়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

জেলেনস্কি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা কেবল আলোচনায় সীমাবদ্ধ থাকলে এবং রাশিয়ার ওপর পর্যাপ্ত চাপ প্রয়োগ না করা হলে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তার মতে, মস্কোর ওপর কার্যকর চাপ প্রয়োগ ছাড়া শান্তি আলোচনায় অগ্রগতি অর্জন কঠিন হবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, চাপের অভাবে রাশিয়া যুদ্ধ অবসানের বিষয়ে কম আগ্রহী হয়ে উঠতে পারে।

এদিকে ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জেলেনস্কি। তিনি দাবি করেন, সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে ইউক্রেনে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহ ধীরগতিতে হচ্ছে, যা যুদ্ধক্ষেত্রে তাদের সক্ষমতার ওপর প্রভাব ফেলছে।

নরওয়ে সফরকালে এক সংবাদ সম্মেলনে জেলেনস্কি জানান, বিশেষ করে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য প্রয়োজনীয় প্যাট্রিয়ট PAC-3 এবং PAC-2 ইন্টারসেপ্টর মিসাইল সরবরাহে উল্লেখযোগ্য জটিলতা তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, এসব অস্ত্র ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, এবং সরবরাহে বিলম্ব দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ইউরোপীয় অংশীদারদের অর্থায়নে যুক্তরাষ্ট্র থেকে সামরিক সরঞ্জাম ক্রয়ের যে কর্মসূচি চালু রয়েছে, সেটিও বর্তমান পরিস্থিতিতে চাপের মধ্যে রয়েছে। তার ভাষায়, এই প্রক্রিয়ায় ধীরগতি ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতিকে প্রভাবিত করছে।

নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী জোনাস গার স্টোরের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে জেলেনস্কি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি শুরু হওয়ার পর থেকেই তিনি ধারণা করেছিলেন যে ইউক্রেনের জন্য কূটনৈতিক ও সামরিক সহায়তা ব্যবস্থায় কিছু জটিলতা তৈরি হতে পারে। তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি ইউক্রেনের জন্য অত্যন্ত কঠিন।

একই অনুষ্ঠানে নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী জানান, দুই দেশ প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদারে একটি যৌথ ঘোষণায় স্বাক্ষর করেছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা বাড়ানো এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা উন্নয়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। নরওয়ের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, ইউক্রেনীয় ড্রোন প্রযুক্তি ভবিষ্যতে নরওয়েতেও উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে, যা দুই দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতাকে নতুন মাত্রা দেবে।

এর আগে মঙ্গলবার জেলেনস্কি একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল নিয়ে জার্মানির বার্লিন সফর করেন। সফরকালে তিনি দেশটির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মেরৎসসহ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের চলমান পরিস্থিতি, সামরিক সহায়তা এবং ভবিষ্যৎ কৌশলগত সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়।

দুই পক্ষই পরবর্তীতে প্রতিরক্ষাকেন্দ্রিক একটি কৌশলগত অংশীদারিত্ব ঘোষণা করে, যার লক্ষ্য নিরাপত্তা সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদে সামরিক সক্ষমতা শক্তিশালী করা। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ পঞ্চম বছরে প্রবেশ করার প্রেক্ষাপটে এসব কূটনৈতিক তৎপরতা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যুদ্ধ পরিস্থিতি সমাধানে নতুন করে আলোচনার সুযোগ তৈরি করছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026