অর্থনীতি ডেস্ক
দেশে অকটেন, পেট্রোল ও ডিজেলসহ জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং আগামী দুই মাসেও সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকবে বলে জানিয়েছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ। একই সঙ্গে কৃষি খাতে ব্যবহৃত ডিজেলেও কোনো ঘাটতির আশঙ্কা নেই বলে দাবি করেছে মন্ত্রণালয়। বুধবার সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী এসব তথ্য জানান।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, দেশের বর্তমান জ্বালানি মজুত ও সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে আন্তর্জাতিক বাজার ও সরবরাহ শৃঙ্খলে অস্থিরতা তৈরি হলেও সরকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, গত ৩ মার্চ থেকে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত সারাদেশে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে জ্বালানি তেল সংক্রান্ত ৯১৬টি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এসব অভিযানে মোট ৩ হাজার ৫১০টি মামলা করা হয়েছে এবং ১ কোটি ৫৬ লাখ ৯০০ টাকা অর্থদণ্ড আদায় করা হয়েছে। পাশাপাশি ৪৫ জনকে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
অভিযান চলাকালে বিপুল পরিমাণ অবৈধভাবে মজুতকৃত জ্বালানি তেলও উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানান তিনি। উদ্ধারকৃত জ্বালানির মধ্যে রয়েছে ৩ লাখ ৬ হাজার লিটার ডিজেল, ৩৯ হাজার ৭৭৬ লিটার অকটেন, ৮৭ হাজার ৯৫৯ লিটার পেট্রোল এবং ৪৮ হাজার ৫০০ লিটার ফার্নেস ওয়েল। সব মিলিয়ে সারাদেশে মোট ৫ লাখ ৪২ হাজার ৩৬ লিটার অবৈধ জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়েছে।
বর্তমান মজুত পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশে বর্তমানে ডিজেলের মজুত রয়েছে ১ লাখ ১৩ হাজার ৮৫ টন, অকটেন ৩১ হাজার ৮২১ টন, পেট্রোল ১৮ হাজার ২১ টন এবং ফার্নেস ওয়েল ৭৭ হাজার ৫৪৬ টন। এসব মজুত স্বাভাবিক সরবরাহ বজায় রাখতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার কাঠামো সম্পর্কে তিনি জানান, চট্টগ্রামে অবস্থিত ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল) দেশের একমাত্র সরকারি জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার। প্রতিবছর প্রায় ১৫ লাখ টন ক্রুড অয়েল পরিশোধন করে প্রতিষ্ঠানটি। তবে দেশের মোট জ্বালানি চাহিদার প্রায় ২০ শতাংশ এই রিফাইনারি থেকে সরবরাহ হয়, বাকি অংশ আমদানি করা পরিশোধিত তেলের মাধ্যমে পূরণ করা হয়।
তিনি আরও জানান, ইস্টার্ন রিফাইনারি বর্তমানে সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়নি। এর দুইটি ইউনিট এখনো চালু রয়েছে এবং আগামী মে মাসের প্রথম সপ্তাহে পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন শুরু করতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালীসহ মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের কিছু গুরুত্বপূর্ণ রুটে অস্থিরতার কারণে নির্ধারিত সময়ে কিছু ক্রুড অয়েল চালান দেশে আসতে পারেনি। সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আসা নির্ধারিত সিডিউলের কিছু চালান মার্চ ও এপ্রিল মাসে বিলম্বিত হয়েছে। তবে পূর্বের মজুতের কারণে দেশে জ্বালানি সরবরাহে কোনো বিঘ্ন ঘটেনি।
তিনি জানান, সৌদি আরবের ইয়াম্বু বন্দর থেকে একটি ক্রুড অয়েল জাহাজ রওনা দিয়েছে, যা লোহিত সাগর হয়ে বিকল্প রুটে চলতি এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে বা মে মাসের প্রথম দিকেই দেশে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর ফলে সরবরাহ পরিস্থিতি আরও স্থিতিশীল থাকবে।
এ সময় তিনি জনগণকে আশ্বস্ত করে বলেন, ইস্টার্ন রিফাইনারির কার্যক্রম সাময়িকভাবে আংশিকভাবে ব্যাহত হলেও দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব পড়বে না। কারণ আমদানিকৃত পরিশোধিত জ্বালানি তেল বর্তমানে পর্যাপ্ত পরিমাণে মজুত রয়েছে।
জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে মুখপাত্র জানান, সরকার এখনো এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। তিনি বলেন, জ্বালানি মূল্য নির্ধারণে সরকার জনগণের স্বার্থ ও সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নেয় এবং আপাতত দাম বৃদ্ধির বিষয়ে কোনো উদ্যোগ নেই।
মন্ত্রণালয়ের মতে, চলমান মজুত, আমদানি পরিকল্পনা এবং নজরদারি কার্যক্রমের সমন্বয়ের মাধ্যমে দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হচ্ছে।