বাংলাদেশ ডেস্ক
জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, নির্বাচনী ম্যানিফেস্টোতে সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের কল্যাণ ও উন্নয়নের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তিনি বলেন, শ্রমজীবী, কৃষক, দিনমজুরসহ বিভিন্ন পেশার মানুষের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে এবং আরও উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
বুধবার সকালে সংসদের অধিবেশনে পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য শিমুল বিশ্বাসের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি সরকারের চলমান সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন কর্মসূচির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, কৃষকদের সহায়তার জন্য ‘কৃষক কার্ড’ প্রদান কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রান্তিক পর্যায়ের নারী প্রধান পরিবারগুলোর অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা নিশ্চিত করতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্য রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, সরকার খাল খনন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে, যা কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি গ্রামীণ জীবিকা ও অবকাঠামো উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে শুধু কৃষকরাই নয়, গ্রামাঞ্চলের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপকৃত হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
প্রধানমন্ত্রী সংসদে জানান, নির্বাচনের আগে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। তিনি বলেন, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পরিবেশ সংরক্ষণে ভূমিকা রাখার পাশাপাশি বিভিন্নভাবে খেটে খাওয়া মানুষের কর্মসংস্থান ও আয় বৃদ্ধির সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে। বর্তমানে এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব ও প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্টদের সহায়তার প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমাজে মসজিদ-মাদ্রাসার খতিব, ইমাম, মুয়াজ্জিনসহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা জনগণকে দিকনির্দেশনা দিয়ে থাকেন। তাদের আর্থিক সহায়তা প্রদানের জন্য সরকার সম্মানী চালুর উদ্যোগ নিয়েছে এবং এ বিষয়ে কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
এ ছাড়া পেশাদার ক্রীড়াবিদ তৈরির লক্ষ্যে সরকারের উদ্যোগের কথাও সংসদে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, স্বল্প আয়ের বা শ্রমজীবী পরিবারের তরুণদের খেলাধুলায় অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি এবং তাদের পেশাদার খেলোয়াড় হিসেবে গড়ে তুলতে ‘ক্রিয়া কার্ড’ চালুর মাধ্যমে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, সরকারের নীতিগত লক্ষ্য হলো বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে উন্নয়ন প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত করা, যাতে তারা ধীরে ধীরে জীবনমান উন্নত করতে পারে। এ জন্য বিভিন্ন নীতি ও কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে এবং বাস্তবায়ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
সংসদের কার্যক্রম প্রসঙ্গে জানা যায়, সকাল ১১টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হয়। অধিবেশনের শুরুতেই নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নেন সংসদ সদস্যরা, যেখানে বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম ও নীতিগত বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।