সারাদেশ ডেস্ক
পাবলিক পরীক্ষার কারণে নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হওয়া রোধে দেশের প্রতিটি উপজেলায় একটি করে আধুনিক ‘মাল্টিপারপাস পরীক্ষা কেন্দ্র’ নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। বুধবার সকালে সিলেট নগরীর জালালাবাদ গ্যাস মিলনায়তনে সিলেট মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড আয়োজিত আসন্ন এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা–২০২৬ উপলক্ষে কেন্দ্র সচিবদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান।
মন্ত্রীর মতে, বর্তমান পরীক্ষা ব্যবস্থার কারণে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময় নষ্ট হচ্ছে, যা দেশের জনমিতিক সুবিধা (ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড) অর্জনের পথে একটি বড় প্রতিবন্ধকতা হিসেবে দেখা দিচ্ছে। তিনি বলেন, পরীক্ষাকেন্দ্র পৃথক ও আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন হলে একইসঙ্গে শিক্ষা কার্যক্রম ও পরীক্ষা কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে।
শিক্ষা খাতে সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন, মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার ধীরে ধীরে শিক্ষা খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়ার লক্ষ্যে কাজ করছে। তিনি জানান, অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন আরও বলেন, শিক্ষার মান পর্যবেক্ষণে দেশের প্রতিটি শ্রেণিকক্ষে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এ ব্যবস্থার মাধ্যমে পাঠদান কার্যক্রম মনিটর করা সম্ভব হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সিসি ক্যামেরা কোড ব্যবহার করে স্মার্টফোনের মাধ্যমে নিয়মিত তদারকির আহ্বান জানান।
শিক্ষক সংকট ও নিয়োগ প্রক্রিয়া প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, প্রাথমিক স্তরের ৩২ হাজার ৫০০ প্রধান শিক্ষক পদের মামলা সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনের কাজ চলমান রয়েছে। তিনি বলেন, খুব শিগগিরই প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ৬০ হাজার শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। পাশাপাশি অবসরপ্রাপ্ত অভিজ্ঞ শিক্ষকদের নিয়ে একটি ‘পুল’ গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যেখান থেকে শিক্ষক সংকট থাকা প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজন অনুযায়ী পার্ট-টাইম ভিত্তিতে তাদের নিয়োগ দেওয়া হবে।
নকল প্রতিরোধ বিষয়ে বক্তব্যে তিনি বলেন, বর্তমানে নকলের ধরনে পরিবর্তন এসেছে এবং ডিজিটাল মাধ্যমে নতুন ধরনের অনিয়ম দেখা দিচ্ছে। এ সমস্যা মোকাবিলায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীর পারস্পরিক দায়িত্বশীলতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। তার মতে, শ্রেণিকক্ষে কার্যকর পাঠদান নিশ্চিত করা গেলে নকল প্রবণতা কমে আসবে।
পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে শিক্ষকদের আরও আন্তরিক ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, মূল্যায়ন প্রক্রিয়া শিক্ষার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
এছাড়া তিনি জানান, সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত ১৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পুনর্নির্মাণের প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। কারিগরি ও নৈতিক শিক্ষার প্রসারেও সরকার কাজ করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করা গেলে বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ আরও বৃদ্ধি পাবে। তিনি সিলেট অঞ্চলের শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।
সিলেট শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. আনোয়ার হোসেন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় সিলেটের বিভিন্ন সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য, প্রশাসনিক কর্মকর্তাবৃন্দ, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতিনিধি এবং শিক্ষা বোর্ড ও মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় আসন্ন এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার প্রস্তুতি, কেন্দ্র ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং সুষ্ঠু পরীক্ষা গ্রহণ নিশ্চিত করার বিভিন্ন দিক নিয়ে কেন্দ্র সচিবদের সঙ্গে মতবিনিময় করা হয়।