খেলাধূলা ডেস্ক
উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের ফিরতি লেগে আজ বায়ার্ন মিউনিখের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে স্প্যানিশ ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদ। জার্মানির মিউনিখে অবস্থিত আলিয়াঞ্জ অ্যারেনায় অনুষ্ঠিতব্য এই ম্যাচে ২-১ গোলে পিছিয়ে থেকে মাঠে নামবে কার্লো আনচেলত্তির দল। সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে প্রথম লেগে হারের কারণে সেমিফাইনালে ওঠার পথ কিছুটা কঠিন হলেও রিয়াল মাদ্রিদের প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা দেখছেন ক্লাবটির সাবেক পর্তুগিজ তারকা লুইস ফিগো। তাঁর মতে, প্রথম লেগে পিছিয়ে থাকলেও চ্যাম্পিয়নস লিগে নিজেদের সমৃদ্ধ ইতিহাস এবং খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের কারণে রিয়াল মাদ্রিদের পক্ষে এই ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানো সম্পূর্ণ সম্ভব।
ইউরোপিয়ান ক্লাব ফুটবলে রিয়াল মাদ্রিদ এবং বায়ার্ন মিউনিখের লড়াইকে অন্যতম ধ্রুপদি দ্বৈরথ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। প্রথম লেগে নিজেদের মাঠে রিয়াল মাদ্রিদ পরাজিত হলেও প্রতিপক্ষ হিসেবে তাদের শক্তি সম্পর্কে পুরোপুরি সচেতন বায়ার্ন মিউনিখ শিবির। বায়ার্নের প্রধান কোচ ভিনসেন্ট কোম্পানি প্রথম লেগে জয়ের পরও নিজ দলকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। চ্যাম্পিয়নস লিগের মতো বড় মঞ্চে, বিশেষ করে রিয়াল মাদ্রিদের ঘুরে দাঁড়ানোর অতীত রেকর্ড বিবেচনায় নিয়ে কোনো ধরনের আত্মতুষ্টিতে ভুগতে রাজি নয় জার্মান ক্লাবটি। মিউনিখের ঘরের মাঠের সুবিধা থাকলেও রিয়াল মাদ্রিদ যেকোনো মুহূর্তে ম্যাচের রূপরেখা বদলে দিতে পারে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
নিজের খেলোয়াড়ি জীবনে বার্সেলোনা, রিয়াল মাদ্রিদ ও ইন্টার মিলানের হয়ে বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে মোট ১১টি ম্যাচ খেলেছেন লুইস ফিগো, যার মধ্যে ৯টিই ছিল চ্যাম্পিয়নস লিগের মঞ্চে। সেই অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি মনে করেন, বায়ার্ন মিউনিখ কৌশলগতভাবে অত্যন্ত কঠিন এবং শারীরিকভাবে শক্তিশালী এক প্রতিপক্ষ। ফিগোর মতে, এই ম্যাচে রিয়াল মাদ্রিদকে জয় পেতে হলে আক্রমণভাগে নিজেদের কার্যকারিতা বহুগুণ বাড়াতে হবে। প্রথম লেগে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র এবং কিলিয়ান এমবাপ্পের মতো তারকা ফরোয়ার্ডদের ফিনিশিংয়ে যে ঘাটতি পরিলক্ষিত হয়েছিল, ফিরতি লেগে তা কাটিয়ে ওঠা অত্যন্ত জরুরি। সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে পারলে এবং আক্রমণভাগে বোঝাপড়া বাড়াতে পারলে ইতিবাচক ফলাফল অর্জন করা সহজ হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
আক্রমণভাগের পাশাপাশি রক্ষণভাগ এবং মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণের ওপরও বিশেষভাবে জোর দিয়েছেন এই পর্তুগিজ কিংবদন্তি। তাঁর মতে, অ্যাওয়ে ম্যাচ হওয়ায় রিয়াল মাদ্রিদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে বায়ার্ন মিউনিখের আক্রমণাত্মক কৌশল সামলানো। প্রতিপক্ষকে চাপে রাখতে হলে ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল নিজেদের কাছে রাখতে হবে এবং রক্ষণভাগে কোনো ধরনের ভুল করা থেকে বিরত থাকতে হবে। বায়ার্ন মিউনিখ ঘরের মাঠে সাধারণত শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে থাকে, তাই রিয়াল মাদ্রিদকে প্রাথমিক চাপ সামলে নিজেদের স্বাভাবিক খেলায় ফিরতে হবে।
এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে নিষেধাজ্ঞার কারণে মাঠে নামতে পারবেন না রিয়াল মাদ্রিদের নিয়মিত মিডফিল্ডার অরেলিঁয়ে চুয়েমেনি। দলের রক্ষণাত্মক ভারসাম্য রক্ষায় ফরাসি এই তারকার অনুপস্থিতি একটি বড় ধাক্কা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে রিয়াল মাদ্রিদের স্কোয়াডের গভীরতা এবং বিকল্প খেলোয়াড়দের ওপর পূর্ণ আস্থা রাখছেন ফিগো। চুয়েমেনির অভাব পূরণে ইংলিশ মিডফিল্ডার জুড বেলিংহাম কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন বলে তিনি মনে করেন। প্রথম লেগে বদলি হিসেবে নেমে বেলিংহাম নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন। ম্যাচের গতিপথ পরিবর্তন করার ক্ষেত্রে বেলিংহামের মতো দূরদর্শী খেলোয়াড়ের শুরু থেকেই মাঠে থাকা প্রয়োজন বলে ফিগো মত প্রকাশ করেন।
অন্যদিকে, বায়ার্ন মিউনিখের ফরাসি ফরোয়ার্ড মাইকেল ওলিসের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন লুইস ফিগো। ওলিসেকে বর্তমান সময়ের অন্যতম সেরা প্রতিশ্রুতিশীল প্রতিভা হিসেবে আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারলে ভবিষ্যতে ব্যালন ডি’অরের অন্যতম দাবিদার হতে পারেন এই তরুণ। বায়ার্ন মিউনিখের মতো শীর্ষ ক্লাবে ওলিসে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করছেন। বিশ্বের যেকোনো বড় ক্লাবে, এমনকি রিয়াল মাদ্রিদের মতো দলেও খেলার মতো প্রযুক্তিগত সামর্থ্য তাঁর রয়েছে বলে ফিগো উল্লেখ করেন। সব মিলিয়ে আলিয়াঞ্জ অ্যারেনায় একটি জমজমাট এবং কৌশলগত লড়াইয়ের অপেক্ষায় রয়েছে ফুটবল বিশ্ব, যেখানে রিয়াল মাদ্রিদের অভিজ্ঞতা এবং বায়ার্ন মিউনিখের ঘরের মাঠের শক্তির এক চূড়ান্ত পরীক্ষা হতে যাচ্ছে।