আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছেন, ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনা ও সংঘাতের পরিস্থিতি খুব শিগগিরই শেষের দিকে পৌঁছাতে পারে বলে তিনি মনে করছেন। তিনি জানান, পরিস্থিতি এখন এমন পর্যায়ে রয়েছে যেখানে একটি সমাধানের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা-সংক্রান্ত আলোচনায় অগ্রগতি থাকলেও তা এখনো চূড়ান্ত কোনো সমঝোতায় পৌঁছায়নি। তবে বিদ্যমান যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে। তিনি বলেন, আলোচনার বর্তমান অবস্থা বিবেচনায় পরিস্থিতিকে তিনি “শেষের কাছাকাছি” হিসেবে দেখছেন।
এদিকে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংলাপের দ্বিতীয় দফা বৈঠক আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই অনুষ্ঠিত হতে পারে। সম্ভাব্য সময় হিসেবে চলতি সপ্তাহের শেষ অথবা আগামী সপ্তাহের শুরু উল্লেখ করা হচ্ছে। তবে এখনো পর্যন্ত বৈঠকের নির্দিষ্ট তারিখ ও স্থান চূড়ান্ত হয়নি।
পাকিস্তানে নিযুক্ত ইরানি দূতাবাসের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, দুই দেশের মধ্যে দ্বিতীয় দফা আলোচনা আয়োজনের বিষয়ে প্রাথমিক প্রস্তুতি চলছে এবং বিষয়টি প্রায় নিশ্চিত পর্যায়ে রয়েছে। একই সঙ্গে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মোহাম্মদ আসিফও জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি আলোচনা খুব শিগগিরই শুরু হতে পারে বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। তবে তিনি বৈঠকের সুনির্দিষ্ট সময় বা স্থান সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানাননি।
আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে বৈঠকের সম্ভাব্য স্থান নিয়ে বিভিন্ন ধরনের আলোচনা চলছে। একাধিক সূত্রের মতে, ইসলামাবাদ আলোচনার একটি সম্ভাব্য ভেন্যু হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। পাশাপাশি সুইজারল্যান্ডের জেনেভাকেও নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য স্থান হিসেবে বিবেচনায় রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে কিছু কূটনৈতিক পর্যবেক্ষক মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের বাইরে আঞ্চলিক ভারসাম্য রক্ষার স্বার্থে তুরস্ক অথবা মিশরও সম্ভাব্য আয়োজক দেশ হিসেবে আলোচনায় রয়েছে। তবে এখনো পর্যন্ত কোনো পক্ষই আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেনি।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান এই আলোচনা মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘদিনের উত্তেজনা প্রশমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সংঘাত পরিস্থিতিতে যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে, তা দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীলতার দিকে এগোবে কি না—তা নির্ভর করবে এই আলোচনার ফলাফলের ওপর।
কূটনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, দুই দেশের মধ্যে আস্থার সংকট এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। যদিও আলোচনার টেবিলে অগ্রগতি হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, তবে পারমাণবিক ইস্যু, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং নিষেধাজ্ঞা-সংক্রান্ত মতপার্থক্য এখনো পুরোপুরি সমাধান হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, যদি দ্বিতীয় দফা আলোচনা সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয় এবং উভয় পক্ষ ন্যূনতম সমঝোতায় পৌঁছাতে সক্ষম হয়, তাহলে তা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার, মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক ভারসাম্যে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে।
বর্তমানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই আলোচনার অগ্রগতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই বৈঠকের চূড়ান্ত সময় ও স্থান ঘোষণা করা হলে পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট হবে এবং আলোচনার ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারিত হতে পারে।