আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রকাশ্য সমালোচনার পরও যুদ্ধবিরোধী অবস্থান থেকে সরে না যাওয়ার কথা জানিয়েছেন ক্যাথলিক খ্রিষ্টানদের প্রধান ধর্মগুরু পোপ চতুর্দশ লিও। সোমবার (১৩ এপ্রিল) আফ্রিকা সফরের অংশ হিসেবে আলজেরিয়া যাওয়ার পথে বিমানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। ১০ দিনের এই সফরে তিনি আফ্রিকার চারটি দেশ পরিদর্শন করছেন।
বিমানে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পোপ লিও বলেন, তিনি বিশ্বজুড়ে চলমান সংঘাত ও যুদ্ধের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকবেন এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার পক্ষে কাজ চালিয়ে যাবেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, আন্তর্জাতিক সমস্যার সমাধানে সংলাপ, সহযোগিতা ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার বিকল্প নেই।
সম্প্রতি ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক অবস্থান নিয়ে প্রকাশ্যে উদ্বেগ জানান পোপ। গত শনিবার তিনি যুদ্ধ পরিস্থিতির সমালোচনা করে শান্তির আহ্বান জানান। এই অবস্থানের পরপরই ডনাল্ড ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে পোপের সমালোচনা করেন। ওই পোস্টে ট্রাম্প পোপকে অপরাধ মোকাবিলায় দুর্বল এবং পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে অযোগ্য হিসেবে অভিহিত করেন।
এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে পোপ লিও সরাসরি কোনো ব্যক্তিগত বিতর্কে জড়াতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, যিশুখ্রিষ্টের শিক্ষাকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা বা অপব্যবহার করা উচিত নয়। তার মতে, ধর্মীয় বার্তার মূল উদ্দেশ্য মানবকল্যাণ, শান্তি ও সহমর্মিতা প্রতিষ্ঠা করা।
পোপ আরও বলেন, বিশ্বজুড়ে চলমান সহিংসতা ও সংঘাতে সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, বহু নিরপরাধ মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে এবং অসংখ্য মানুষ দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে যুদ্ধ পরিহার করে বিকল্প সমাধানের পথ খোঁজার আহ্বান জানান।
সাংবাদিকদের সঙ্গে ইংরেজিতে কথা বলার সময় পোপ বলেন, “আমি যুদ্ধের বিরুদ্ধে জোরালোভাবে কথা বলেই যাব এবং শান্তি, আলোচনা ও দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধিতে কাজ করব, যাতে সমস্যার ন্যায্য সমাধান খুঁজে পাওয়া যায়।” তিনি আরও বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে কেউ না কেউ এগিয়ে এসে যুদ্ধের বিকল্প পথের কথা বলার প্রয়োজন রয়েছে।
পোপ লিও নিজেকে রাজনৈতিক ব্যক্তি হিসেবে দেখতে নারাজ বলেও জানান। তার মতে, গির্জার বার্তা এবং যিশুখ্রিষ্টের শিক্ষা মূলত শান্তি প্রতিষ্ঠা ও মানবতার কল্যাণে নিবেদিত। তিনি বলেন, যারা শান্তি প্রতিষ্ঠায় কাজ করেন, তারা আশীর্বাদপ্রাপ্ত—এটি খ্রিষ্টীয় শিক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।
বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে পোপের এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ধর্মীয় নেতৃত্বের ভূমিকা এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার আহ্বানকে আরও জোরালোভাবে সামনে নিয়ে এসেছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি এবং অভিবাসন ইস্যুতে আন্তর্জাতিক মতপার্থক্যের মধ্যে তার অবস্থান ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক আলোচনায় প্রভাব ফেলতে পারে।