জাতীয় ডেস্ক
২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে উচ্চ-মাধ্যমিক ও সমমান পর্যায়ে (একাদশ ও আলিম প্রথম বর্ষ) ভর্তিকৃত আর্থিকভাবে অসচ্ছল ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য এককালীন ৬ হাজার টাকা ভর্তি সহায়তা প্রদানের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের আওতায় এই সহায়তা দেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) স্মৃতি কর্মকার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আগামী ১২ এপ্রিল সকাল ৯টা থেকে অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন গ্রহণ শুরু হবে। আবেদন প্রক্রিয়া চলবে ৩০ এপ্রিল ২০২৬ রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর এবং মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীন দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একাদশ ও আলিম প্রথম বর্ষে ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীরা এ সহায়তার জন্য আবেদন করতে পারবেন। সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি অনলাইনভিত্তিক হওয়ায় নির্ধারিত ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে আবেদন সম্পন্ন করতে হবে।
আবেদনের যোগ্যতা হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে যে, শিক্ষার্থীদের পূর্ববর্তী শ্রেণিতে ন্যূনতম ৬০ শতাংশ নম্বর থাকতে হবে। জিপিএ পদ্ধতিতে উত্তীর্ণদের ক্ষেত্রে ন্যূনতম জিপিএ ৩.৫০ থাকতে হবে। একই সঙ্গে আবেদনকারীর অভিভাবকের বার্ষিক আয় ৩ লাখ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে হবে।
এছাড়া এতিম, প্রতিবন্ধী, বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান এবং সরকারি চাকরিজীবীদের ২০তম গ্রেডভুক্ত কর্মচারীদের সন্তানদের ক্ষেত্রে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এসব ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রমাণপত্র আবেদনের সঙ্গে আপলোড করতে হবে।
আবেদনের সময় কয়েকটি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংযুক্ত করা বাধ্যতামূলক। এর মধ্যে রয়েছে স্থানীয় জনপ্রতিনিধির কাছ থেকে প্রাপ্ত ‘হতদরিদ্র’ সনদ, সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানের প্রত্যয়নপত্র, শিক্ষার্থীর জন্মনিবন্ধন সনদ, পিতা-মাতার জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি এবং অনলাইন ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য। সব নথির স্পষ্ট স্ক্যান কপি আপলোড করতে হবে বলে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, যেহেতু আবেদন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ অনলাইনভিত্তিক, তাই কোনো ধরনের হার্ডকপি সরাসরি ট্রাস্টে জমা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। আবেদন জমা দেওয়ার পর একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি তা যাচাই-বাছাই করবে। যাচাই শেষে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের তালিকা চূড়ান্ত করা হবে এবং তাদের অনুকূলে নির্ধারিত অর্থ সরাসরি শিক্ষার্থী বা অভিভাবকের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।
সরকারের এই উদ্যোগের মাধ্যমে নিম্নআয়ের পরিবারের মেধাবী শিক্ষার্থীদের উচ্চ-মাধ্যমিক পর্যায়ে ভর্তির প্রাথমিক ব্যয়ভার বহনে সহায়তা পাওয়া সহজ হবে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে গ্রামীণ ও প্রান্তিক অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য এ সহায়তা শিক্ষাজীবন অব্যাহত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সহায়তা সংক্রান্ত যেকোনো তথ্য জানতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হেল্পলাইন নম্বরে যোগাযোগ করা যাবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।