ক্রীড়া ডেস্ক
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সরকার বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নির্বাচনে অনিয়ম ও অস্বচ্ছতার অভিযোগ সম্পর্কিত তদন্ত প্রতিবেদন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলকে (আইসিসি) অবহিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রোববার (৫ এপ্রিল) বিকেলে বঙ্গবন্ধু ক্রীড়া সংসদ পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, আইসিসির সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনার পর পরবর্তী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।
এর আগে দুপুরে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে (এনএসসি) ছয়টি খণ্ডে বিভক্ত এক হাজার পৃষ্ঠারও বেশি দীর্ঘ তদন্ত প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট কমিটি জমা দেয়। প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রতিবেদনটি নিয়ে ইতিমধ্যেই একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং বিশ্বের ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে বিষয়টি জানানো সরকারের অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
গত বছরের ৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত বিসিবির সর্বশেষ নির্বাচনে জেলা ও বিভাগের কাউন্সিলর মনোনয়ন এবং ক্লাব ক্যাটাগরির নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠে। ওই সময় নির্বাচনে অংশগ্রহণের কিছু পক্ষ বর্জন করে এবং সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ তোলা হয়। তদন্ত কমিটি আসিফ মাহমুদকে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য ডাকলেও তিনি উপস্থিত হননি।
আসিফ মাহমুদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন, বিষয়টি উচ্চ আদালতে বিচারাধীন এবং বিসিবির স্বায়ত্তশাসন লঙ্ঘনের সঙ্গে সম্পর্কিত ‘এখতিয়ার-বহির্ভূত’ কাজে অংশ না নিতেই তিনি কমিটির সঙ্গে মুখোমুখি হননি। এই প্রসঙ্গে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, আসিফ মাহমুদের অনুপস্থিতির বিষয়টি তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে এবং আইসিসির সঙ্গে আলোচনা করে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করা হবে।
প্রসঙ্গত, আসিফ মাহমুদ আরও অভিযোগ করেছেন যে, বিসিবির পরিচালকদের পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হচ্ছে। তার দাবি অনুযায়ী, পরবর্তী বোর্ডে রাখা হবে বা ভয়ভীতি প্রদর্শন করে পরিচালকদের পদত্যাগে প্ররোচনা দেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, তিনি এ সম্পর্কে কিছুই জানেন না। তিনি আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক সময় সত্য ও মিথ্যার সংমিশ্রণ থাকে এবং আসিফ মাহমুদের দাবির সত্যতা যাচাই সাংবাদিকদের দায়িত্ব।
তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর কমিটির প্রধান, সাবেক বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান, সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, তারা দীর্ঘ সময় ধরে সব তথ্য-প্রমাণ ও সাক্ষাৎকার বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদন তৈরি করেছেন। তবে বিসিবির গঠনতন্ত্র সংশোধন বা ভবিষ্যতের নির্বাচন পদ্ধতি সম্পর্কিত বিস্তারিত মন্তব্য এখনই প্রদান করেননি।
এই তদন্ত এবং সরকারের উদ্যোগ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের স্বচ্ছতা ও সুশাসন নিশ্চিত করার পাশাপাশি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।