নিজস্ব প্রতিবেদক
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু জানিয়েছেন, বন্যা ও ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব মোকাবিলায় দেশের বন্যাপ্রবণ ৪৩টি জেলার ২৫৮টি উপজেলায় ইতোমধ্যেই ৩২০টি বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে এবং আরও ১২৮টি কেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। মন্ত্রী এই তথ্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবদুল মান্নানের লিখিত প্রশ্নের জবাবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ অধিবেশনের প্রথম অধিবেশনে দিয়েছেন।
মন্ত্রী জানান, প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাসের লক্ষ্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বন্যা ও ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলার পাশাপাশি উপকূলীয় ও ঝড়প্রবণ এলাকায় ৯০টি বহুমুখী ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে। এছাড়া সারা দেশে ১১৫টি দুর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্র ইতোমধ্যেই নির্মাণ করা হয়েছে এবং আরও ১২২টি কেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
দুর্যোগকালীন সময়ে দ্রুত এবং নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত করার জন্য দেশব্যাপী ১২ হাজার ২৪৫টি সেতু ও কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে আরও ২ হাজার ৩৬টি সেতু ও কালভার্ট নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ৬ হাজার ৭৮৮ কিলোমিটার এইচবিবি রাস্তা নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে এবং আরও ১ হাজার কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণ করা হবে।
মন্ত্রী জানান, দেশের ১২টি জেলার ৩৫টি উপজেলায় দুর্যোগকালীন জরুরি উদ্ধার কার্যক্রমে ব্যবহারের জন্য টেলিকমিউনিকেশন ইকুইপমেন্ট, ফায়ার ফাইটিং ইকুইপমেন্ট, রেডিও সেট, ১২টি রেসকিউ বোট এবং ৪১৩টি শ্যালো ওয়াটার রিসার্চ বোট ক্রয় করা হবে।
এছাড়া ভূমিকম্প ঝুঁকি মোকাবিলার জন্য ১১টি এরিয়াল প্ল্যাটফর্ম ল্যাডার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সকে সরবরাহ করা হয়েছে। তিনটি ফর্কলিফ্ট, ২০ টনের তিনটি ডোজার ও ৪৮ টনের তিনটি ডোজার আমর্ড ফোর্সেস ডিভিশনকে দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয় আরও বিভিন্ন অগ্নিনির্বাপক সরঞ্জাম, তাবু, এয়ার বোট, স্পিড বোট, ইমার্জেন্সি রেসপন্স ভেহিক্যাল, সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ ইকুইপমেন্ট, টেলিযোগাযোগসহ অন্যান্য সরঞ্জামাদি ক্রয় করে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, আর্মড ফোর্সেস ডিভিশন, বাংলাদেশ নৌবাহিনী, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশে বিতরণ করবে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী এ প্রকল্পগুলোর মাধ্যমে প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় জনগণের সুরক্ষা নিশ্চিত এবং জরুরি উদ্ধার কার্যক্রম দ্রুততর করার দিকে গুরুত্বারোপ করেছেন। পরিকল্পিত এই কার্যক্রমগুলি দেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রতিরোধ ও তাত্ক্ষণিক সহায়তা ব্যবস্থার সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে।