স্বাস্থ্য ডেস্ক
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সারদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল জানিয়েছেন, দেশে হামের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধির কারণে আগামী ৩ মে থেকে সারাদেশে বিশেষ হামের টিকাদান কর্মসূচি শুরু হবে। এর আগে, আগামী রবিবার থেকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ দুই সিটি করপোরেশন ও দুই জেলায় এই কার্যক্রম শুরু হবে।
রবিবার ঢাকার নবাবগঞ্জে হামের টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এবং ময়মনসিংহ ও বরিশাল জেলায় টিকাদান কার্যক্রম প্রাথমিকভাবে চালু হবে। পরবর্তী সময়ে এটি ধাপে ধাপে সারাদেশে সম্প্রসারণ করা হবে।
তিনি আরও জানান, ৩ মে থেকে বাকি জেলা ও উপজেলার শিশুরাও টিকার আওতায় আসবে, যাতে কোনো শিশু ঝুঁকিতে না থাকে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশে হামের প্রাদুর্ভাব বর্তমানে এমন একটি পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা করোনাভাইরাসের মহামারির চেয়ে কম উদ্বেগজনক নয়। এজন্য জরুরি ভিত্তিতে কার্যক্রম গ্রহণ করা হচ্ছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, শিশুদের মধ্যে হামের সংক্রমণ দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকারের পক্ষ থেকে জরুরি হামের টিকাদান কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লক্ষ্যমাত্রাভুক্ত সব শিশুকে টিকার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
উল্লেখ্য, হাম একটি সংক্রামক রোগ যা প্রধানত শিশুদের মধ্যে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি সৃষ্টি করে। টিকাদানের মাধ্যমে এর সংক্রমণ প্রতিরোধ করা সম্ভব। দেশের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ইতোমধ্যেই স্থানীয় স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে শুরু করেছে।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি চলাকালীন সময়ে পর্যবেক্ষণ ও সরঞ্জাম সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে। স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীরা স্কুল, কমিউনিটি ক্লিনিক এবং সাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে শিশুদের টিকা প্রদান করবেন।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, গত কিছু মাসে শিশুদের মধ্যে হামের সংক্রমণ হ্রাস না পাওয়ায় এবং কিছু অঞ্চলে হঠাৎ আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সরকারের উদ্দেশ্য, সমস্ত শিশু যথাসময়ে টিকার আওতায় আসুক এবং হামের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হোক।