1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:১৭ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
সিদ্ধিরগঞ্জে কাভার্ড ভ্যানের চাপায় অজ্ঞাতপরিচয় নারীর মৃত্যু চলতি অর্থবছর থেকেই কার্যকর হচ্ছে সরকারি কর্মচারীদের নতুন পে স্কেল ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ার লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার: মাহদী আমিন প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের আগে সহায়ক পরিবেশ ও প্রত্যর্পণ চুক্তির বাস্তবায়নের আহ্বান ঢাকার রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: মির্জা ফখরুল ও অলি আহমদের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা ইসির অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক টেস্ট জয়, চার সেশন হাতে রেখে ৯ উইকেটে পরাজিত স্বাগতিকরা অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ঐতিহাসিক টেস্ট জয়ে জাতীয় দলকে প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন জাতীয় মৎস্যপক্ষ উদ্বোধন ও একাধিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে যোগ দিতে কিশোরগঞ্জে প্রধানমন্ত্রী অভিনেত্রী রিধির মরদেহ উদ্ধার: আত্মহত্যা প্ররোচনার মামলায় প্রেমিক গ্রেপ্তার উপসাগরীয় ছয় দেশ ও যুদ্ধজাহাজ পরিদর্শন করলেন সেন্টকম প্রধান ব্র্যাড কুপার

মেহেরপুরে শিশু ধর্ষণের মামলায় যুবকের মৃত্যুদণ্ড, ২৯ কার্যদিবসে ঐতিহাসিক রায়

রিপোর্টার
  • আপডেট : রবিবার, ২৪ মে, ২০২৬
  • ৪৮ বার দেখা হয়েছে

আইন আদালত ডেস্ক

মেহেরপুরে এগারো বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের মামলায় শাকিল হোসেন (২৫) নামের এক যুবককে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে তিন লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। আজ রবিবার দুপুর দেড়টার দিকে মেহেরপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের (জেলা শিশু সহিংসতা দমন আদালত) বিচারক মো. তাজুল ইসলাম জনাকীর্ণ আদালতে এই রায় ঘোষণা করেন। দেশের বিচারিক ইতিহাসে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের কোনো মামলায় মাত্র ২৯ কার্যদিবসের মধ্যে বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ করে রায় প্রদানের ঘটনা এটিই প্রথম বলে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা জানিয়েছেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত শাকিল হোসেন মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার চাঁদপুর গ্রামের আব্দাল হাসানের ছেলে। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে কঠোর নিরাপত্তা প্রহরায় তাকে মেহেরপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

মামলার বিবরণ ও এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ১৬ জুন গাংনী উপজেলার চাঁদপুর গ্রামের পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ুয়া ওই শিশুটি দুপুরের দিকে মাঠে কর্মরত তার বাবাকে খাবার দিতে যাচ্ছিল। পথে একই গ্রামের শাকিল হোসেন দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে শিশুটিকে জোরপূর্বক পাশের একটি পাটখেতে নিয়ে যান এবং সেখানে তাকে ধর্ষণ করেন। ঘটনার পর শিশুটি বাড়িতে ফিরে পরিবারকে বিষয়টি অবহিত করলে তার বাবা ইছানুল হক বাদী হয়ে গাংনী থানায় শাকিল হোসেনকে একমাত্র আসামি করে একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। মামলার পর গাংনী থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে দ্রুততম সময়ে আসামিকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করে। পরবর্তীতে পুলিশ তদন্ত শেষে আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করে।

আদালত সূত্র জানায়, মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য রাষ্ট্রপক্ষ ও আদালত বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেন। বিচারিক প্রক্রিয়া শুরুর পর মাত্র ২৯ কার্যদিবসের মধ্যে মামলার ১১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন করা হয়। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে কয়েকজন সাক্ষীর সাক্ষ্য ভার্চুয়ালি ভিডিও কলের মাধ্যমে এবং বাকিদের সশরীরে আদালতে উপস্থিত করে রেকর্ড করা হয়। সাক্ষ্য-প্রমাণ ও উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত আজ এই চূড়ান্ত রায় প্রদান করেন।

আদালতের এই ঐতিহাসিক রায়ের বিষয়ে মেহেরপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান তুহিন সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “রাষ্ট্রপক্ষ অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে মামলাটি পরিচালনা করেছে। ডিজিটাল ও প্রত্যক্ষ সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে বিজ্ঞ আদালত আসামির অপরাধের সত্যতা পেয়ে দৃষ্টান্তমূলক এই শাস্তি দিয়েছেন। মাত্র ২৯ কার্যদিবসে রায় ঘোষণার মাধ্যমে দেশে দ্রুত বিচার নিশ্চিতের ক্ষেত্রে একটি নতুন নজির সৃষ্টি হলো।” মামলাটিতে রাষ্ট্রপক্ষে তাকে সহযোগিতা করেন সংশ্লিষ্ট সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটরগণ।

এদিকে রায়ের প্রতিক্রিয়ায় ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা ইছানুল হক সাংবাদিকদের জানান, তারা দ্রুততম সময়ে এই বিচার পেয়ে আদালতের প্রতি কৃতজ্ঞ। এই রায়ের মাধ্যমে সমাজে এ ধরনের জঘন্য অপরাধের প্রবণতা হ্রাস পাবে এবং অপরাধীরা ভীতি ও সতর্কতার মধ্যে থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

অন্যদিকে, আসামি পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মারুফ আহমেদ বিজন রায়ের পর সাংবাদিকদের জানান, তারা এই রায়ে সংক্ষুব্ধ এবং ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। রায়ের অনুলিপি পাওয়ার পর উচ্চ আদালতে (হাইকোর্ট) আপিল করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উচ্চ আদালতে আসামির খালাস পাওয়ার সুযোগ রয়েছে বলে আসামি পক্ষ আশাবাদী।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026