স্বাস্থ্য ডেস্ক
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম এবং হামের উপসর্গে আরও ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে চারজন নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত ছিলেন এবং অবশিষ্ট সাতজনের শরীরে এই রোগের উপসর্গ বিদ্যমান ছিল। আজ রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে নতুন করে ১ হাজার ৫০৩ জন সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ২০৫ জনের শরীরে ল্যাবরেটরি পরীক্ষার মাধ্যমে হামের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে। গত ১৫ মার্চ থেকে ১০ মে পর্যন্ত দেশে সন্দেহজনক হাম রোগীর মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৯ হাজার ১৫৯ জনে। এর মধ্যে এ পর্যন্ত মোট নিশ্চিত আক্রান্তের সংখ্যা ৬ হাজার ৮১৯ জন।
বিভাগীয় পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আক্রান্তের সংখ্যার দিক থেকে ঢাকা বিভাগ শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে ৫৯২ জন শিশু আক্রান্ত হয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ২৩৭ জন, রাজশাহী বিভাগে ১৮৩ জন, বরিশাল বিভাগে ১৭৬ জন, সিলেট বিভাগে ১২৪ জন, খুলনা বিভাগে ১০৭ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৬৩ জন এবং রংপুর বিভাগে ২১ জন শিশু আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সামগ্রিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ২২ হাজার ২০৪ জন সন্দেহজনক রোগী শনাক্ত হয়েছে, যার মধ্যে ৪ হাজার ৬২৪ জন নিশ্চিত আক্রান্ত।
হাসপাতালে ভর্তির চিত্রে দেখা গেছে, গত ১৫ মার্চ থেকে ১০ মে পর্যন্ত দেশে মোট ৩৪ হাজার ৯০৯ জন সন্দেহজনক হাম রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৩০ হাজার ৮৬২ জন। তবে মৃত্যুর হার নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। সরকারি তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় চারজনসহ এ পর্যন্ত ল্যাব নিশ্চিত হামে মোট ৬৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে, হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় সাতজনসহ এখন পর্যন্ত সর্বমোট ৩৪৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ যা মূলত শিশুদের আক্রান্ত করে। সময়মতো টিকা না নেওয়া এবং পুষ্টিহীনতার কারণে জটিলতা বৃদ্ধির আশঙ্কা থাকে। বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আক্রান্তের হার বৃদ্ধি পাওয়ায় টিকাদান কর্মসূচি জোরদার এবং আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন জনস্বাস্থ্যবিদরা। একই সঙ্গে আক্রান্ত শিশুদের আলাদা রাখা এবং ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।