স্বাস্থ্য ডেস্ক
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে পাঁচজন উপসর্গ নিয়ে এবং একজন নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। একই সময়ে সারা দেশে নতুন করে আরও ১ হাজার ৫১৭ জন এই রোগে আক্রান্ত হয়েছে। আজ রোববার (১৭ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।
চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে শুরু করে আজ ১৭ মে সকাল ৮টা পর্যন্ত গত দুই মাসের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৪৫৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মৃতদের মধ্যে ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় নিশ্চিতভাবে হাম ধরা পড়েছিল ৭৫ জনের শরীরে। বাকি ৩৮৪ শিশু মারা গেছে হামের তীব্র উপসর্গ নিয়ে।
একই দুই মাসের ব্যবধানে সারা দেশে সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় নিশ্চিতভাবে হাম আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে ৭ হাজার ৭৬৭ জন। এর পাশাপাশি হামের লক্ষণ বা উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিতে এসেছে আরও ৫৭ হাজার ৮৪৬ জন। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আক্রান্তের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেশে হামের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে, যা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা জরুরি।
আঞ্চলিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যার দিক থেকে ঢাকা বিভাগ সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। গত দুই মাসে মোট মৃত্যুর প্রায় অর্ধেকই ঘটেছে এই বিভাগে। ঢাকা বিভাগে এখন পর্যন্ত হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে ২০০ শিশু প্রাণ হারিয়েছে। এছাড়া এই সময়ে বিভাগে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩১ হাজার ৫৬৫ জনে, যা সারা দেশের মোট আক্রান্তের অর্ধেকেরও বেশি।
চিকিৎসকদের মতে, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা প্রধানত শিশুদের শ্বাসতন্ত্রকে আক্রমণ করে। সঠিক সময়ে টিকা না নেওয়া এবং পুষ্টির অভাব শিশুদের এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মাঠ পর্যায়ে টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা এবং আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত আইসোলেশন ও সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।