স্বাস্থ্য ডেস্ক
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে একজন নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে এবং বাকি ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে হামের উপসর্গ নিয়ে। বুধবার (১৩ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে পাঠানো এক নিয়মিত বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৪৩২ জন প্রাণ হারিয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় এই ৮টি মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। চলতি বছরের মার্চ মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে দেশে হামের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। অধিদপ্তরের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে ১৩ মে পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে হাম রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৬৯ জন। অন্যদিকে, একই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে বা সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন ৩৬৩ জন। সব মিলিয়ে এই সময়কালে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৩২ জনে।
সংক্রমণের হার পর্যালোচনায় দেখা যায়, সারা দেশে হাম আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, এ পর্যন্ত সারা দেশে ল্যাবরেটরিতে নিশ্চিত হওয়া হাম আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৭ হাজার ১৫০ জন। তবে উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন বা সন্দেহজনক হাম আক্রান্তের সংখ্যা এর চেয়ে কয়েক গুণ বেশি। বর্তমানে সারা দেশে সন্দেহজনক হাম আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৫৩ হাজার ৫৬ জন। আক্রান্তদের মধ্যে বড় একটি অংশই শিশু, যারা অপুষ্টি বা নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির বাইরে থাকার কারণে অধিক ঝুঁকির মুখে রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে ভাইরাসজনিত রোগ যা মূলত শ্বাসতন্ত্রের মাধ্যমে ছড়ায়। আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশির মাধ্যমে এই ভাইরাস বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে এবং আশপাশের ব্যক্তিদের সংক্রমিত করে। শিশুদের ক্ষেত্রে এই রোগ বেশি ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে। সময়মতো চিকিৎসা ও সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাব হলে হাম থেকে নিউমোনিয়া, মস্তিস্কে প্রদাহ বা তীব্র ডায়রিয়ার মতো জটিলতা তৈরি হয়, যা শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মাঠ পর্যায়ে টিকাদান কর্মসূচি জোরদার এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেছে। বিশেষ করে যে সব এলাকায় আক্রান্তের সংখ্যা বেশি, সেখানে বিশেষ পর্যবেক্ষণ টিম কাজ করছে। চিকিৎসকরা পরামর্শ দিচ্ছেন, শিশুর শরীরে জ্বর ও র্যাশ বা লালচে দানা দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করতে হবে। একইসঙ্গে নিয়মিত সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) আওতায় শিশুদের যথাসময়ে হাম ও রুবেলার (এমআর) টিকা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আক্রান্তদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে দেশের সব সরকারি হাসপাতালে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বিশেষ করে গ্রামীণ ও দুর্গম এলাকাগুলোতে শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কর্মীদের নিয়মিত তদারকি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন অনুসরণ করে পরিস্থিতি মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করছে স্বাস্থ্য বিভাগ।